ঢাকা, মঙ্গলবার, ১১ই মে, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ২৮শে বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

ভাসানচর নিয়ে জাতিসংঘের আপত্তি ঘুচলো

কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলো থেকে শরণার্থীদের ভাসানচরে স্থানান্তর নিয়ে প্রথম থেকে জাতিসংঘ আপত্তি দেখিয়ে আসছিল। সম্প্রতি ভাসানচর ঘুরে এসে ইতিবাচক অবস্থানের কথা জানিয়েছে জাতিসংঘ।

ভাসানচরে রোহিঙ্গাদের বসবাস নিয়ে কিছু সুপারিশও করেছে সংস্থাটি।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি ভাসানচর ঘুরে আসা জাতিসংঘের প্রতিনিধিদল পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে একটি প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। ভাসানচরে রোহিঙ্গাদের দেওয়া সুযোগ-সুবিধার বিষয়ে ইতিবাচক মনোভাব দেখানো হয়েছে প্রতিতবেদনে। তবে জাতিসংঘের প্রতিবেদনে কিছু সুপারিশও করা হয়েছে।

গত ১৭ মার্চ তিন দিনের সফরে ভাসানচরে স্থানান্তরিত রোহিঙ্গাদের দেখতে যান জাতিসংঘের ১৮ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল। ওই সফরে জাতিসংঘের প্রতিনিধি দলে ছিলেন বাংলাদেশে রোহিঙ্গাদের মানবিক সহায়তার কাজে যুক্ত সংস্থাটির কর্মকর্তারা। ভাসানচরে সেটিই জাতিসংঘ প্রতিনিধিদলের প্রথম সফর ছিল।

জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআরের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘ভাসানচরে স্থানান্তরিত রোহিঙ্গাদের নিয়ে বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে কাজ করতে চায় জাতিসংঘ। তারই ধারাবাহিকতায় ভাসানচর পরিদর্শন করেছে জাতিসংঘের প্রতিনিধিদল।’

এ বছরের ফেব্রুয়ারিতে ভাসানচরে স্থানান্তরিত রোহিঙ্গাদের প্রথম দেখতে যায় ইসলামিক সহযোগিতা সংস্থার (ওআইসি) একটি প্রতিনিধিদল।

সর্বশেষ চলতি মাসের শুরুর দিকে ভাসানচরের রোহিঙ্গাদের দেখতে যান ঢাকায় নিযুক্ত ১০ বিদেশি রাষ্ট্রদূত। সফর শেষে তারা ইতিবাচক প্রতিবেদন দিয়েছেন বলে জানা যায়।

কক্সবাজারের ক্যাম্প থেকে এক লাখ রোহিঙ্গাকে অধিকতর নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নিতে দুই হাজার ৩১২ কোটি টাকা ব্যয় করে ভাসানচর প্রস্তুত করে বাংলাদেশ সরকার। বছর দুয়েক আগেও ভাসানচরে রোহিঙ্গাদের স্থানান্তর করা সম্ভব ছিল না আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নিষেধাজ্ঞার কারণে।

তবে গত বছরের ডিসেম্বর থেকে এক হাজার ৬৪২ জন রোহিঙ্গাকে নিয়ে ভাসানচরে স্থানান্তর প্রক্রিয়া শুরু করে সরকার। এ পর্যন্ত ছয় দফায় ১৩ হাজারের বেশি রোহিঙ্গাকে ভাসানচরে নেওয়া হয়েছে।