ঢাকা, শুক্রবার, ২৭শে জানুয়ারি, ২০২৩ খ্রিস্টাব্দ, ১৩ই মাঘ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

রাজধানীতে ২৫০জন আশ্রয়হীন ভাসমান মানুষকে শীতবস্ত্র বিতরণ

শীতে কাঁপছে গোটা দেশ। ঘন কুয়াশা আর হিমেল হাওয়ায় সারাদেশে শীতের তীব্রতা বেড়েই চলেছে। কনকনে ঠাণ্ডায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন। এই তীব্র শীত অনেকের জন্য দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সবচেয়ে বেশি বিপদে পড়েছে অভাবী ও গরিব মানুষ। জীবনযাত্রা কষ্টকর হয়ে পড়েছে দিনমজুর, ভ্যানচালক, ইজিবাইক চালকসহ সাধারণ কর্মজীবী এবং ছিন্নমূল মানুষের। অভাবে কারণে অনেকের পক্ষে আলাদাভাবে শীতের কাপড় কেনা দুঃসাধ্য হয়ে পড়েছে।

রাজধানী ঢাকায় এসব ছিন্নমূল ও ভাসমান শীতার্ত মানুষের পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রশাসনিক কর্মকর্তা আকাশ আহমেদ। সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত উদ্যোগে আড়াইশো’ শীতার্ত মানুষকে একটু উষ্ণতা পাইয়ে দিতে শীতবস্ত্র বিতরণ করেছেন।

গতকাল শুক্রবার দিবাগত রাত ১২টা থেকে ৩টা পর্যন্ত রাজধানীর বাড্ডা, রামপুরা, বনশ্রী, বাংলামোটর, শাহবাগ, রমনা পার্ক, সোহরাওয়ার্দী উদ্যান, বায়তুল মোকাররম ও গুলিস্তান ফুটপাতে ঘুমন্ত মানুষের গায়ে নীরবে কম্বল দিয়ে ঢেকে দিয়েছেন। পাশাপাশি, রিক্সাচালক, পরিচ্ছন্ন কর্মী সহ বিভিন্ন ভাসমান মানুষের মধ্যেও শীতবস্ত্র বিতরণ করেন তিনি।

এইকাজে কোনো সংগঠনের সাহায্য না নিয়ে সম্পূর্ণ নিজস্ব উদ্যোগে এসব শীতার্ত মানুষের পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন আকাশ আহমেদ। তবে এসময় কয়েকজন স্বেচ্ছায় শ্রম দিয়েছেন আকাশ আহমেদ এর সাথে। তারা হলেন- আলম নিজাম, ওমর ফারুক সম্রাট, সাখাওয়াত, নাজমুস সাকিব, কামরুল আহসান, এনায়েত হোসেন ও হেনা আহমেদ।

এব্যাপারে আকাশ আহমেদ এই প্রতিবেদককে জানান, শীতে অভাবী মানুষের জন্য এখন জরুরি দরকার হয়ে পড়েছে শীতবস্ত্রের। কিন্তু ভাসমান এসব মানুষের অনেকের পক্ষে আলাদাভাবে শীতের কাপড় কেনা দুঃসাধ্য। প্রতি বছর শীতের সময় দেশের বিভিন্ন সামাজিক সংস্থা এমনকি ব্যক্তিপর্যায়ে শীতার্ত মানুষের জন্য সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেয়। অতীতে সরকারি পর্যায়েও গরিব মানুষের মধ্যে শীতবস্ত্র বিতরণ করা হয়েছে। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে এবার সে ধরনের উল্লেখ করার মতো কোনো তৎপরতা চোখে পড়ছে না। তাই, সমাজের বিত্তবান ও মানবিক বোধসম্পন্ন ব্যক্তিরা যদি দুর্দশাগ্রস্ত মানুষের পাশে না দাঁড়ায়, তাহলে মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়বে। এ ক্ষেত্রে সবাইকে নিজ নিজ দায়িত্ববোধ থেকে এগিয়ে আসতে হবে।

তিনি বলেন, ব্যক্তিপর্যায়ের উদ্যোগের মাধ্যমে এমন পরিস্থিতি থেকে শীতার্তদের রক্ষা করা যায়। এজন্য আমার সামর্থ্য অনুযায়ী আমি আমার জায়গা থেকে কিছু করার চেষ্টা করেছি। সমাজের বিত্তবানদের আহবান জানাবো, আসুন ভালোবাসার উষ্ণতা দিয়ে দূর করি আশ্রয়হীন ভাসমান মানুষের শীত।

সংবাদটি শেয়ার করুন
Share on Facebook
Facebook
Tweet about this on Twitter
Twitter
Email this to someone
email
Print this page
Print
Pin on Pinterest
Pinterest

দৈনিক নবচেতনার ইউটিউব চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করুন