ঢাকা, শুক্রবার, ৩০শে জুলাই, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ১৫ই শ্রাবণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

৫৪ হাজার শিক্ষক নিয়োগের ফল প্রকাশ

বেসরকারি বিভিন্ন পর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ৫৪ হাজার শিক্ষক নিয়োগের ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছে। দীর্ঘদিনের মামলা জটিলতার পর বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ) তৃতীয় গণবিজ্ঞপ্তির ফলাফল প্রকাশ করল।
বৃহস্পতিবার রাতে এনটিআরসিএ ওয়েবসাইটে এ ফল প্রকাশ করা হয়।

এনটিআরসিএ সচিব এ টি এম মাহবুব-উল করিম বলেন, ওয়েবসাইটে ফল প্রকাশ করা হয়েছে। পরবর্তীতে নির্বাচিতদের মোবাইলে এসএমএসও দেয়া হবে।

এনটিআরসিএ সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার বিকেলে শিক্ষামন্ত্রীর হাতে ফলাফলের অনুলিপি তুলে দেওয়া হয়। পাস করা প্রার্থীরা এসএমএস পাবেন। অথবা নিয়োগ প্রার্থীরা (http://ngi.teletalk.com.bd/ntrca/app/) এ ঠিকানায় গিয়ে ফলাফল জানতে পারবেন।

দীর্ঘদিন প্রার্থীরা এ ফলাফল প্রকাশের জন্য আন্দোলন করে আসছিলেন। করোনা সঙ্কটের এমন দুঃসময়ে ওই বিজ্ঞপ্তির ফলাফল প্রকাশে অর্ধলাখের বেশি বেকারের মুখে হাসি ফোটে। শিক্ষামন্ত্রী ও সংশ্লিষ্টদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন তৃতীয় গণবিজ্ঞপ্তি ফোরামের সভাপতি শান্ত আহমেদ ও সাধারণ সম্পাদক হাবিবুল্লাহ রাজু।

জানা গেছে, ২০১৭ সালের ১৪ ডিসেম্বর হাইকোর্ট একটি রায় দিয়েছিলেন। ওই রায়ে কয়েক দফা নির্দেশনা ছিল। এর মধ্যে একটি ছিল সম্মিলিত মেধা তালিকা অনুযায়ী রিট আবেদনকারী এবং অন্যান্য আবেদনকারীদের নামে সনদ জারি করবে। কিন্তু দুই বছরেও রায় বাস্তবায়ন না করায় রিট আবেদনকারীরা আদালত অবমাননার আবেদন করেন। সে আবেদনের শুনানি করে ২০১৯ সালে রুল জারি করেন হাইকোর্ট।

এ রুল বিবেচনাধীন থাকা অবস্থায় ৫৪ হাজার পদের জন্য গণবিজ্ঞপ্তি জারি করে এনটিআরসিএ। এরপর নিয়োগ বিরত থাকতে একটি আবেদন করেন রিটকারীরা। তাদের আবেদনের ভিত্তিতে গত ৬ মে তৃতীয় গণবিজ্ঞপ্তি স্থগিতের আদেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে প্রথম থেকে ১২তম নিবন্ধন পরীক্ষার সনদধারীদের মধ্যে যারা বঞ্চিত মনে করে আদালতে গিয়েছিলেন তাদের সাতদিনের মধ্যে নিয়োগ দেওয়ার সুপারিশ করার নির্দেশ দেওয়া হয়।

৩১ মে নিবন্ধন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ সনদধারী ও অবমাননার আবেদনকারীদের উচ্চ আদালতের রায়ের নির্দেশনা অনুসারে চার সপ্তাহের মধ্যে নিয়োগের সুপারিশ করতে এনটিআরসিএ-কে নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। এরপর এ রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করে এনটিআরিসিএ। আপিলের ভিত্তিতে রিটকারীদের আবেদন খারিজ করে দেন আপিল বিভাগ। এতে শিক্ষক নিয়োগের সব বাধা কেটে যায়।