ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৯শে অক্টোবর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ৩রা কার্তিক, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

ই-কমার্সে পণ্য কেনায় সতর্ক থাকতে হবে: পুলিশ

ইভ্যালির মতো ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানে কোনো বিনিয়োগ করতে গেলে তা যাচাই-বাছাই করতে হবে। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানগুলো যেসব প্রতারণামূলক অফার দেয় সে বিষয়ে জনগণকে সতর্ক থাকার কোনো বিকল্প নেই বলে জানিয়েছেন গোয়েন্দা কর্মকর্তারা।

শনিবার (১৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার একেএম হাফিজ আক্তার বলেন, ‘সম্প্রতি ইভ্যালি, ই-অরেঞ্জসহ বেশ কিছু প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে গ্রাহকের টাকা নিয়ে প্রতারণার অভিযোগ আসে। ইতিমধ্যে এসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এ কারণে এসব প্রতিষ্ঠানের পণ্য কিনা কিংবা বিনিয়োগ করার ক্ষেত্রে যাচাই-বাছাইয়ের করতে হবে। প্রয়োজনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে পরামর্শও করা যেতে পারে।’

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নে তিনি আরও বলেন, ‘এ ধরনের প্রতিষ্ঠানগুলোর সরকারি কোনো নীতিমালা ছিলো না। তবে সম্প্রতি বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে যে নীতিমালা করা হয়েছে তার আলোকে কেউ যদি ই-কমার্স ব্যবসা করে সে ক্ষেত্রে প্রয়োজনে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সহযোগিতা করবে। তবে এসব প্রতিষ্ঠান নীতিমালার আলোকে গ্রাহকের কাছ থেকে টাকা নেওয়া, সঠিক সময়ে তাদের পণ্য দিচ্ছে কিনা, পাশাপাশি বিনিয়োগকারীর বিনিয়োগের সঠিক যাচাই-বাছাইয়ের জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তৎপরতা শুরু করেছে।’

উল্লেখ‌্য, অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে গত ১৬ সেপ্টেম্বর ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ইভ্যালির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মো. রাসেল ও তার স্ত্রী শামীমা নাসরিনের (প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান) বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে গুলশান থানায় একটি মামলা হয়। আরিফ বাকের নামে ইভ্যালির এক গ্রাহক মামলাটি দায়ের করেন। এই মামলা হওয়ার পর বিকেলেই রাসেল ও তার স্ত্রী শামীমাকে আটক করে র‌্যাব।

এছাড়া, গ্রাহকের প্রায় ১১ শ’ কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ ওঠে ই-অরেঞ্জ এর বিরুদ্ধে। প্রতিষ্ঠানটির প্রধান পৃষ্ঠপোষক ও বনানী থানার সাবেক পুলিশ পরিদর্শক শেখ সোহেল রানাকে বিপুল পরিমাণ টাকাসহ গ্রেপ্তার করা হয়। এর আগে প্রতিষ্ঠানটি অপর দুই কর্ণধারকেও গ্রেপ্তার করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।