সাহেদ চৌধুরী , ফেনী জেলা প্রতিনিধি
ফেনীতে বিবাহিত দম্পতিকে হয়রানির অভিযোগে আদালতে মামলা করেন তাহমিনা আক্তার স্মৃতি (১৯) নামে এক নারী। ০৩ জুন ২৬ ইং তারিখে সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্টেট (ফুলগাজী আমলী) আদালতে মামলা করেন, যাহার ক্রমিক নং- ২৭৬৬৬৯। বাদীর পিতার নাম- আলম মিয়া, স্বামী- মাসুদ, সাং- উত্তর দৌলতপুর, ডাকঘর- ফুলগাজী, থানা- ফুলগাজী, জেলা- ফেনী। মানলায় আসামিরা হলেন আলম মিয়া (৫৫), পিতা- মৃত বদিউল আলম, জাকির হোসেন (৪৫), পিতা- মৃত বদিউল আলম, মোঃ মানিক (৪৫), পিতা- তাজুল ইসলাম, কুসুম বেগম (৩৮), স্বামী- মৃত বদিউল আলম। সর্বসাং- গ্রাম- হারাখাল, ডাকঘর- উত্তরদা, থানা- লাকসাম, জেলা- কুমিল্লা। মামলায় স্বাক্ষীরা হলেন, মোহাং মাসুদ (২৮), মাইনউদ্দিন (৫০), পিতা- মৃত বদিউল আলম, মীর হোসেন (৪০) পিতা- আবদুল জলিল, রহিমা বেগম (৬০), স্বামী- আবদুল জলিল, জসিম (৪০), পিতা- আবদুল জলিল। সর্বসাং- গ্রাম- হারাখাল, ডাকঘর- উত্তরদা, থানা- লাকসাম, জেলা- কুমিল্লা। তাজুল ইসলাম (৬০), পিতা- আইয়ুব আলী, সাং- দৌলতপুর, ফুলগাজী। মোঃ মিজান (৪০), পিতা- শাহ জাহান, সাং- কাউতলী, পরশুরাম, উভয় জেলা-ফেনী। বাদীর অভিযোগ ও মামলা সূত্রে জানাযায়, ১ম ঘটনার তারিখ, সময় ও স্থান- ০১/০৬/২০২৬ইং, সময়- সন্ধ্যা ৭ টা, স্থান- ১নং আসামীর বসত ঘর। ২য় ঘটনার তারিখ, সময় ও স্থান- ০২/০৬/২০২৬ইং, রাত অনুমান ৮.০০ ঘটিকায় মোবাইল ফোনে।
বাদী তাহমিনা আক্তার স্মৃতি জানান, তিনি সহজ, সরল, আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল মহিলা। অপরদিকে আসামীগণজোর জুলুমবাজ ব্যক্তি। অত্র মামলার ১নং আসামী বাদীনির পিতা, ২নং আসামী বাদীনির জেঠা এবং ৩নং আসামী বাদীনির মামা হন। অত্র মামলার বাদীনি দীর্ঘ ৫ বছর প্রেমের সম্পর্কের পর অত্র মামলার ১নং স্বাক্ষী মাসুদ কে বিগত ০২/০২/২০২৬ইং তারিখে ৮ নং ওয়ার্ড, ফেনী পৌরসভার কাজী অফিসে উপস্থিত হয়ে ৩ লক্ষ
টাকা মোহরানা ধার্য্যে মুসলিম শরাশরিয়তের বিধান মোতাবেক বিবাহ কার্য সম্পাদন করেন। বিবাহ কার্য সম্পাদনের পর বাদীনি তাহার পিতা মাতাকে ১নং স্বাক্ষীর সহিত তাহার বিবাহ সম্পন্ন হইয়াছে মর্মে জানাইলে তাহার পিতা ১নং আসামী বর্ণিত বিবাহ মানিয়া নিতে অস্বীকার করেন এবং বাদীনিকে স্বেচ্ছায় বাড়ীতে ফেরত যাওয়ার জন্য বলেন। বাদীনি তাহার পিতা ১নং আসামীর কথামত নিজ বাড়ী লাকসামে ফেরত না গেলে ১নং আসামী বাদীনির মাতাকে ৪নং আসামীকে বাদী করিয়া অত্র মামলার বাদীনির স্বামী, স্বামীর বোনের স্বামীদেরকে আসামী করিয়া বিগত ০৯/০২/২০২৬ইং তারিখে লাকসাম থানার মামলা নং- ০৩, তারিখ- ০৯/০২/২০২৬ইং দায়ের করেন। পরবর্তীতে লাকসাম থানা পুলিশ বিগত ২০/০২/২০২৬ইং তারিখে