ঢাকা, শুক্রবার, ২৬শে ফেব্রুয়ারি, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ১৩ই ফাল্গুন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

নোট-গাইড বই নিষিদ্ধ করে শিক্ষা আইনের খসড়া চূড়ান্ত

শিক্ষার্থীদের জন্য সব ধরনের নোট ও গাইড বই নিষিদ্ধের বিধান রেখে ‘শিক্ষা আইন-২০২০’-এর খসড়া চূড়ান্ত করা হয়েছে। তবে, সরকারের অনুমতি নিয়ে সহায়ক বই প্রকাশের বিধান রাখা হয়েছে। মঙ্গলবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) মন্ত্রণালয়ে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এই খসড়া চূড়ান্ত করা হয়।

বিকাল সাড়ে ৩টা থেকে শুরু হয়ে বৈঠক চলে বিকাল ৫টা পর্যন্ত। বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন, শিক্ষা উপমন্ত্রী মুহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব, কারিগরি ও মাদ্রাসা বিভাগের সচিব, অতিরিক্ত সচিব প্রমুখ।

এই বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মমিনুর রশিদ আমিন বলেন, ‘দীর্ঘ বৈঠকের পর শিক্ষা আইন-২০২০-এর খসড়া চূড়ান্ত করা হয়েছে। শিগগিরই খসড়া আইন মন্ত্রিপরিষদে তোলা হবে। এরপর ভাষাগত সংশোধনের জন্য আইন মন্ত্রণালয় হয়ে জাতীয় সংসদে যাবে।’

জানা গেছে, শিক্ষকরা নিজ-নিজ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের প্রাইভেট, কোচিং করাতে পারবেন না। তবে ফ্রিল্যান্সিং কোচিং চালাতে বাধা থাকবে না। শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা তাদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান চলার সময় কোচিংয়ে যেতে পারবেন না।

প্রস্তাবিত শিক্ষা আইনের খসড়ার ১৬ ধারার ১ ও ২ উপধারায় বলা হয়েছে, কোনো ধরনের নোট বই বা গাইড বই মুদ্রণ, বাঁধাই, প্রকাশ বা বাজারজাত করা যাবে না। এই বিধান লঙ্ঘন করলে অনূর্ধ্ব তিন বছর কারাদণ্ড বা অনূর্ধ্ব পাঁচ লাখ টাকা অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন।

উপধারা-৩-এ বলা হয়েছে, শিক্ষার্থীদের কোনো শিক্ষক নোট বই বা গাইড বই কিনতে বা পাঠে বাধ্য করলে বা উৎসাহ দিলে তা অসদাচরণ হিসেবে গণ্য হবে। সংশ্লিষ্ট শিক্ষক, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান, ব্যবস্থাপনা কমিটি বা পরিচালনা কমিটির সংশ্লিষ্ট সদস্যদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া যাবে।

উপধারা ৪-এ বলা হয়েছে, সরকারের অনুমোদন সাপেক্ষে সহায়ক পুস্তক মুদ্রণ, বাঁধাই, প্রকাশ বা বাজারজাত করা যাবে।

প্রস্তাবিত আইনের ৩০ ধারার ১ উপধারায় বলা হয়েছে, কোনো শিক্ষক নিজ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীকে প্রাইভেট টিউশনের মাধ্যমে পাঠদান করতে পারবেন না। তবে, শর্ত থাকে যে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পিছিয়ে পড়া শিক্ষার্থীদের শনাক্ত করে অভিভাবকদের লিখিত সম্মতিতে স্কুল সময়ের আগে-পরে অতিরিক্ত ক্লাসের ব্যবস্থা করা যাবে।

প্রসঙ্গত, ২০১১ সাল থেকে শিক্ষা আইন নিয়ে কাজ শুরু করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এর আগে একাধিকবার অভিমত নেওয়ার পর খসড়া তৈরি হয়। একবার মন্ত্রিসভায়ও উপস্থাপন করা হয়। কিন্তু নানা অসংগতির কারণে তা ফিরিয়ে দেওয়া হয়।