ঢাকা, শুক্রবার, ৩০শে জুলাই, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ১৫ই শ্রাবণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে জাতিসংঘের জরুরি পদক্ষেপ চাইলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন বলেছেন, রোহিঙ্গা সমস্যার রাজনৈতিক সমাধানে আমরা সবসময়ই আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে সক্রিয় ভূমিকা নেয়ার আহ্বান জানিয়েছি। সমস্যার মূল কারণগুলো খুঁজে বের করে, তা সমাধানের কথা বলেছি। বিশেষ করে তাদের মৌলিক মানবাধিকার নিশ্চিত করার মাধ্যমে নিরাপদে এবং মর্যাদাপূর্ণভাবে নিজেদের দেশে টেকসই প্রত্যাবর্তনের ব্যবস্থা নেয়ার আহ্বান জানিয়ে আসছি।
মঙ্গলবার জাতিসংঘে বাংলাদেশ মিশন আয়োজিত ‘মিয়ানমারের বর্তমান পরিস্থিতি: সংখ্যালঘু রোহিঙ্গাদের অবস্থা’ শীর্ষক একটি উচ্চ পর্যায়ের ভার্চুয়াল আলোচনায় দেয়া বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। একই সঙ্গে এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো সমাধান না হওয়ায় আক্ষেপ প্রকাশ করে রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে জাতিসংঘের জরুরি পদক্ষেপ চেয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

রোহিঙ্গা ইস্যুতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাহসী সিদ্ধান্ত ও মানবীয় উদারতার কথা তুলে ধরে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এ নীতি-আদর্শ ও উদারতাই আমাদেরকে সহিংসতার শিকার বাস্তচ্যুত এক মিলিয়নেরও বেশি রোহিঙ্গাকে মানবিক আশ্রয় দেয়ার ক্ষেত্রে উদ্বুদ্ধ করেছে। আমাদের সম্পদ ও স্থানের তীব্র সীমাবদ্ধতার পরও আমরা আশ্রিত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর কল্যাণে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা গ্রহণ করেছি।

ভাসানচরে রোহিঙ্গাদের জন্য নব্যসৃষ্ট আবাসন সুবিধার কথা উল্লেখ করে এ কে আব্দুল মোমেন বলেন, রোহিঙ্গাদের জন্য সৃষ্ট নতুন এ আবাসন ব্যবস্থা জাতিসংঘ ও উন্নয়ন সহযোগীরা যথাযথভাবে পরিদর্শন ও মূল্যায়ন করে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছে।

রোহিঙ্গা সমস্যার টেকসই সমাধানে অন্য আলোচকরাও তাদের সমর্থনের কথা জানান। সেই সঙ্গে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেয়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ সরকারের মানবীয় উদারতার প্রশংসা করেন।

বাংলাদেশের সঙ্গে কানাডা, সৌদি আরব ও তুরস্কের স্থায়ী মিশন এবং আন্তর্জাতিক সংস্থা ‘গ্লোবাল সেন্টার ফর রেসপনসিবিলিটি টু প্রটেক্ট’ যৌথভাবে ভার্চুয়াল এই ইভেন্টটির আয়োজন করে। এতে প্রধান বক্তা ছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন। উদ্বোধনী বক্তা ছিলেন জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি ভলকান বজকি।