নরসিংদীর মনোহরদীতে প্রবাসীর স্ত্রীকে অপহরণ,৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি

মো.শফিকুল ইসলাম মতি,নরসিংদী প্রতিনিধি:নরসিংদীর মনোহরদীতে অপহরনের একমাসেও উদ্ধার হয়নি প্রবাসীর স্ত্রী। বুধবার দুপুরে আদালতে বারান্ধায় কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন মা সালেহা বেগম। তিনি গনমাধ্যম কর্মীদের জানান গত এক মাস পূর্বে হেতেমদী এলাকায় স্বামীর বাড়ী থেকে একাই বেড় হচ্ছিলেন কেনাকাটার জন্য, রাস্তায় অজ্ঞাত ব্যাক্তি প্রবাসির স্ত্রীর নাকের সামনে একটুকরা কাগজ ধরে ঠিকানাটা পড়ে দিতে বলে। আর তখনই মেয়ে সৌরবী আক্তার ঐ ব্যাক্তির নিয়ন্ত্রনে চলে যায়। হাটতে থাকে তার পিছনে সে যাই বলেন সেটিই করেন প্রবাসীর স্ত্রী। এর পর থেকেই প্রবাসীর স্ত্রী সৌরবী আক্তার নিখোজ। বিষয়টি মেয়ের বাবার বাড়ীতে জানালে বিভিন্ন স্থানে অনেক খোজ তালাশ করে সন্ধানে ব্যর্থ হয় আত্নীয় স্বজন। এরই মধ্যে অপরিচিত একটি মোবাইল নাম্বার থেকে কল আসে প্রবাসীর স্ত্রী তার কাছে রয়েছে। ফেরৎ পেতে দাবী করে ৫ লাখ টাকা মুক্তিপন।  মামলা অথবা কাউকে জানালে আর মুক্তিপনের টাকা না দিলে অপহৃতাকে মেরে ফেরার হুমকি দেয় অপহরন কারীরা।  এ ঘটনায় অপহৃতার মা সালেহা বেগম বাদী হয়ে মনোহরদী থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে বলে জানান ভুক্তভোগী। দায়েরকৃত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়,মনোহরদী উপজেলা হেতেমদী গ্রামের বাসিন্দা ও সৌদি প্রবাসী জুলহাস মিয়ার স্ত্রী সৌরবী আক্তার(১৯) দুপুরে মনোহরদী বাজারে প্রয়োজনীয় কেনাকাটা করার জন্য বাড়ী থেকে বেড় হন। তখনই রাস্তায় অজ্ঞাত ব্যাক্তি একটুকরা কাগজে ঠিকানা পড়ে দেওয়ার জন্য আবদার করেন মেয়ের কাছে। আর কাগজটি নাকের কাছে নেওয়ার সাথে সাথেই অজ্ঞান হয়ে ঐ ব্যাক্তির নিয়ন্ত্রনে চলে যায় প্রবাসীর স্ত্রী সৌরবী আক্তার। আর এর পর থেকেই সে নিখোজ রয়েছে। প্রবাসীর স্ত্রীকে পাওয়ার জন্য বিভিন্ন স্থানে তালাশ করতে থাকেন মাসহ আত্নীয় স্বজন। তখনই অপরিচিত একটি মোবাইল নম্বর থেকে কল আসে মেয়ে তার নিকট রয়েছে। মেয়েকে ফেরৎ পেতে দাবী করে ৫ লক্ষ টাকা মুক্তিপন। টাকা না দিলে বা কোন অভিযোগ করলে ক্ষতি করাসহ জীবনে মেরে ফেলার হুমকি দেয় অপহরন কারীরা। এ ঘটনায় সালেহা বেগম মনোহরদী থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। সালেহা বেগম বলেন, অপহরণকারীরা মেয়েকে ছেড়ে দিতে ৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করছে। কিন্তু তারা কোথায় আছে বা টাকা কীভাবে দিতে হবে বলছে না একেক সময় একেক কথাবলছেন। আমি গরিব মানুষ এতটাকা কি করে দিব জানিনা মেয়ে জীবত আছে না মেরেফেলছে অপহনকারীরা। আমি আমার মেয়েকে জীবীত চাই। মনোহরদী থানার ওসি মুহাম্মদ আব্দুল জব্বার বলেন, এ ব্যাপারে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। যে নম্বর দিয়ে অপহরণকারী চক্র যোগাযোগ করেছে সেই নম্বরটি ট্যাগ করে তাদের অবস্থান জানার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।

মন্তব্য করুন