সাহেদ চৌধুরী,ফেনী জেলা প্রতিনিধি
ফেনী পৌর মৎস্য আড়তে অভিযান চালিয়ে ১০৫ কেজি জেলি পুশ করা গলদা ও বাগদা চিংড়ি জব্দ করেছে উপজেলা প্রশাসন ও মৎস্য অধিদপ্তর। এ ঘটনায় তিনটি মৎস্য আড়তের মালিককে মোট ৯০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) সকাল ৬টার দিকে ফেনী পৌর মৎস্য আড়তে মৎস্য ও মৎস্যপণ্য (পরিদর্শন ও মান নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০২০ বাস্তবায়নে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।অভিযানে বেলাল ফিশিং থেকে ৫৬ কেজি, আল্লাহর দান ফিশিং থেকে ২৪ কেজি এবং এরফান ফিশিং থেকে ২৫ কেজি জেলি পুশ করা গলদা ও বাগদা চিংড়ি জব্দ করা হয়।জেলি পুশ করে চিংড়ির ওজন বাড়ানো, আকার বা গ্রেড পরিবর্তন এবং ক্রেতাদের সঙ্গে প্রতারণা করা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। পাশাপাশি এ ধরনের চিংড়ি মানবস্বাস্থ্যের জন্যও ঝুঁকিপূর্ণ বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।মৎস্য ও মৎস্যপণ্য (পরিদর্শন ও মান নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০২০-এর ৩১ ধারা অনুযায়ী অপরাধ সংঘটিত হওয়ায় মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে জব্দ করা চিংড়িগুলো বিনষ্ট করে মাটিচাপা দেওয়া হয়। একই সঙ্গে বেলাল ফিশিংয়ের মালিককে ৫০ হাজার টাকা, আল্লাহর দান ফিশিংয়ের মালিককে ২০ হাজার টাকা এবং এরফান ফিশিংয়ের মালিককে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেন ফেনী সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট ফাহমিদা আক্তার। অভিযানকালে ফেনী সদর উপজেলা সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা (অ.দা.) মো. মিরাজুল ইসলাম, পরশুরাম উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সৈয়দ মোস্তফা জামান, জেলা মৎস্য দপ্তর, ফেনীর প্রতিনিধি, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য, মৎস্য আড়ত সমিতির সদস্য এবং স্থানীয় লোকজন উপস্থিত ছিলেন।এ সময় অন্যান্য মৎস্য আড়তদার ও ক্রেতাদের জেলি পুশ করা চিংড়ির ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে সচেতন করা হয়। বিশেষ করে চিংড়িতে জেলি বা অন্য কোনো পদার্থ পুশ করে ওজন বৃদ্ধি, গ্রেড পরিবর্তন এবং এর মাধ্যমে ক্রেতাদের প্রতারিত করার বিষয়ে সতর্ক করা হয়।সংশ্লিষ্টরা জানান, মৎস্যপণ্যে ভেজাল ও অনিরাপদ উপাদান ব্যবহার বন্ধে এ ধরনের অভিযান নিয়মিতভাবে পরিচালনা করা হবে। ভোক্তার স্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং নিরাপদ মৎস্যপণ্য নিশ্চিত করতে আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
