ঢাকা, সোমবার, ১৭ই জানুয়ারি, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ, ৩রা মাঘ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

শ্রীলংকাকে নিয়ে ‘ছেলেখেলা’ করে ফাইনালে বাংলাদেশ

সাফ অনূর্ধ্ব-১৯ নারী চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে আগেই এক পা দিয়ে রেখেছিল বাংলাদেশ। তাই আনুষ্ঠানিকতার ম্যাচে শ্রীলংকার মুখোমুখি হয়েছে মারিয়া মান্ডারা। এমন ম্যাচে লংকান মেয়েদের নিয়ে যেন ‘ছেলেখেলা’ খেলেছে লাল সবুজরা।
রোববার কমলাপুর বীরশ্রেষ্ঠ সিপাহী মোস্তফা কামাল স্টেডিয়ামে ১২-০ গোলে জিতেছে বাংলাদেশ। এই জয়ে গ্রুপ সেরা হয়ে ফাইনালে উঠল মারিয়ার দল।

ভারতকে হারানো ম্যাচের একাদশ থেকে পাঁচ পরিবর্তন এনে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে দল সাজান বাংলাদেশ কোচ গোলাম রব্বানী ছোটন।

প্রতিপক্ষকে গা গরমের সুযোগ না দিয়েই দ্বিতীয় মিনিটেই এগিয়ে যায় বাংলাদেশ। ডি-বক্সের ডানপ্রান্ত দিয়ে শাহেদা আক্তার রিপার শট বারে লেগে ফিরলে ফিরতি বলে স্বপ্না রাণীর প্লেসিং লঙ্কান গোলরক্ষক থারিন্ডি জানিথিয়ার গ্লাভস ছুঁয়ে ঠাই নেয় জালে।

পাঁচ মিনিট পরেই আবারও বাংলাদেশের গোল। এবার বামপ্রান্ত থেকে মারিয়া মান্ডার রক্ষণচেরা পাস থেকে ঋতুপর্না চাকমার কোণাকুণি শটও আটকাতে পারেননি লঙ্কান গোলরক্ষক।

খেলার বয়স ২০ মিনিট পেরোনোর আগেই গোলখাতায় তৃতীয়বারের নাম তোলে বাংলাদেশ। নিজেদের অর্ধ থেকে আঁখি খাতুনের বাড়ানো বলে লঙ্কান দুই ডিফেন্ডারের মাঝখান থেকে লক্ষ্যভেদ করেন শাহেদা আক্তার রিপা।

৩৩ মিনিটে ব্যবধানটা ৪-০ হওয়ার সুযোগ ছিল বাংলাদেশের সামনে। স্বপ্না রাণীর দূরপাল্লার শট প্রতিহত হয়েছে বারে লেগে। এর ১০ মিনিট বাদেই লঙ্কান জালে গোলের হালি পূর্ণ করে স্বাগতিকরা। ৪৩ মিনিটে মাঝমাঠ থেকে আফিদা খন্দকারের দূরপাল্লার পাসে আলতো চিপে লঙ্কান গোলরক্ষকের মাথার ওপর দিয়ে বলকে জালে জড়ান ঋতুপর্না চাকমা।

বিরতি থেকে ফেরার দুই মিনিট পরেই অসাধারণ এক গোলে ব্যবধান ৫-০ করেন ডিফেন্ডার আঁখি খাতুন। লঙ্কান গোলরক্ষক একটু এগিয়ে এসেছেন দেখে ৪০ গজ দূর থেকে লম্বা এক শট নেন আঁখি। ৪৭ মিনিটে দীর্ঘদেহি বাংলাদেশি ডিফেন্ডারের শট লঙ্কান গোলরক্ষকের গ্লাভস ছুঁয়ে জড়িয়ে যায় জালে।

দুই মিনিট পর আঁখির আরেক দূরপাল্লার শট থেকে গোল পান রিপা। ৪৯ মিনিটে নেওয়া আঁখির শটে গোলমুখে বল পান কক্সবাজারের মেয়ে রিপা। তার দুর্বল প্লেসিংটাও ঠেকাতে পারেননি থারিন্ডি জানিথিয়ার।

বল লক্ষ্যে থাকলেই গোল হচ্ছে দেখে লোভটা সামলাতে পারলেন ডিফেন্ডার আফিদা খন্দকার। ২৫ গজ দূর থেকে ৫৪ মিনিটে শটও নিলেন। তার নেওয়া শট বদলি গোলরক্ষক বানদারাকে ফাঁকি দিয়ে ঢুকে যায় পোস্টে।

৭০ মিনিটে ৩০ গজ দূর থেকে আফিদার আরেক শটে বাংলাদেশের গোলের ব্যবধান বেড়ে দাঁড়ায় ৮-০! ৭৯ মিনিটে আনুচিং মগিনির গোলে গোলের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ৯’এ!

৮৩ মিনিটে সেই ৩০ গজ দূর থেকেই দূরপাল্লার শটে হ্যাটট্রিক করেন আফিদা খন্দকার। ৮৫ মিনিটে স্বপ্না রানীর পাস থেকে ১১তম গোল করেন বদলি ফরোয়ার্ড উন্নতি খাতুন। ৮৭ মিনিটে হ্যাটট্রিকে গোলের ডজন পূরণ করেন শাহেদা আক্তার রিপা।

শেষ পর্যন্ত ১২-০ গোলের জয় নিয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে মাঠ ছাড়ে বাংলাদেশ। একইসঙ্গে নিশ্চিত করে ফাইনালও। আগামী ২২ ডিসেম্বর ভারতের বিপক্ষে ফাইনালে লড়বে লাল-সবুজরা।