ঢাকা, রবিবার, ২০শে জুন, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ৬ই আষাঢ়, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

সাদা পোশাকে রঙ ছড়ানোর অপেক্ষায় বাংলাদেশ

তার উপস্থিতি থাকুক আর নাই থাকুক তাকে নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে অবধারিতভাবে একটা প্রশ্ন আসবে। দলের প্রতিনিধি হয়ে যেই আসুক, মাইক্রোফোনের সামনে হাসিমুখে কথা বলতেই হয়।

মঙ্গলবার পাল্লেকেলের সংবাদ সম্মেলনে মুমিনুল হককে শ্রীলঙ্কার সাংবাদিকের জিজ্ঞাসা, সাকিবের অনুপস্থিতি কিভাবে পূরণ করবেন? বাংলাদেশের টেস্ট অধিনায়ক হাসিমুখেই জবাব দিলেন, ‘সাকিব বিশ্বের এক নম্বর অলরাউন্ডার। তিনি দলে না থাকলে কম্বিনেশন নিয়ে কিছুটা সংগ্রাম করতে হয়। তবে দলে যেই আছে, সবার ভালো করার সামর্থ্য আছে। সাকিবের জায়গায় যে আসবে তার জন্য দলে অবদান রাখার এটা ভালো সুযোগ।’

সেই সুযোগ কি শুভাগত হোম পেলেন? শুভাগতকে দিয়ে সাকিবের অভাব পূরণ করতে চেয়েছিল টিম ম্যানেজমেন্ট। দেশ ছাড়ার আগে সেই কথাই বলেছিলেন তারা। কিন্তু মুমিনুলের সংবাদ সম্মেলনের আধঘণ্টা পর যে ১৫ জনের দল দেয় বিসিবি তাতে উপেক্ষিত শুভাগত! প্রশ্ন উঠতেই পারে শুভগতকে তাহলে দ্বীপরাষ্ট্রে উড়িয়ে নেওয়া কেন? এমন অনেক প্রশ্নকে সঙ্গী করেই বুধবার শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে প্রথম টেস্টে মাঠে নামছে বাংলাদেশ।

সবশেষ ১০ টেস্টে ৯ হারের লজ্জার রেকর্ডকে সঙ্গী করে মাঠে নামছে বাংলাদেশ। এবারও ভালো করার জেদ আছে। মুমিনুল আশার বাণীও শোনালেন। কিন্তু করোনার কারণে পর্যাপ্ত প্রস্তুতি যে নেওয়া হয়নি তাও জানিয়ে রাখলেন বাংলাদেশের অধিনায়ক।

‘বলবো না খুব ভালো প্রস্তুতি আছে। তবে দেশের জন্য আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলতে গেলে কিছু পরিস্থিতি আসবে যার সঙ্গে আপনাকে মানসিক ও শারীরিকভাবে নিজেকে মানিয়ে নিতে হবে। যদি ভালো করার ব্যাপারে আশাবাদী থাকে এটাই গ্রহণযোগ্য হবে।’

প্রস্তুতির ঘাটতি নিজেদের সামর্থ্যে পূরণ করতে চান অধিনায়ক। তবে প্রশ্ন উঠছে দেশের মাটিতে যেখানে ওয়েস্ট ইন্ডিজের দ্বিতীয় সারির দলের বিপক্ষে হোয়াইটওয়াশ হয় সেখানে বিদেশের মাটিতে কি ভালো করা সম্ভব? এছাড়া পাকিস্তান ও ভারতে যে তিনটি টেস্ট খেলেছে, প্রতিটিতে ইনিংস হার। দ্বীপরাষ্ট্রে ভালো করার জন্য অতীত ভুলতে চান অধিনায়ক। তিনিসহ পুরো দল সাদা পোশাকে রঙ ছড়ানোর অপেক্ষায়। জয় করতে চান শ্রীলঙ্কা।

‘আমি সবসময় বলি- আগে যা হয়ে গেছে এটা নিয়ে চিন্তা না করা ভালো। ইতিবাচক কিছু থাকলে হয়তো নিতে পারেন। নতুন করে কালকে টেস্ট শুরু করবো, নতুন একটা দিন। নতুন দিনে আমার প্রক্রিয়া ঠিক রাখার চেষ্টা করবো।’

‘আপনি এই জায়গায় এসেছেন শুধু অংশ নিতে- এমনটা ভাবলে তো হবে না। এই জায়গায় যদি শুধু অংশ নিতে আসেন তাহলে ক্রিকেট না খেলাই ভালো, আমি তাই মনে করি। যেখানেই যান, যত খারাপ পরিস্থিতি থাকুক- অবশ্যই জেতার আশা থাকতে হবে, স্পৃহা থাকতে হবে। এটা নিয়েই আমরা মাঠে নামবো।’

পিচ কিউরেটর উইকেটে কিছু ঘাস রেখেছেন। মঙ্গলবার উইকেট দেখলেও পরিষ্কার ধারণা দিতে পারলেন না বাংলাদেশের অধিনায়ক। তবে তার বিশ্বাস পাল্লেকেলের ২২ গজে পেসাররা বড় ভূমিকা রাখবে। তার ভাষ্য, ‘মাঝে মাঝে ম্যাচের আগে এসব অনুমান করা যায় না। আমি কাল বা তার পরদিন এই প্রশ্নের উত্তর দিতে পারবো। তবে আমার মনে হয় পেসাররাই এই ম্যাচে বড় ভূমিকা রাখবে।’

দল তিন পেসার নিয়ে নামবে তা বোঝাই যাচ্ছে। আবু জায়েদ রাহী ও তাসকিন আহমেদের সঙ্গে সুযোগ হতে পারে প্রথমবার টেস্ট দলে ডাক পাওয়া শরিফুল ইসলামের। আবার ইবাদত হোসেনকেও অভিজ্ঞতার কারণে বিবেচনা করতে পারে। একমাত্র স্পিনার হতে পারেন মেহেদী হাসান মিরাজ। তাইজুল ইসলামকে সাইড বেঞ্চে দেখা যেতে পারে। এছাড়া ৭ ব্যাটসম্যান হতে পারেন তামিম ইকবাল, সাইফ হাসান, নাজমুল হোসেন শান্ত, মুমিনুল, মুশফিকুর রহিম, মোহাম্মদ মিথুন ও লিটন দাশ।

সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স বাংলাদেশকে ভালো কিছুর আশা দেখাতে না পারলেও শ্রীলঙ্কার অতীত সুখস্মৃতি আত্মবিশ্বাস বাড়াতে পারে। বাংলাদেশ শ্রীলঙ্কায় সবশেষ টেস্ট খেলেছে ২০১৭ সালে। সেবার গলেতে প্রথম টেস্টে হেরে গেলেও দ্বিতীয় ম্যাচে নিজেদের শততম টেস্টে স্মরণীয় জয় পায় বাংলাদেশ। আবার ২০১৩ পাল্লেকেলেতে বাংলাদেশ একটি ওয়ানডে খেলেছিল। সেটাও জেতে সফরকারীরা, ওই ওয়ানডের সুখস্মৃতি টেস্টে ফেরাতে পারবে বাংলাদেশ? উত্তরটা কিছুদিনের মধ্যেই পাওয়া যাবে।