ঢাকা, সোমবার, ২৭শে জুন, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ, ১৩ই আষাঢ়, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

রিজার্ভ ৪২ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে

দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের পরিমাণ আবার ৪২ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে। আমদানি ব্যয় বাড়ার পরিপ্রেক্ষিতে মাত্র এক সপ্তাহ আগেই প্রায় সাত বিলিয়ন মার্কিন ডলার রিজার্ভ কমার তথ্য সামনে এসেছিল। এরপর মাত্র ছয় কার্যদিবসের মধ্যে ফের ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে রিজার্ভ।
বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ তথ্য বলছে, নিম্নমুখী ধারা কাটিয়ে দেশে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের পরিমাণ সপ্তাহের ব্যবধানে আবারো ৪২ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে। বর্তমান আমদানি ধারা অনুযায়ী, এ মুহূর্তে যে পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা মজুত আছে তা দিয়ে অন্তত ছয় মাসের আমদানি ব্যয় মেটানো সম্ভব।

গত বছরের আগস্টে রিজার্ভ বেড়ে ৪৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ছাড়িয়ে যায়। তবে এশিয়ান ক্লিয়ারিং ইউনিয়নে (আকু) পরিশোধের পর চলতি মাসের ৯ মে তা কমে ৪৪ দশমিক ১১ বিলিয়ন ডলারে নেমে আসে।

আমদানি ব্যয় হিসাবে আকুর দেনার প্রায় ২ দশমিক ২৩ বিলিয়ন ডলার পরিশোধের পর গত ১০ মে রিজার্ভ আরো কমে নামে ৪১ বিলিয়ন ডলারে। ঐদিন স্থিতি ছিল ৪১ দশমিক ৯৫ বিলিয়ন ডলার।

রিজার্ভে নতুন করে ২ দশমিক ৬ মিলিয়ন ডলার যুক্ত হওয়ায় বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪২ দশমিক ২১ বিলিয়ন ডলারে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদন মতে, রিজার্ভ থেকে দায় পরিশোধের পর কিছু অর্থ যোগ হয়েছে। প্রায় ছয় কার্য দিবস পরে রিজার্ভে ২ দশমিক ৬ মিলিয়ন ডলার যুক্ত হয়ে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪২ দশমিক ২১ বিলিয়ন ডলারে। এ পরিমাণ মজুত দিয়ে আগামী ছয় মাসের আমদানি ব্যয় মেটানো যাবে।

চলতি মে মাসের প্রথম ১২ দিনে বিভিন্ন দেশে কর্মরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের পাঠানো রেমিট্যান্স এসেছে ৮৩৬ দশমিক ১৯ মিলিয়ন বা ৮৩ কোটি ৬১ লাখ ডলার। যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় (এক ডলার সমান ৮৭.৫০ পয়সা ধরে) ৭ হাজার ৪১৬ কোটি টাকা। মে মাসের প্রথম ১২ দিনে দৈনিক গড়ে ৬৯ দশমিক ৬৮ মিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স এসেছে। দৈনিক গড় প্রবাহ বিবেচনায় প্রবাসী আয়ের এ ধারা আগের মাস এপ্রিলের চেয়ে ঊর্ধ্বমুখী।

সবচেয়ে বেশি রেমিট্যান্স আসে সৌদি আরব (১০৫ কোটি ১১ লাখ ডলার) থেকে, যা মোট রেমিট্যান্সের ২০ দশমিক ৭৮ শতাংশ। এরপর রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ১৬ দশমিক ২৮ শতাংশ, যুক্তরাজ্য ১১ দশমিক ৩৩ শতাংশ, আরব আমিরাত ৮ দশমিক ৯২ শতাংশ এবং কুয়েত থেকে ৭ দশমিক ৮৩ শতাংশ রেমিট্যান্স এসেছে।