ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৯শে অক্টোবর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ৩রা কার্তিক, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

খুলে দেওয়া হলো সব স্থলবন্দর

বাংলাদেশে ও তার পার্শ্ববর্তী দেশগুলোতে কোভিড-১৯ পরিস্থিতি উন্নত হওয়ায় স্থলবন্দর দিয়ে যাত্রীদের চলাচল শিথিল করা হয়েছে। ভারত থেকে আসতে বাংলাদেশ মিশন থেকে অনাপত্তি সনদ (এনওসি) নিতে হবে না।

বৃহস্পতিবার (১৬ সেপ্টেম্বর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে এসব জানানো হয়েছে।

চলতি বছরের ২ এপ্রিল থেকে যে বিধিনিষেধ ছিল তা শিথিল করার জন্য আন্তঃমন্ত্রণালয় পরামর্শের পরিপেক্ষিতে ১৬ সেপ্টেম্বর থেকে তা কার্যকর হচ্ছে। এর আগে এ বিষয়ে পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেনের সভাপতিত্বে ১৪ সেপ্টেম্বর একটি ভার্চুয়ালি আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভা থেকে এ সংক্রান্ত পরামর্শ আসে।

মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বিদেশি নাগরিকদের বাংলাদেশ ভ্রমণের অনুমতি দেয় এমন বিভাগুলো উন্মুক্ত করা হয়েছে। এসব তথ্য (ssd.gov.bd) ওয়েবসাইটে পাওয়া যাবে। মহামারি কোভিড-১৯ এর বিরুদ্ধে লড়াইয়ে বাংলাদেশ প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে বৃহত্তর সহযোগিতার প্রত্যাশায় রয়েছে।

চিকিৎসার জন্য ভারতে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের মধ্যে যাদের ভিসার মেয়াদ ১৫ দিনের কম‍ আছে, তারা বেনাপোল, আখাউড়া ও বুড়িমারী স্থলবন্দর দিয়ে দেশে ফিরতে পারবেন। সেজন্য তাদের দিল্লি, কলকাতা বা আগরতলায় বাংলাদেশ মিশন থেকে অনুমতি নিতে হতো। এখন থেকে এটি আর নিতে হবে না।

১৬ সেপ্টেম্বর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের ফলে স্থলবন্দর দিয়ে বাংলাদেশে যাতায়াতকারী যাত্রীদের আর বিদেশে বাংলাদেশ মিশন থেকে অনাপত্তি সনদ (এনওসি) নেওয়ার প্রয়োজন হবে না।

বর্তমানে চলাচলকারী ছয়টি স্থলবন্দর, যেমন বেনাপোল, আখাউড়া, সোনামসজিদ, হিলি, দর্শনা এবং বুড়িমারিতে সীমান্তে চলাচলের জন্য আগের মত চালু হবে। এছাড়া আরও পাঁচটি স্থলবন্দর/স্থল শুল্ক স্টেশন (শেওলা, তামাবিল, ভোমরা, বিরল এবং বাংলাবান্ধা) যাত্রীদের চলাচলের জন্য ১৯ সেপ্টেম্বর থেকে খোলা হবে।

এদিকে, তিন মাসের জন্য ভারতের সঙ্গে থাকা স্থলবন্দরগুলোতে স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর (এসওপি) জারি করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগ। এতে নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছে কোন কোন ক্যাটাগরিতে ভারত থেকে সড়কপথে বাংলাদেশে প্রবেশ করা যাবে। বৃহস্পতিবার (১৬ সেপ্টেম্বর) এই এসওপি জারি করা হয়।

এতে বলা হয়েছে, কূটনৈতিক ও অফিশিয়াল ভিসাধারী এবং দূতাবাসে যারা চাকরি করেন ও তাদের পরিবারের সদস্যরা প্রবেশ করতে পারবেন। জাতিসংঘে কর্মরত এবং তাদের পরিবারের সদস্যরাও এ পথে দেশে প্রবেশ করতে পারবেন। পাশাপাশি বিভিন্ন মেগা প্রকল্পে কর্মরত বিশেষজ্ঞদেরও প্রবেশে বাধা নেই।

এছাড়া সরকারি ও বেসরকারি চাকরিজীবী বাংলাদেশি এবং তাদের পরিবারের সদস্য, বিনিয়োগকারী, এনজিও কর্মী ও তাদের পরিবার এবং বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত বিদেশি নাগরিক ও তাদের পরিবারের সদস্যরা স্থলপথে প্রবেশ করতে পারবেন।

ভারতীয় বিনিয়োগকারীরা প্রয়োজন অনুসারে বাংলাদেশের ভিসা পাবেন বলে জানানো হয়েছে এসওপিতে। পাশাপাশি বিদেশি পাইলট এবং নাবিকরা ৭২ ঘণ্টার জন্য বাংলাদেশে প্রবেশ করতে পারবেন। এছাড়া বিশেষ কোনো কারণে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন সাপেক্ষে দেশে প্রবেশ করা যাবে।

যারা সড়কপথে ভারত থেকে দেশে প্রবেশ করবেন, তাদের প্রত্যেককে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুসরণ করতে বলা হয়েছে।