ePaper

ফরিদপুরে ৪৭তম জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সপ্তাহ ও বিজ্ঞান মেলার উদ্বোধন—“উদ্ভাবননির্ভর বাংলাদেশ” গড়ার অঙ্গীকার

ব্যুরো চীফ,ফরিদপুর

“উদ্ভাবননির্ভর বাংলাদেশ গঠনে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি”—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে ফরিদপুরে শুরু হয়েছে ৪৭তম জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সপ্তাহ ও বিজ্ঞান মেলা-২০২৬। রবিবার (১৯ এপ্রিল) সকালে তারার মেলা ঈশান মেমোরিয়াল স্কুল প্রাঙ্গণে আয়োজিত বর্ণাঢ্য উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামরুল হাসান মোল্লা। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পুলিশ সুপার মো. নজরুল ইসলাম, সিভিল সার্জন ডা. মাহমুদুল হাসান এবং জেলা শিক্ষা অফিসার বিষ্ণু পদ ঘোষাল। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. সোহরাব হোসেন। এছাড়া বিভিন্ন উপজেলার বাছাইকৃত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক প্রতিনিধি, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

জেলা প্রশাসনের আয়োজনে এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের পৃষ্ঠপোষকতায় অনুষ্ঠিত এই মেলায় শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী চিন্তা ও প্রযুক্তিগত দক্ষতা তুলে ধরার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। মেলার অংশ হিসেবে বিজ্ঞান অলিম্পিয়াড, কুইজ প্রতিযোগিতা এবং বিভিন্ন উদ্ভাবনী প্রকল্প প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছে, যা শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিজ্ঞানমনস্কতা ও প্রযুক্তি জ্ঞানের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

আয়োজক সূত্রে জানা যায়, সাধারণত এই বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সপ্তাহের কার্যক্রম কয়েকদিনব্যাপী হলেও মূল বিজ্ঞান মেলা ২ থেকে ৩ দিন অনুষ্ঠিত হয়। স্বল্প সময়ের মধ্যে শিক্ষার্থীদের প্রকল্প প্রদর্শন, বিচার কার্যক্রম সম্পন্ন এবং দর্শনার্থীদের আকর্ষণ ধরে রাখার বিষয়টি বিবেচনায় রেখে এই সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়। উপজেলার বিভিন্ন স্কুল ও কলেজের শিক্ষার্থীরা তাদের নিজস্ব উদ্ভাবনী প্রকল্প নিয়ে অংশগ্রহণ করছে, যা ভবিষ্যতের প্রযুক্তিনির্ভর বাংলাদেশ গঠনে সহায়ক ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, বর্তমান বিশ্বে টিকে থাকতে হলে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির বিকল্প নেই। তাই শিক্ষার্থীদের ছোটবেলা থেকেই বিজ্ঞানচর্চায় উদ্বুদ্ধ করতে এ ধরনের আয়োজন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তারা আরও বলেন, এই মেলা শুধু প্রতিযোগিতা নয়, বরং নতুন কিছু শেখার এবং উদ্ভাবনী চিন্তা বিনিময়ের একটি বড় প্ল্যাটফর্ম।তবে আয়োজনে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় সংবাদকর্মীরা। ব্যানারে আয়োজনের শিরোনাম ও অতিথিদের নাম উল্লেখ থাকলেও বিস্তারিত সময়সূচি, অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানের তালিকা কিংবা মিডিয়াকে অবহিত করার নির্দিষ্ট কোনো তথ্য উল্লেখ করা হয়নি। অনেক সংবাদকর্মী জানান, তারা আনুষ্ঠানিক কোনো প্রেস নোট বা আমন্ত্রণপত্র পাননি, ফলে কাভারেজে কিছুটা বিঘ্ন ঘটে।সরকারি আয়োজনের ক্ষেত্রে প্রচলিত প্রশাসনিক রীতি অনুযায়ী, জেলা বা উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি সম্পর্কে স্থানীয় গণমাধ্যমকে অবহিত করা একটি দায়িত্বশীল ও প্রত্যাশিত প্রক্রিয়া। যদিও এটি সব ক্ষেত্রে কঠোর আইনগত বাধ্যবাধকতা নয়, তবে তথ্যপ্রবাহ নিশ্চিত করা এবং জনসম্পৃক্ততা বাড়ানোর স্বার্থে প্রেস নোট বা মিডিয়া ব্রিফিং প্রদানকে প্রশাসনিকভাবে ভালো চর্চা (মড়ড়ফ ঢ়ৎধপঃরপব) হিসেবে বিবেচনা করা হয়। সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে, ভবিষ্যতে এ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ সরকারি আয়োজনের ক্ষেত্রে গণমাধ্যমকে আগাম অবহিত করা হলে তা আরও ব্যাপকভাবে প্রচার পাবে এবং সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণও বাড়বে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *