আমিনুল হক শাহীন, চট্টগ্রাম ব্যুরে
ন্যাশনাল মেরিটাইম ইন্সটিটিউট, চট্টগ্রামের ২৮তম ব্যাচের প্রশিক্ষণার্থী রেটিংদের শিক্ষা সমাপনী কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠান ১৮ এপ্রিল চট্টগ্রামে ক্যাম্পাসে অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম,এমপি.; বিশেষ অতিথি নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের মাননীয় প্রতিমন্ত্রী জনাব মোঃ রাজিব আহসান,এমপি.; নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব, জনাব জাকারিয়া; চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান, রিয়ার এডমিরাল এস. এম. মনিরুজ্জামান। সম্মানীত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশন এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক, কমডোর মাহমুদুল মালেক এবং নৌপরিবহন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কমডোর মোঃ শফিউল বারী। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন ন্যাশনাল মেরিটাইম ইন্সটিটিউট, চট্টগ্রামের অধ্যক্ষ, ক্যাপ্টেন আতাউর রহমান। এ অনুষ্ঠানে দেশের সামরিক-বেসামরিক গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, দেশী ও বিদেশী জাহাজ মালিক এবং এজেন্টদের প্রতিনিধিগণ উপস্থিত ছিলেন। প্রধান অতিথি তাঁর বক্তব্যের শুরুতে গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন স্বাধীনতার মহান ঘোষক, বীর মুক্তিযোদ্ধা ১নং সেক্টরের সেক্টর কমান্ডার শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান (বীর উত্তম)কে। আরও স্মারণ করেন তিনবারের সফল প্রধানমন্ত্রী ও আপোষহীন নেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে। স্মরণ করেন ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশগ্রহকারী শহীদ মুক্তিযোদ্ধা, আহত মুক্তিযোদ্ধা এবং আত্মত্যাগকারী ২ লক্ষ মা-বোনকে। শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন ২৪ এর জুলাই শহীদ ও আহতদের।
তিনি উল্লেখ করেন যে, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সভাপতিত্বে ১৯৯২ সালে অনুষ্ঠিত একনেক সভায় ‘ডেভেলপমেন্ট অব সীম্যান্স ট্রেনিং স্কুল’ শীর্ষক প্রকল্পটি অনুমোদিত হয়েছিল। সে প্রেক্ষিতে উক্ত প্রকল্পটি ১৯৯৩-৯৫ সালে বাস্তবায়ন হয়। প্রকল্পটি বাস্তবায়নের ফলে ন্যাশনাল মেরিটাইম ইন্সটিটিউটে আন্তর্জাতিকমানের প্রশিক্ষণ প্রদান করা সম্ভব হয় এবং বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক নৌ-সংস্থার সাদা তালিকা ভুক্ত হওয়ার ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানটি সহায়ক ভূমিকা পালন করে। যার জন্য বাংলাদেশি নাবিকদের বৈদেশিক সমুদ্রগামী জাহাজে চাকরি করার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) যখনই রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পালন করেছে, তখনই দেশের মানবসম্পদ উন্নয়নে তাৎপর্যপূর্ণ অবদান রেখেছে। সেই ধারাবাহিকতায় তৎকালীন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার প্রজ্ঞাময় নেতৃত্বে ১৯৯৪-৯৫ সালে ন্যাশনাল মেরিটাইম ইন্সটিটিউট দক্ষ নাবিক গড়ে তোলার লক্ষ্যে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শুরু করে। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে অদ্যাবধি এ প্রতিষ্ঠান থেকে প্রায় সাড়ে চার হাজারের অধিক নাবিক সফলভাবে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেছে। তাঁদের মধ্যে প্রায় চার হাজার নাবিক বর্তমানে দেশ-বিদেশের বিভিন্ন সমুদ্রগামী জাহাজে কর্মরত রয়েছে। বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের মাধ্যমে এসব নাবিক দেশের জাতীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও মেরিটাইম খাতসহ অন্যান্য সম্ভাবনাময় ক্ষেত্রে কর্মসংস্থান সৃষ্টির ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করছেন। তাঁর সুদূরপ্রসারী দিকনির্দেশনায় এ খাতের উন্নয়ন আরও বেগবান হবে এবং দেশের অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রায় নতুন মাত্রা যোগ করবে বলে তিনি উল্লেখ করেন। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, ন্যাশনাল মেরিটাইম ইন্সটিটিউটে এশিয়া মহাদেশের মধ্যে অন্যতম সিমুলেটর স্থাপিত হওয়ায় প্রশিক্ষণের গুণগতমান বহুগুণে বৃদ্ধি পেয়েছে। সিমুলেটরে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম অব্যাহত রেখে প্রশিক্ষণের মান বজায় রাখতে হবে।
অধ্যক্ষ, ক্যাপ্টেন আতাউর রহমান স্বাগত ব্যক্তব্যের শুরুতে মাননীয় প্রধান অতিথি, বিশেষ অতিথি ও অভিভাবকসহ অন্যান্য অতিথি বৃন্দকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান। তিনি অনুষ্ঠানটি সফলভাবে সম্পন্ন করায় যে সকল প্রতিষ্ঠান সার্বিক সহযোগিতা করেছেন তাঁদেরকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন। বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশনের সৌজন্যে গোল্ড মেডেল প্রাপ্ত হন ন্যাশনাল মেরিটাইম ইন্সটিটিউট, চট্টগ্রামের বেস্ট অল রাউন্ড রেটিং জনাব রাব্বি ইসলাম কানন এবং মেসার্স হক এন্ড সন্স লিঃ এর সৌজন্যে বেস্ট গ্রাউন্ড ড্রিল সিলভার মেডেল প্রাপ্ত হন প্যারেড কমান্ডার রহমত উল্লাহ । উক্ত প্রশিক্ষণ কোর্সে ন্যাশনাল মেরিটাইম ইন্সটিটিউট, চট্টগ্রামে ২০০জন প্রশিক্ষণার্থী অংশগ্রহণ করেন।
