ঢাকা, শুক্রবার, ২৭শে জানুয়ারি, ২০২৩ খ্রিস্টাব্দ, ১৩ই মাঘ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

সিলেটে মাধ্যমিকের শতভাগ বই বিতরণ এখনো সম্ভব হয়নি

নতুন শিক্ষাবর্ষের একমাস পার হতে চলছে। কিন্তু সিলেট বিভাগে মাধ্যমিকে এখনো শতভাগ বই বিতরণ সম্ভব হয়নি। ফলে বই ছাড়াই শ্রেণী কার্যক্রম পরিচালনা করতে হচ্ছে অনেক শিক্ষার্থীকে। তবে কর্মকর্তারা বলেছেন, জানুয়ারি মাসের মধ্যে মাধ্যমিক স্তরে শতভাগ বই পৌঁছে যাবে। সিলেট বিভাগে ৬ষ্ঠ থেকে ৯ম শ্রেণী পর্যন্ত মাধ্যমিক স্কুল (ইংরেজি ও বাংলা ভার্সন), দাখিল মাদ্রাসা, কারিগরি বোর্ড ও ইবতেদ্বায়ি ১ম থেকে ৫ম শ্রেণী পর্যন্ত ১২ লক্ষাধিক শিক্ষার্থীর জন্য বিনামূল্যে বিতরণের জন্য ১ কোটি ৫৮ লক্ষাধিক কপি বইয়ের চাহিদা। কিন্তু ১৭ জানুয়ারি পর্যন্ত সরবরাহ হয়েছে প্রায় ১ কোটি ২৭ লাখ ২০ হাজার কপি বই। যা চাহিদার ৮০ শতাংশ বলে জানিয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অফিস। এ হিসেবে এখনো বাকি ৩১ লাখ ৮০ হাজার কপি বই। তবে বাস্তবে মাধ্যমিকে বই সরবরাহ ৭০ শতাংশের বেশি হবে না বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র। সিলেট বিভাগীয় মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) অফিস সূত্র জানিয়েছে, প্রতিদিনই বিভিন্ন উপজেলায় বই আসছে। চলতি মাসের মধ্যে শতভাগ বই স্কুল-মাদ্রাসায় পৌঁছে যাবে। ইতোমধ্যে মাধ্যমিক স্কুল, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষার ৮০ ভাগের ওপর বই শিক্ষার্থীদের কাছে পৌঁছানো হয়ে গেছে। পুরনো কারিকুলামে প্রায় শতভাগ বই চলে এসেছে। নতুন কারিকুলামের ক্ষেত্রে বই আসতে দেরি হচ্ছে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মাধ্যমিকের ক্ষেত্রে সিলেট বিভাগের একমাত্র সিলেট জেলায় ৯০ ভাগের উপরে বই পৌঁছানো হলেও অন্যান্য জেলায় ৭৫ থেকে ৮০ ভাগ বই পৌঁছেছে। কোন কোন জেলায় বই প্রাপ্তির সংখ্যা ৬০ ভাগের মধ্যেও রয়ে গেছে। সূত্র জানায়, সিলেট জেলায় মাধ্যমিক স্কুল, দাখিল মাদ্রাসা, ইবতেদ্বায়ি (১ম থেকে ৫ম) ও কারিগরি শিক্ষা মিলে ৫৯ লাখ ৫৮ হাজার ১৪৪ কপি বইয়ের চাহিদা রয়েছে। এরমধ্যে ১৯ জানুয়ারি পর্যন্ত ৫৪ লাখ ২৫ হাজার ৭৫৩ কপি অর্থাৎ ৯১ শতাংশ বই পৌঁছানো সম্ভব হয়েছে। এক্ষেত্রে জেলায় ইবতেদ্বায়ি ১ম থেকে ৫ম শ্রেণী পর্যন্ত শতভাগ বই বিতরণ করা হয়। সুনামগঞ্জ জেলা শিক্ষা অফিস সূত্র জানায়, সুনামগঞ্জে মাধ্যমিক স্কুল, দাখিল মাদ্রাসা, ইবতেদ্বায়ি (১ম থেকে ৫ম) ও কারিগরি শিক্ষা মিলে ৩১ লাখ ৩৬ হাজার ৯২৮ কপি বইয়ের চাহিদা। গত ১৯ জানুয়ারি পর্যন্ত প্রাপ্তি ১৭ লাখ ৯৫ হাজার ৮৭১ কপি। এক্ষেত্রে একমাত্র ইবতেদ্বায়ি (১ম থেকে ৫ম) শতভাগ বই বিতরণ করা হয়। যদিও জেলা শিক্ষা অফিস জানিয়েছে প্রতিদিনই উপজেলায় বই আসছে। রবিবার পর্যন্ত বইয়ের প্রাপ্তি ৮০ শতাংশ ছাড়িয়ে গেছে। সপ্তাহে একবার বইয়ের প্রাপ্তির হিসাব নেয়া তাই দৈনিক প্রাপ্তির তথ্য জেলা অফিসে নেই। জেলা শিক্ষা অফিস সূত্র আরও জানিয়েছে, মাধ্যমিক স্কুলে ২২ লাখ ৪৩ হাজার ১৬৬ কপি বইয়ের বিপরীতে গত মঙ্গলবার (১৭ জানুয়ারি) পর্যন্ত পৌঁছেছে ১১ লাখ ৯৬ হাজার ১৫৫ কপি। ইবতেদ্বায়ি ১ম থেকে ৫ম শ্রেণীতে ৩ লাখ ৯ হাজার ১৪২ কপি বইয়ের পুরো সংখ্যা অর্থাৎ শতভাগ পৌঁছানো হয়েছে। মাদ্রাসা ৫ লাখ ৮৪ হাজার ৬২০ কপি বইয়ের চাহিদার বিপরীতে প্রাপ্তি ২ লাখ ৯০ হাজার ৫৭৪ কপি। তবে রবিবার পর্যন্ত উপজেলার হিসেবে প্রাপ্তির সংখ্যা ৮০ শতাংশ জানান সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা । হবিগঞ্জ জেলা শিক্ষা অফিস সূত্র জানায়, জেলায় মাধ্যমিক স্কুল, দাখিল মাদ্রাসা, ইবতেদ্বায়ি (১ম থেকে ৫ম) ও কারিগরি শিক্ষা মিলে ৩১ লাখ ২ হাজার ৬৭৯ কপি বইয়ের বিপরীতে ১৯ জানুয়ারি বৃহস্পতিবার পর্যন্ত প্রাপ্তি ২৫ লাখ ২ হাজার ৬৪৯ কপি। যা চাহিদার ৮১ শতাংশ। তবে একমাত্র ইবতেদ্বায়ি (১ম থেকে ৫ম) শতভাগ বই বিতরণ করা সম্ভব হয়েছে। মৌলভীবাজার জেলা শিক্ষা অফিস সূত্র জানায়, জেলায় মাধ্যমিক স্কুল, দাখিল মাদ্রাসা, ইবতেদ্বায়ি (১ম থেকে ৫ম) ও কারিগরি শিক্ষা মিলে ৩৬ লাখ ৫৭ হাজার ৭৬২ কপি বইয়ের চাহিদা রয়েছে। গত বৃহস্পতিবার (১৯ জানুয়ারি) পর্যন্ত ২০ লাখ ৭৭ হাজার ৪৪২ কপি অর্থাৎ চাহিদার ৫৭ শতাংশ বই সরবরাহ করা হয়েছে। যদিও রবিবার পর্যন্ত সেই সংখ্যা কিছুটা বৃদ্ধির কথা রয়েছে। সিলেট জেলা শিক্ষা অফিস সূত্র আরও জানিয়েছে, মাধ্যমিক স্তরে ২৬ লাখ ৭০ হাজার ১৩২ কপির চাহিদার বিপরীতে প্রাপ্তি ১৩ লাখ ২২ হাজার ২৭৭ কপি অর্থাৎ ৫০ শতাংশ। দাখিল স্তরে ৫ লাখ ৮৩ হাজার ৭৬০ কপি বইয়ের চাহিদার বিপরীতে প্রাপ্তি ৪ লাখ ১ হাজার ৮৮৫ কপি অর্থাৎ ৬৯ শতাংশ। ইবতেদ্বায়ি (১ম থেকে ৫ম) স্তরে ৩ লাখ ৩৯ হাজার ২০০ কপি অর্থাৎ শতভাগ বই সরবরাহ করা হয়েছে। ইংরেজী ভার্সন স্কুলে ২ হাজার ৮৮০ কপি অর্থাৎ শতভাগ বই পৌঁছানো হয়েছে। এসএসসি ভোকেশনালের ক্ষেত্রে ৪৮ হাজার ৯৮০ কপির চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ হয়েছে ৩ হাজার ৮২০ কপি যা চাহিদার মাত্র ৮ শতাংশ। দাখিল ভোকেশনালে ৭০০ কপি চাহিদার শতভাগ সরবরাহ করা হয়েছে। কারিগরি ট্রেড স্তরে ১২ হাজার ২০ কপি বইয়ের চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ ৬ হাজার ৬৮০ কপি যা চাহিদার ৫৬ শতাংশ। সিলেট বিভাগীয় মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অফিস (মাউশি) এর আঞ্চলিক উপপরিচালক জাহাঙ্গীর কবীর আহাম্মদ বলেন, মাধ্যমিক স্তরের বই প্রতিদিনই আসছে। তাই প্রাপ্তির সংখ্যাটা প্রতিদিনই পরিবর্তিত হচ্ছে। আমাদের কাছে তথ্য আছে অধিকাংশ জেলায় ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ বই চলে এসেছে। ইতোমধ্যে ইবতেদ্বায়ি (১ম থেকে ৫ম) স্তরে সব জেলায় শতভাগ বই সরবরাহ করা হয়েছে। তিনি বলেন, পুরাতন কারিকুলামের শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে তেমন সমস্যা নেই। তবে নতুন কারিকুলামের শিক্ষার্থীদের বই নিয়ে সঙ্কটটা বেশি। এই সমস্যা শুধু সিলেট নয়, সারাদেশেই বিদ্যমান রয়েছে। জানুয়ারি মাসের মধ্যে মাধ্যমিক স্তরে শতভাগ বই পৌঁছে যাবে বলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন
Share on Facebook
Facebook
Tweet about this on Twitter
Twitter
Email this to someone
email
Print this page
Print
Pin on Pinterest
Pinterest

দৈনিক নবচেতনার ইউটিউব চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করুন