ঢাকা, সোমবার, ১লা মার্চ, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ১৬ই ফাল্গুন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

নওগাঁয় আরকো’র নির্বাহী পরিচালকের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ

নওগাঁয় বেসরকারি সংস্থা (এনজিও) আরকো’র নির্বাহী পরিচালক সজল কুমার চৌধুরীর বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দূর্নীতির অভিযোগ তুলেছেন সংস্থার বহিস্কৃত সদস্যরা। শনিবার দুপুরে সদর উপজেলার বোয়ালিয়া গ্রামে আরকো’র প্রধান কার্যালয়ের সামনে এক সমাবেশে সংস্থার বহিস্কৃত প্রতিষ্ঠাতা পরিচালনা কমিটির সদস্য ও গ্রামবাসীরা লিখিতভাবে এই অভিযোগ তুলে ধরেন। লিখিত এই অভিযোগে বলা হয়, ১৯৯৬ সালে আরকো এনজিওটি প্রতিষ্ঠিত হয়। তৎকালীন সময়ে বোয়ালিয়া গ্রামের কয়েকজন বেকার যুবক আর্থ সামাজিক উন্নয়নের লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠানটি তৈরি করেন। সেই সময় সংস্থাটি একটি পরিচালনা কমিটি গঠন করে কার্যক্রম চালিয়ে আসছিলো। তৎকালীন সময়ে মরহুম মুক্তিযোদ্ধা শামসুল হককে সভাপতি করে ১১সদস্য বিশিষ্ট একটি কমিটি দিয়ে প্রতিষ্ঠানটি ২০১১সাল পর্যন্ত পরিচালিত হয়ে আসছিলো। কিন্তু পরবর্তি সময়ে হঠাৎ কমিটির নির্বাহী পরিচালক সজল কুমার চৌধুরী তার ইচ্ছে মাফিক নিয়ম বহির্ভূতভাবে দুইজন নির্বাহী প্রতিষ্ঠাতা সদস্যকে সাধারন পরিষদ ও নির্বাহী কমিটির অনুমোদন ছাড়াই বহিস্কার করেন। পরবর্তিতে আরো তিনজন প্রতিষ্ঠাতা সদস্যকে একইভাবে বহিস্কার করেন। এমতাবস্থায় সংস্থাটিকে বাঁচিয়ে রাখার লক্ষ্যে নির্বাহী পরিচালক বরাবর প্রতিষ্ঠাতা সদস্যরা (বহিস্কৃত সদস্যসহ) বারবার যোগাযোগ করা হলেও সজল কুমার চৌধুরী কোন সুষ্ঠু পদক্ষেপ গ্রহণ না করায় বহিস্কৃত সদস্য ও গ্রামবাসীরা এই সমাবেশের আয়োজন করে। সমাবেশে বক্তারা বলেন- যদি দ্রুত সজল কুমার চৌধুরী বিষয়টি বহিস্কৃত প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ও গ্রামবাসীদের নিয়ে বসে সমাধান না করেন তাহলে সংস্থাটিকে বাঁচানোর লক্ষ্যে অচিরেই রাজপথে নেমে তার বিরুদ্ধে মানববন্ধন ও সংবাদ সম্মেলনসহ কঠোর আন্দোলনে নামা হবে বলে হুশিয়ারী উচ্চারণ করা হয়। এসময় সমাবেশে সংস্থাটির বহিস্কৃত প্রতিষ্ঠাতা সদস্য মতিউর রহমান, জয়নুল আবেদীন, সাইদুল ইসলাম (সজল), আশরাফুল ইসলাম ও নুরে আলম সিদ্দিকীসহ গ্রামের প্রায় শতাধিক বাসিন্দা উপস্থিত ছিলেন। আরকো’র নির্বাহী পরিচালক সজল কুমার চৌধুরী বলেন, যারা আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছে তাদের বিরুদ্ধে ২০১৪ সালে প্রায় দুই কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে। তারা গ্রাহকের নিকট ঋণ দিয়েছে বলে নিজেরাই আত্মসাত করেছে। বিষয়টি যখন জানাজানি হয় এবং তাদেরকে টাকা পরিশোধ করতে হবে তখন তারা নিজেরাই সংস্থা থেকে বেরিয়ে যান। এরপর থেকে তারা নানা তালবাহানা শুরু করে। পাওনা টাকা পরিশোধ করলে তারা সংস্থায় ফিরে আসতে পারবে।