টাঙ্গাইল জেলা প্রতিনিধি
টাঙ্গাইলের মধুপুরের শিশু ফাতেমা খাতুন হত্যা মামলার প্রধান আসামি মোঃ আব্বাস আলী (৩০), জেলা-টাঙ্গাইল। তাকে ১৮ এপ্রিল ২০২৬ খ্রি. তারিখ বিকাল সাড়ে পাঁচটার দিকে টাঙ্গাইল জেলার সদর থানার কলেজপাড়া চৌরাস্তা এলাকা হতে গ্রেফতার করা সিরাজগঞ্জ জেলার এনায়েতপুরের ঘরের বেড়া ভেঙে প্রতিবেশী কর্তৃক ঘুমন্ত কিশোরীকে ধর্ষণ করা মামলার প্রধান আসামি মোঃ আব্দুর রহমান (২০), জেলা-সিরাজগঞ্জ। তাকে ১৮ এপ্রিল ২০২৬ খ্রি. তারিখ সন্ধ্যা ০৭টার দিকে টাঙ্গাইল জেলার সদর থানার চারাবাড়ি বাজার এলাকা হতে গ্রেফতার করা হয়। মামলার বিবরণ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের দেওয়া তথ্য মতে জানা যায় যে, গত ১১ এপ্রিল ২০২৬ খ্রি: তারিখ বিকাল অনুমান সোয়া পাঁচটার দিকে ০৬ বছরের নিহত শিশু ফাতেমা খাতুন বাড়ির পাশে খেলাধুলা করার সময় ধৃত মোঃ আব্বাস আলী ভিকটিম ফাতেমাকে জুস কিনে দেওয়ার জন্য বাড়ির পার্শ্ববর্তী বাজারে নিয়ে যায়। পরবর্তীতে ভিকটিম দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হওয়ার পরেও বাড়িতে ফিরে না আসায় বাড়ির লোকজন ভিকটিমকে বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজি করে না পেয়ে মধুপুর থানায় নিখোঁজ ডায়েরি নং-৫৪২, তারিখ-১১ এপ্রিল ২০২৬ খ্রি: লিপিবদ্ধ করেন। থানা পুলিশের পাশাপাশি পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে ঘটনার পরের দিন ১২ এপ্রিল ২০২৬খ্রি. সকাল অনুমান ১০:৪০ ঘটিকায় ভিকটিমের চাচা বাড়ির পার্শ্ববর্তী ভুট্টা ক্ষেতে ভিকটিমের লাশ দেখতে পেয়ে বাড়িতে সংবাদ দেয়। উক্ত সংবাদ পেয়ে পরিবারের লোকজন ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে লাশ শনাক্ত করেন। ধৃত সহ এজাহারনামীয় আসামিরা নিহত শিশু ফাতেমাকে গলায় লাইলনের কালো কট সুতা পেচিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে লাশ গুম করার জন্য ভিকটিমের পায়জামা ও জুতা আগুনে পুড়িয়ে গলিত অংশ মুখ মন্ডল ও গলায় দিয়ে লাশ বিকৃত করে। উক্ত ঘটনার প্রেক্ষিতে টাঙ্গাইল মধুপুর থানায় ভিকটিমের মাতা বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন যার মামলা নং-১৬, তারিখ-১২ এপ্রিল ২০২৬ খ্রি. ধারা- ৩০২/৩৪/২০১ পেনাল কোড। । মামলার বিবরণে জানা যায় যে, ধৃত আসামি মোঃ আব্দুর রহমান (২০), জেলা-সিরাজগঞ্জ বাদীর প্রতিবেশী। গত ০৯ ডিসেম্বর ২০২৫ খ্রি. দুপুর অনুমান দুইটার দিকে বাদী তার কিশোরী কন্যাকে বাড়িতে একা রেখে পরিবারের সকলে মিলে ভিকটিমের নানার বাড়িতে যায়। ধৃত আসামি বাড়িতে কেউ না থাকার সুযোগে গত ১০ ডিসেম্বর ২০২৫ খ্রিঃ রাত অনুমান ০২:০০ ঘটিকায় বাদীর বসতবাড়ির ঘরের বেড়া ভেঙে ভিতরে প্রবেশ করে ঘুমন্ত অবস্থায় ভিকটিমের হাত-পা বেঁধে ফেলে এবং জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। ভিকটিম অসুস্থ হয়ে পড়লে প্রতিবেশীরা বাদীকে সংবাদ দেয়। বাদী বাড়িতে এসে ভিকটিমের নিকট ঘটনার বিবরণ শুনে সিজরাজগঞ্জ এনায়েতপুর থানায় ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন। যার মামলা নং-০২, তারিখ- ১৫ ডিসেম্বর ২০২৫ খ্রি. ধারা- ৯(১) নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০। পরোক্ত মামলা দুটোর তদন্তকারী কর্মকর্তাদের আবেদনের প্রেক্ষিতে র?্যাব -১৪ সিপিসি-৩, টাঙ্গাইল ক্যাম্প আসামিদের আইনের আওতায় আনার জন্য গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করে তথ্য সংগ্রহ করতে থাকে। এরই প্রেক্ষিতে আসামিদের বর্তমান অবস্থান নিশ্চিত হয়ে তাদেরকে গ্রেফতার করা হয়।* তাদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে ।
