ঢাকা, শনিবার, ৮ আগস্ট, ২০২০, ২৪ শ্রাবণ, ১৪২৭

জন র‌্যাম্বোর দাম হাঁকানো হয়েছে ১০ লাখ টাকা

নাম তার “জন র‌্যাম্বো”। জন্ম ও বড় হওয়া ঠাকুরগাঁওয়ে। সারা দেহ সাদা,মাথা ও গলায় কালো রঙ। লম্বায় ৯ফুট দৈঘ্য ও উচ্চতা ৫ফুট ৪ ইঞ্চি। আসন্ন কোরবানি ঈদে বিক্রির জন্য প্রস্তত খামারি। দাম হেঁকেছেন ১০ লাখ।

বুধবার দুপুরে ঠাকুরগাঁও শহরের নিশ্চিন্তপুরের মাসুমা খানমের খামারে গেলে ঠিক এমনি একটি ষাঁড় চোখে পড়ে। ‘জন র‌্যাম্বো’ নামের এই গরুটি পালন করে ইতিমধ্যে জেলায় সাড়া ফেলে দিয়েছেন খামারি মাসুমা খানম।

এই কোরবানির ঈদে ষাঁড়টি বিক্রি করবেন তিনি। ষাঁড়টি দেখতে প্রতিনিয়ত ভিড় জমছে মাসুমার খামারে। তবে করোনা ভাইরাস ও ভাইরাসজনিত লাম্পি স্কিন ডিজিস রোগের কারণে পাইকাররা ষাড়টির দাম বলছে অনেক কম। তাই ষাড়টি বিক্রি নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন তিনি।

যানা যায়, শখের বসে ২০১৩ সালে ৪৫ হাজার টাকা দরে কেনা ফ্রিজিয়ান জাতের একটি গাভী গরু দিয়ে ছোট্ট একটি গরু খামার শুরু করেন মাসুমা খানম। এরপর ২০১৬ সালে একটি ও ২০১৭ সালে একটি ষাড় বাছুর জন্ম সেই গাভীটি। পরে গাভীটিকে বিক্রি করে দেন তিনি। বর্তমানে খামারে ৬টি গাভী ও ৬টি ষাড় গরু রয়েছে।

সারেজমিনে গিয়ে যানা যায়, খামারে সব থেকে বড় ফ্রিজিয়ান জাতের এই ষাড়টির নাম রাখা হয় ‘জন র‌্যাম্বো’। ধবধবে সাদা রং এর উপর কালো রং রয়েছে। এর উচ্চতা ৫ ফিট ৪ ইঞ্চি ও লম্বায় ৯ ফিট। এটির ওজন ১ টন অর্থাৎ ১ হাজার কেজি। নিয়মিত ষাড়টিকে খৈল, গম, ভুট্টা, বুট ও ছোলার ভুষি, চিটাগুড়, ভেজানো চাল, খুদের ভাত, খড়, নেপিয়ার ঘাস ও কুড়া মিলে দিনে দু’বার মোট ৪০ থেকে ৪৫ কেজি খাদ্য খাওয়ানো হয়। ২০১৭ সাল থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত ‘জন র‌্যাম্বো’ লালন পালন করতে প্রায় ৬ লক্ষ টাকা খরচ হয়েছে।

খামারে জন র‌্যাম্বো নামের ষাড়টি দেখতে এসেছেন আশরাফ আলী নামের এক দর্শনার্থী। তিনি বলেন, বিভিন্ন সময় হাট-বাজারে যাওয়া হয়। এছাড়াও এলাকায় প্রচুর গরু রয়েছে। তবে এতো বড় গরু কখনও দেখিনি। এই ষাড়টি দেখে অবাক হলাম।

অবশেষে কথা হয় খামারি মাসুমা খানমের সাথে। তিনি বলেন, কোরবানির ঈদের জন্যই ‘জন র‌্যাম্বো’ নামের ষাড়টিকে প্রস্তুত করা হয়েছে। বিক্রির ঘোষণা দেওয়ার পরেই প্রতিদিন দু-একজন ক্রেতা আসছে খামারে। তবে মনমতো দাম বলছে না। করোনা মহামারি ও ভাইরাস জনিত লাম্পি স্কিন রোগ না থাকলে ষাড়টি ভাল দামে বিক্রি করতে পারতাম। ষাড়টি পিছনে অনেক খরচ হয়েছে। তবে বিক্রি নিয়ে অনেক চিন্তায় আছি। সঠিক মূল্য পাবো কিনা তা নিয়ে চিন্তিত।

ঠাকুরগাঁও জেলা প্রাণীসম্পদ কর্মকর্তা কৃষিবিদ আলতাফ হোসেন বলেন, মাসুমা খানম একজন সফল উদ্যোক্তা। সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক উপায়ে দেশি খাবারে ষাঁড়টিকে লালন-পালন করে বড় করেছেন। আমরা নিয়মিত খোঁজ খবর নিয়েছি ষাড়টির ও পরামর্শ দিয়েছি। আশা করি তিনি ন্যায্য মূল্যে ষাড়টিকে বিক্রি করতে পারবেন।