ঢাকা, বুধবার, ৫ আগস্ট, ২০২০, ২১ শ্রাবণ, ১৪২৭

ঢাকায় পশু জবাইয়ের স্থান কমে অর্ধেক

দূষণ এড়াতে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন পশু জবাইয়ের স্থান নির্ধারণ করে দেওয়া হয় প্রতি বছরই, তবে তাতে সাড়া মেলে না খুব একটা। অনেক এলাকায় রাস্তার ওপরই পশু জবাই করতে দেখা যায়। দূষণ এড়াতে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন পশু জবাইয়ের স্থান নির্ধারণ করে দেওয়া হয় প্রতি বছরই, তবে তাতে সাড়া মেলে না খুব একটা। অনেক এলাকায় রাস্তার ওপরই পশু জবাই করতে দেখা যায়। ঢাকায় নির্দিষ্ট স্থানে পশু জবাই উৎসাহিত করতে গতবছর মহাখালীর পশু জবাইখানায় জবাই ও মাংস প্রস্তুত বাবদ ২৫ শতাংশ খরচ সিটি করপোরেশন বহন করবে বলে ঘোষণা দেয়া হয়েছিল। তারপরও আশানুরূপ সাড়া পায়নি নগর কর্তৃপক্ষ। ঢাকায় নির্দিষ্ট স্থানে পশু জবাই উৎসাহিত করতে গতবছর মহাখালীর পশু জবাইখানায় জবাই ও মাংস প্রস্তুত বাবদ ২৫ শতাংশ খরচ সিটি করপোরেশন বহন করবে বলে ঘোষণা দেয়া হয়েছিল। তারপরও আশানুরূপ সাড়া পায়নি নগর কর্তৃপক্ষ। মহামারীর মধ্যে এবার কোরবানির ঈদে রাজধানীতে পশু জবাইয়ের জন্য ৩২৯টি স্থান নির্ধারণ করে দিয়েছে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন, যা গত বছরের তুলনায় অর্ধেকেরও কম। গত বছর দুই সিটি মিলিয়ে ৭৭৫টি স্থান নির্ধারণ করা হয়েছিল কোরবানির পশু জবাইয়ের জন্য। এবার তার চেয়ে ৪৪৬টি কমেছে। ঢাকা দক্ষিণ সিটি (ডিএসসিসি) এলাকার ৭৫টি ওয়ার্ডের প্রত্যেকটিতে একটি করে এবং উত্তরের (ডিএনসিসি) ৫২টি ওয়ার্ডের ২৫৪টি স্থানে কোরবানির পশু জবাইয়ের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে এবার। ডিএনসিসির ২১ ও ২২ নম্বর ওয়ার্ডে কোরবানির পশু জবাইয়ের কোনো স্থান এখনও নির্ধারণ হয়নি। গতবছর কোরবানির ঈদে ডিএসসিসি এলাকায় ৫০২টি এবং ডিএনসিসি এলাকায় ২৭৩টি স্থান নির্ধারণ করা হয়েছিল পশু জবাইয়ের জন্য। অর্থাৎ দক্ষিণেই নির্ধারিত স্থান কমেছে চারশর বেশি। এর কারণ জানতে চাইলে ডিএসসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শাহ মো. ইমদাদুল হক বলেন, গতবারের অভিজ্ঞতা হল আমাদের নির্ধারিত জায়গায় কেউ আসে না কোরবানি করতে। শুধু শুধু লাখ লাখ টাকা খরচ হয়। আমাদের নাগরিকরা এখনও এ বিষয়ে সচেতন না। এজন্য এবার কমিয়ে আনা হয়েছে। কাউন্সিলররা বলছিলেন, কোনো স্থান নির্ধারণের দরকারই নেই। পরে আমাদের বোর্ড মিটিংয়ে বলা হয়েছে কিছু জায়গা রাখার জন্য। এজন্য ৭৫টি ওয়ার্ডে একটি করে জায়গা নির্ধারণ করেছি। ঢাকা দক্ষিণ সিটির এলাকায় ২৫৪টি পশু জবাইয়ের স্থানের পাশাপাশি মোহাম্মদপুরের বছিলায় ২ হাজার গরু কোরবানি দিতে একটি জায়গা নির্ধারণ করা হয়েছে বলে জানান মেয়র মো. আতিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, সেখানে ঈদের দিন ৪০০, ঈদের পর দিন ১ হাজার এবং তারপর দিন ৬০০ গরু কোরবানি দেয়া যাবে। স্বাস্থ্য বিধি মেনে কোরবানির পশু জবাই ও মাংস প্রক্রিয়া করা হবে। এটা এবারের ঈদে আমাদের সবচেয়ে বড় বিশেষত্ব। এটা এর আগে কোথাও হয়নি। আমাদের ডিজিটাল হাট প্ল্যাটফর্মের জন্য এটা করা হয়েছিল। কিন্তু আপনি যদি ডিজিটাল হাট থেকে গরু নাও কেনেন, তাহলেও আপনি সেখানে গরু জবাই করতে পারবেন। এজন্য অনলাইনে যোগাযোগ করতে হবে। মেয়র বলেন, কোরবানির মাংস দুস্থদের মধ্যে বিতরণ করার ব্যবস্থাও সেখানে রাখা হচ্ছে। সেজন্য কয়েকটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সঙ্গে কথা বলে রেখেছে সিটি করপোরেশন। শনিবার বাংলাদেশের মানুষ কোরবানির ঈদ উদযাপন করবে। ঢাকা উত্তর সিটি কর্তৃপক্ষ ইতোমধ্যে কোরবানির পশু জবাইয়ের নির্ধারিত স্থানগুলোর একটি তালিকা প্রকাশ করা হলেও দক্ষিণ সিটির কোন ওয়ার্ডে কোথায় সেই ব্যবস্থা হবে তা এখনও চূড়ান্ত করা হয়নি।