ePaper

কৃষি উদ্যোক্তা ফারুকের অনন্য উদ্যোগ: মাটির নিচে ড্রেন নির্মাণে বাঁচল হাজার বিঘা জমির ধান

মোঃ জারিফ হোসেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ

চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার ঝিলিম ইউনিয়নের পাউলি এলাকায় কৃষি ও কৃষকের প্রতি অনন্য দায়িত্ববোধের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন উমর ফারুক নামের এক তরুণ কৃষি উদ্যোক্তা। স্থানীয় প্রায় এক হাজার বিঘা ফসলি জমির দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা দূর করতে সম্পূর্ণ নিজের খরচে মাটির নিচ দিয়ে আন্ডারগ্রাউন্ড ড্রেন নির্মাণ করেছেন তিনি। এর ফলে বর্ষার সময় ৫টি মাঠের অতিরিক্ত পানি দ্রুত ও নির্বিঘ্নে খালে চলে যাওয়ায় ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা পাচ্ছে হাজার বিঘা জমির ফসল, স্বস্তি ফিরেছে স্থানীয় হাজারো কৃষকের জীবনে।

?স্থানীয় চাষি, বাসিন্দা ও কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, পাউলি এলাকার নবাবগঞ্জ-আমনুরা সড়কে থাকা কালভার্টের নিচ দিয়ে আমনুরা সংলগ্ন দক্ষিণ, দক্ষিণ-পূর্ব ও দক্ষিণ-পশ্চিমের অন্তত পাঁচটি মাঠের বর্ষার পানি নিষ্কাশিত হয়। এতদিন কোনো নির্দিষ্ট ড্রেন না থাকায় সরাসরি ধানের জমির ওপর দিয়েই বিপুল পরিমাণ পানি প্রবাহিত হতো। ফলে নিচু এলাকার জমিগুলো তলিয়ে গিয়ে ফসল মার খেত এবং কৃষকরা চরম লোকসানের মুখে পড়তেন।

?এই দুর্ভোগের চিরস্থায়ী সমাধানে এগিয়ে আসেন কৃষি উদ্যোক্তা উমর ফারুক। কালভার্ট সংলগ্ন নিজের পতিত জমি ভরাট করে সেখানে আধুনিক উপায়ে মাটির তলদেশ দিয়ে ঢালাই করা কংক্রিটের পাইপ বসিয়ে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করেন তিনি। এতে করে উপরের অংশ ভরাট করে ব্যবহারের উপযোগী হলেও নিচে পানি প্রবাহের পথ পুরো সচল থাকে।

?এ উদ্যোগের বিষয়ে কৃষি উদ্যোক্তা উমর ফারুক বলেন, “আমি নিজেও একজন কৃষক, তাই কৃষকদের কষ্টটা বুঝি। কালভার্ট ও সরকারি খালের মাঝের এই জমিতে সবসময় পানি জমে থাকায় কোনো ফসল হতো না। জমিটি ভরাট করে ফলবাগান করার পরিকল্পনা করলেও আশপাশের ৫টি মাঠের হাজার বিঘা জমির পানি নিষ্কাশনের কথা ভেবে পিছপা হইনি। প্রায় ৭ থেকে ৮ লাখ টাকা নিজের পকেট থেকে খরচ করে মাটির নিচ দিয়ে দীর্ঘ ড্রেনটি নির্মাণ করেছি। এখন ওপর দিয়ে ফসলও ফলানো যাচ্ছে, আবার নিচে দিয়ে কৃষকদের ড্রেনের পানিও নিরবচ্ছিন্নভাবে সরছে।”

চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলা ঝিলিম ইউনিয়নের চেয়ারম্যান লুৎফর রহমান জানান, কৃষি উদ্যোক্তা ফারুকের  এই মানবিক ও সময়োপযোগী উদ্যোগে কৃষিতে আমূল পরিবর্তন এসেছে। তিনি বলেন ?পানি সরছে দ্বিগুণ গতিতে: ড্রেনটি নির্মাণের ফলে আগে পানি সরতে যেখানে ৫-৬ দিন লাগত, এখন তা মাত্র ১-২ দিনেই দ্রুত নেমে যাচ্ছে।  ?হাজার বিঘা ফসলী জমি রক্ষা পেয়েছে এই ড্রেন নির্মাণে। যেটা সরকারি ভাবে করা উচিৎ ছিলো সেটা তিনি নিজ উদ্যেগে নিজের খরচে নিজের জমির ওপর দিয়ে বানিয়ে দিয়েছেন। এজন্য কৃষি  উদ্যোক্তা ওমর ফারুক কে ধন্যবাদ জানায়। স্থানীয় কৃষক রহমত আলী বলেন, ধানের ওপর দিয়ে আর পানি না যাওয়ায় নিচু মাঠের প্রায় এক হাজার বিঘা জমির ফসল ক্ষতির হাত থেকে বেঁচে যাচ্ছে। জলাবদ্ধতার স্থায়ী সমাধান পাওয়ায় নতুন উদ্যমে চাষাবাদে ফিরেছেন তারেক রহমান, আব্দুর রহিম ও আবুল কালাম আজাদসহ স্থানীয় শত শত কৃষক। ঝিলিম ইউনিয়নের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা জসিম উদ্দিন জানান, পূর্বে সরাসরি ধানের ওপর দিয়ে অনিয়মিতভাবে পানি পার হতো। তবে কৃষি উদ্যোক্তা উমর ফারুক নিজের খরচে যে আন্ডারগ্রাউন্ড ড্রেনটি নির্মাণ করেছেন, তা দিয়ে এখন খুব সুন্দরভাবে ও স্বাভাবিক নিয়মে নিয়মিত পানি নামছে। কোনো ধরনের বাধা ছাড়াই হাজার বিঘা জমির ফসল রক্ষায় ড্রেনটি অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা পালন করছে।