ঢাকা, সোমবার, ১৭ই জানুয়ারি, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ, ৩রা মাঘ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

বুড়িগঙ্গার আদি চ্যানেল হবে লন্ডনের টেমস

প্রায় ৭ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের বুড়িগঙ্গার আদি চ্যানেলের জমি অবৈধভাবে দখল করে হাজার হাজার স্থাপনা গড়ে উঠেছে। চ্যানেলটি উদ্ধার করে লন্ডনের টেমস নদীর আদলে গড়ে তোলার মহাপরিকল্পনা হাতে নিয়েছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন (ডিএসসিসি)।
ডিএসসিসি সূত্র জানায়, বুড়িগঙ্গার হারানো ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে এসব অবৈধ দখলকৃত জমি উদ্ধার করে চ্যানেলটিকে পুনর্খনন করা হবে। পরিকল্পনাটি বাস্তবায়ন হলে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ অনেক খালের পানি প্রবাহ স্বাভাবিক হবে। সেই সঙ্গে যুগযুগ ধরে চলা ঢাকার জলাবদ্ধতা নিরসনে বিশেষ গুরুত্ব বহন করবে।
প্রায় ৭ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের চ্যানেলটির এলাকাজুড়ে থাকবে নানা নান্দনিক স্থাপনা। প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে ঢাকার নৌপথে যানবাহন চালু করা হবে। তবে নদীতীরে বিভিন্ন আবাসন এবং ব্যক্তিগত প্রতিষ্ঠান ও স্থাপনা থাকায় প্রকল্পটি বাস্তবায়নে চ্যালেঞ্জ দেখছেন নগরবিদরা।

বুড়িগঙ্গার কোলঘেষে গড়ে ওঠা ৪০০ বছরের ঐতিহ্যের নগরী পুরান ঢাকা। দখল দূষণে দিনকে দিন জৌলুস হারিয়েছে নদী। কাগজে কলমে নদী থাকলেও অস্তিত্ব বিলীন প্রায়। অথচ এই নদীপথ সচল ও পরিবশেবান্ধব করলে লন্ডনের টেমস নদীর আদলে গড়ে তোলা সম্ভব।

চ্যানেলটি উদ্ধারে এরই মধ্যে মহাপরিকল্পনা হাতে নিয়েছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন। প্রকল্প এলাকায় ওয়াকওয়ে, পানি প্রবাহ ফেরানো, নদীতীরে হোটেল-রেস্তোরাঁসহ গড়ে তোলা এবং দৃষ্টিনন্দন বহু স্থাপনার কথাও ভাবছে ডিএসসিসি।

ডিএসসিসি সূত্রে জানা গেছে, এরই মধ্যে নদীর দুই পাশের জমির সীমানা চিহ্নিত করা হয়েছে। উদ্ধারকৃত জমি কাজে লাগাতে দু’পাড়ে নাগরিকদের বিনোদনের জন্য হাতিরঝিলের আদলে স্থাপনা নির্মাণ করা হবে।

বুড়িগঙ্গার আদি চ্যানেল উদ্ধারের বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (পুর) তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. খায়রুল বাকের বলেন, রাজধানীর ইসলামবাগ থেকে বুড়িগঙ্গা নদীর আদি চ্যানেল উদ্ধার করার কাজ শুরু হয়ে শহিদনগর, হাজারীবাগ, শিকদার মেডিকেল হয়ে বুড়িগঙ্গা নদীর সঙ্গে মিলিত হবে।

তিনি বলেন, এর দূরত্ব প্রায় ৭ কিলোমিটার। এই কাজ করতে কনসালটেন্ট নিয়োগের কাজ চলছে। নিয়োগ পাওয়ার পরেই তারা ডিজাইন ও সার্ভের কাজ শুরু করবে। ডিজাইন করার কাজ শেষ হওয়ার পর স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের বরাবর প্রকল্প প্রস্তাব করা হবে। তারা যদি ওকে করে তারপরে একনেক সভায় স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় প্রস্তাব করবে।

প্রকৌশলী মো. খায়রুল বাকের আরো বলেন, বুড়িগঙ্গা আদি চ্যানেল উদ্ধার হলে রাজধানীবাসী দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা থেকে মুক্তি পাবে। বিশেষ করে ঢাকার লালবাগ, ধানমন্ডি, হাজারীবাগ এবং রায়েরবাজার অঞ্চলের জলাবদ্ধতা নিরসনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। শুধু তাই নয় বুড়িগঙ্গা নদীতে কোনো দূষিত পানি ফেলা হবে না, পরিশোধিত করেই নদীতে পানি ফেলা হবে।

ডিএসসিসিরি প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ফরিদ আহম্মাদ বলেন, বুড়িগঙ্গার আদি চ্যানেল উদ্ধার করার জন্য একটি পরিকল্পনা হাতে নেয়া হয়েছে। চ্যানেলটি উদ্ধার করার পরে নদীর পাড়কে ঘিরে নান্দনিক স্থাপনায় গড়ে তুলা হবে।