ঢাকা, মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট, ২০২০, ২৭ শ্রাবণ, ১৪২৭

হাঁচি দিলেও আইএস দায় স্বীকার করে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

রাজধানীর পল্লবী থানায় বোমা বিস্ফোরণের ঘটনায় আন্তর্জাতিক জঙ্গিগোষ্ঠী ইসলামিক স্টেটের (আইএস) দায় স্বীকারকে নিছক ঘটনা মনে করছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, একটা হাঁচি দিলেও আইএস দায় স্বীকার করে। এগুলো কোন আইএস টাইএস না।

২৯ জুলাই  বুধবার  রাতে নবচেতনা অনলাইনের সঙ্গে একান্ত আলাপে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী একথা বলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, একটা হাঁচি দিলেও আইএস দায় স্বীকার করে। এগুলো কোন আইএস টাইএস না। আইএস কি দল বেঁধে ডাকাতি করতে যায়? যারা গ্রেফতার হয়েছে, তারা আসলে ডাকাতি করতে রেডি হচ্ছিলো। আইএস টাইএস না। সুযোগ পাইলেই তারা এসব কৃতিত্ব নেওয়ার চেষ্টা কছেন। আগেও করত এখনো করছে। আমাদের দেশে কিছু হলেই তারা এসব করে।

এদিকে, আজ ভোরে পল্লবী থানার ভেতরে সন্ত্রাসীদের ওজন মাপার মেশিন বিস্ফোরিত হওয়ার ঘটনার দায় স্বীকার করেছে আন্তর্জাতিক জঙ্গিগোষ্ঠী ইসলামিক স্টেট (আইএস)। বিশ্বব্যাপী সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর কার্যক্রম প্রচারকারী সংস্থা সাইট ইন্টেলিজেন্স ২৯ জুলাই বুধবার রাতে এক টুইট বার্তায় এ তথ্য জানিয়েছে।

সাইট ইন্টেলিজেন্স জানায়, ঢাকার পল্লবী থানায় বোমা বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে আন্তর্জাতিক জঙ্গিগোষ্ঠী ইসলামিক স্টেট (আইএস)।

সাইট ইনটেলিজেন্স গ্রুপের পরিচালক রিটা কাটজ এক টুইট বার্তায় জানিয়েছেন, বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায় পুলিশের একটি দপ্তরে হামলার দায় স্বীকার করেছে আইএস। ২০১৯ সালের আগস্টের পর রাজধানী ঢাকায় আইএসের এটাই প্রথম হামলা বলে জানায় রিটা।

রিটা বলেছেন, কোরবানীর ঈদের আগে নতুন লড়াইয়ের অংশ হিসাবে ঢাকায় এই হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি করছে আইএস।

দেশজুড়ে জঙ্গি সংগঠন আইএসের আদলে গঠিত নব্য জেএমবির সদস্যরা হত্যাকাণ্ড, নাশকতা ও ধ্বংসাত্মকমূলক কর্মকাণ্ড করতে পারে। এ জন্য পুলিশের সব ইউনিটকে সতর্কের পাশাপাশি দেশজুড়ে কড়া নিরাপত্তার নির্দেশ দিয়েছিল পুলিশ সদরদপ্তর। চিঠিতে থানাগুলোতে বাড়তি নিরাপত্তা বাড়াতে বলা হয়। পাশাপাশি পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটসহ জঙ্গিসংশ্লিষ্ট ইউনিটগুলোকে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিতে বলা হয়েছিল। এই চিঠির চারদিনের মাথায় থানায় বোমা বিষ্ফোরণের ঘটনা ঘটলো।

এদিকে থানায় বোমা বিষ্ফোরণে আহত পাঁচজনের মধ্যে রয়েছে- পরিদর্শক ইমরান, উপ পরিদর্শক (এসআই) সজিব, পিএসআই অংকুর, পিএসআই রোমিও এবং রিয়াজ।

পুলিশ বলছে, মিরপুর এলাকার একজন রাজনৈতিক নেতাকে খুন করার জন্য কয়েকজনকে ভাড়া করা হয়েছে। এমন খবরে পুলিশ তাদের ধরতে কয়েকদিন নজরদারি চালিয়ে যাচ্ছিলো। আজ ভোরে এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়। তাদের কাছ থেকে অস্ত্র ও কিছু মালামাল জব্দ করা হয়। সেগুলো থানায় নিয়ে আসা হয় এবং ওসি অপারেশনের কক্ষে রাখা হয়। সেখানে বিষ্ফোরক কিছু থাকতে পারে এমন সন্দেহে বিশেষজ্ঞ দলকে তলব করা হলেও তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই সেটি বিষ্ফোরিত হয়। ঘটনাস্থলে থানা পুলিশের চারজন সদস্য ও একজন সাধারণ মানুষ আহত হন।

ঘটনাস্থল পরিদর্শনে এসে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) কৃষ্ণপদ রায়।
তিনি বলেন, গ্রেফতার কারো জঙ্গি সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়নি। তবে তারা মিরপুরের স্থানীয় সন্ত্রাসী।