লাকসাম থানার মামলা নং ০৩ মূলে অত্র বাদীনির স্বামী ১নং স্বাক্ষীকে গ্রেফতার করেন এবং বাদীনিকে সহ আদালতে উপস্থাপন করিলে বিজ্ঞ আদালত ১নং স্বাক্ষীর জামিন নামঞ্জুর করে জেল হাজতে প্রেরণ করেন এবং অত্র মামলার বাদীনিকে তাহার ইচ্ছার বিরুদ্ধে মাতার শারীরিক নির্যাতন করেন এবং বলেন বর্ণিত কক্ষ হইতে বাহির হইলে বা বাদীনির স্বামী ১নং স্বাক্ষীর সহিত কোন রকমের যোগাযোগ করিলে প্রাণে হত্যা করিবে। অতঃপর বাদীনির স্বামী বাদীনির মাতা কর্তৃক দায়েরকৃত লাকসাম থানার মামলা নং- ০৩, তারিখ-০৯/০২/২০২৬ইং এ বিজ্ঞ আদালত হইতে জামিন প্রাপ্ত হন এবং অত্র বাদীনির মাতা হেফাজতে প্রদান করেন। তৎপর অত্র মামলার বাদীনি সাবালিকা হওয়া সত্বেও অত্র মামলার ১নং আসামী সহ অপরাপর আসামীগন বাদীনিকে ঘটনাস্থল বাড়ীর দোতলায় একটি কক্ষে আটক করিয়া শারীরিক নির্যাতন করেন এবং বলেন বর্ণিত কক্ষ হতে বাহির হলে বা বাদিনীর স্বামী ১নং স্বাক্ষীর সহিত কোন রকম যোগাযোগ করিলে প্রাণে হত্যা করিবে। এরপর বাদিনীর স্বামী বাদিনীর মাতা কর্তৃক দায়েরকৃত লাকসাম থানার মামলা নং -০৩, ০৯/০২/২৬ ইং এ বিঙ্গ আদালত হতে জামিন হয় এবং বাদিনীর মাতা- পিতার সহিত যোগাযোগ করিলে অত্র মামলার বাদীনির পিতা বিগত ০১/০৬/২০২৬ইং তারিখে স্বাক্ষীগণের উপস্থিতিতে ঘটনাস্থলে বাড়ীতে এক সালিশী বৈঠকের আয়োজন করেন।
অতঃপর ঘটনার তারিখ, সময় ও স্থানে বাদীনির স্বামীসহ স্বাক্ষীগণ আসামীগণের বাড়ীতে সালিশী বৈঠকে উপস্থিত হন এবং সালিশী বৈঠক শুরু হইলে বাদীনির স্বামী অত্র বাদীনি কোথায় বাদীনির উপস্থিতি ব্যাতিরেকে কিভাবে সালিশ হইবে মর্মে ১নং আসামীকে জিজ্ঞেস করিলে ১নং আসামী বাদীনিকে উপস্থিত সালিশদারগণের সম্মুখে উপস্থিত করিবে না মর্মে জানান এবং অত্র মামলার সালিশে উপস্থিত স্বাক্ষীগণের উপর ১টি কক্ষে গেলে তথায় বাদীনিকে হাত, চোখ, মুখ বাধা অবস্থায় পান এবং বাদীনির কপালে মারধর চিহ্ন দেখতে পান। অতঃপর অত্র মামলার বাদীনি তাহার আপন চাচা ২নং স্বাক্ষীসহ সালিশদারগনের সহযোগিতাতায় বর্ণিত ঘটনাস্থলে বাড়ী হইতে তাহার স্বামী এর সহিত ফেনীতে চলিয়া আসে।
ফেনীতে আসার পর ২য় ঘটনার তারিখ ও সময়ে বাদীনির স্বামীর ফোনে বাদীনির পিতা ফোন করিয়া বাদীনির সাথে কথা বলিতে চাইলে বাদীনির স্বামী বাদীনিকে মোবাইল দিলে বাদীনি পিতা বাদীনিকে তাহার পিতার বাড়ীতে চলিয়া যাইতে বলে। অন্যথায় বাদীনিকে যদি ১নং আসামীর বাড়ী থেকে আবার নিতে পারে। তাহলে জবাই করিয়া নদীতে ফেলিয়া দিবে মর্মে হুমকি প্রদান করে। বাদীনি বর্তমানে তাহার স্বামীর বাড়ী ফুলগাজীতে অবস্থান করায় অত্র বিজ্ঞ আদালতে অত্রাকারে অত্র মামলা আনয়ন করিলেন। স্বাক্ষীরা ঘটনা জানে তাহারা স্বাক্ষী দিয়া অত্র মামলাটি প্রমাণ করিবে বলে বাদী জানান।
