ePaper

সিরাজগঞ্জে অল্প পুঁজিতে বেশি লাভ  বাড়ছে বাণিজ্যিক আখ চাষ

রফিকুল ইসলাম,সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধিঃ

অল্প পুঁজিতে অধিক লাভজনক হওয়ায় সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় দিন দিন বাড়ছে বাণিজ্যিক আখ চাষ। ভালো ফলন ও বাজারে চাহিদা থাকায় প্রতি বছরই এ চাষে আগ্রহী হচ্ছেন কৃষকেরা। চলতি মৌসুমেও এ উপজেলায় আখের বাম্পার ফলন হওয়ায় খুশি চাষিরা। আখের সবুজ পাতার বাতাসে দোল খাওয়ার দৃশ্যটি বাংলার চিরায়ত ও স্নিগ্ধ প্রকৃতির এক অপরূপ সৌন্দর্য। মৃদু বাতাসে যখন আখের ক্ষেতের দীর্ঘ ও সবুজ পাতাগুলো একে অপরের সাথে ঘষা খেয়ে দোল খায়, তখন চারপাশের পরিবেশে এক শান্তিময় ও মনোরম দোলাচল তৈরি হয়।

জানা যায়, উপজেলার ১৪টি ইউনিয়নের মধ্যে বাঙ্গালা, সলঙ্গা, রামকৃষ্ণপুর  ইউনিয়নে সবচেয়ে বেশি আখ চাষ হয়ে থাকে। এ উপজেলায় সাধারণ চিবিয়ে খাওয়ার আখ ছাড়াও ফিলিপাইনের উন্নত জাতের ব্ল্যাক সুগার কেইন এবং স্থানীয় জাতের আখ চাষ করা হয়েছে। এছাড়া, চিনিকল বা গুড় তৈরির জন্য ঈশ্বরদী অঞ্চলের বেশ কিছু অনুমোদিত জাত ওংফ ১৬, ওংফ ৪৫, ওংফ ৪৬, ওংফ ৪৭ এবং রং বিলাস চাষ করা হয়েছে।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, এই উপজেলায় প্রায় ২৪ হেক্টর জমিতে বিভিন্ন জাতের আখের আবাদ ও লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে যা লক্ষ্যমাত্রা চেয়ে ২ হেক্টর বেশি। বাঙ্গালা ইউনিয়নের শিমলাদহ গ্রামের কৃষকরা জানান, এবার আখের ফলন অত্যন্ত ভালো হয়েছে। উৎপাদন খরচও তুলনামূলক কম হওয়ার লাভের পরিমাণ বেশি। বাজারে ন্যায্যমূল্য পেলে এ ফলনে অনেক লাভ হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তারা। সলঙ্গা ইউনিয়নের মানিক দিয়ার গ্রামের কৃষক মান্নান মিয়া জানান, এবার জমিতে আখ চাষ করেছি। বর্তমানে প্রতি পিস আখ ৮-১০ টাকা দরে বিক্রি করছি। এখন পর্যন্ত অনেক টাকার আখ বিক্রি করেছি। যা অন্য যে কোনো সময় থেকে বেশি। আখ উৎপাদনে খরচ কম হওয়ায় লাভ বেশি তাই আগামী মৌসুমে আরো আখ চাষ করব।

কৃষক মজিদ জানান, এ বছর আমি আড়াই ল বিঘা জমিতে আখ চাষ করেছি। এক বিঘা জমির আখ বেচা বিক্রি শেষ হয়ে গেছে আর দেড় বিঘা জমির আখ বেচা বিক্রি চলছ। তিনি আরো জানান, ১ বিঘা (৩৩ শতক) জমিতে আখ চাষ করলে ফলনভেদে ১ লাখ থেকে ১ লাখ ২০ হাজার টাকার আখ বিক্রি করা যায়। তবে আধুনিক ও উন্নত জাত চাষ করলে পাইকারি বাজারে এর বিক্রি মূল্য আরো বেশি দামে বিক্রি করা যায়। শিমলাদহ গ্রামের সেলিম জানান, আখ চাষে ফলন বেশি হওয়ার পাশাপাশি রোগবালাইয়ের আক্রমণও তুলনামূলক কম হওয়ায় কৃষকদের উৎপাদন ঝুঁকি হ্রাস পাচ্ছে। সফল চাষিদের দেখে নতুন অনেক কৃষকও আখ চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছেন।

উপজেলা কৃষি অফিসার সুবর্ণা ইয়াসমিন -সুমী বলেন, এ উপজেলায় সাধারণত বিভিন্ন উন্নত জাতের আখের চাষ হয়ে থাকে। কৃষকরা মাঠ থেকেই সরাসরি পাইকারি ব্যবসায়ীদের কাছে আখ বিক্রি করে ভালো মুনাফা অর্জন করছেন। অন্যান্য ফসলের তুলনায় আখের উৎপাদন খরচ কম, কিন্তু বাজারে চাহিদা ও দাম ভালো থাকায় এটি এখন অনেক কৃষকের জন্য অত্যন্ত লাভজনক আয়ের উৎস।কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর থেকে কৃষকদের আখ চাষে প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও আধুনিক প্রযুক্তিগত সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে, যাতে তারা রোগবালাই প্রতিরোধ করে আরও ভালো ফলন পেতে পারেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *