হেলাল উদ্দিন ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রতিনিধি
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলা নির্বাচন অফিসে সেবাগ্রহীতাদের হয়রানি, অনিয়ম ও অবৈধ অর্থ লেনদেনের অভিযোগের প্রেক্ষাপটে আকস্মিক পরিদর্শন করেছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫ (নবীনগর) আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আব্দুল মান্নান। মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সকাল ১১টার দিকে কোনো পূর্বঘোষণা ছাড়াই তিনি সরাসরি উপজেলা নির্বাচন অফিসে গিয়ে সাধারণ সেবাগ্রহীতাদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের বিভিন্ন সমস্যার কথা শোনেন।আকস্মিক এই পরিদর্শনকে কেন্দ্র করে উপজেলা নির্বাচন অফিসে সেবা নিতে আসা মানুষের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়। এ সময় নতুন ভোটার নিবন্ধন, জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) সংশোধন, তথ্য সংশোধনসহ বিভিন্ন সেবা নিতে আসা নাগরিকদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেন সংসদ সদস্য। তারা সেবা গ্রহণের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের হয়রানি, অনিয়ম, দীর্ঘসূত্রতা কিংবা অবৈধ অর্থ দাবি বা লেনদেনের শিকার হচ্ছেন কি না, সে বিষয়ে বিস্তারিত খোঁজখবর নেন তিনি।পরিদর্শনকালে সেবাগ্রহীতাদের উদ্দেশে এমপি আব্দুল মান্নান বলেন, “আমি সরাসরি আপনাদের সমস্যার কথা জানতে এসেছি। ভোটার হতে গিয়ে কিংবা এনআইডি-সংক্রান্ত কোনো সেবা নিতে যদি কেউ হয়রানি করে, অবৈধভাবে অর্থ দাবি করে বা সেবা দিতে গড়িমসি করে, তাহলে আমাকে সরাসরি জানাবেন। জনগণের সঙ্গে কোনো ধরনের অসদাচরণ বা হয়রানি বরদাশত করা হবে না।”তিনি বলেন, সরকারি দপ্তরে জনগণ সেবা নিতে আসেন। তাই কোনো নাগরিককে অযথা হয়রানি করা, একাধিকবার অফিসে আসতে বাধ্য করা কিংবা সেবা প্রদানের ক্ষেত্রে অনিয়ম করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। নাগরিকদের প্রাপ্য সেবা নির্ধারিত নিয়মে দ্রুত ও স্বচ্ছতার সঙ্গে নিশ্চিত করতে হবে। নির্বাচন কর্মকর্তাকে কঠোর নির্দেশ পরিদর্শনের সময় উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা স্বপন কুমার ভৌমিককে নতুন ভোটার নিবন্ধন ও এনআইডি-সংক্রান্ত সেবা প্রদানের ক্ষেত্রে বিশেষ নজর দেওয়ার নির্দেশ দেন সংসদ সদস্য।তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, কোনো নাগরিক যেন সেবা নিতে এসে হয়রানির শিকার না হন। সরকারি সেবা প্রদানের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও আন্তরিকতা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আরও দায়িত্বশীল হওয়ার নির্দেশ দেন তিনি। এ সময় অফিসের সার্বিক কার্যক্রম, সেবাগ্রহীতাদের অপেক্ষার পরিস্থিতি এবং বিভিন্ন সেবা প্রদানের প্রক্রিয়া সম্পর্কেও খোঁজ নেন এমপি। প্রবাসীর অভিযোগ শুনে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ পরিদর্শনকালে এক প্রবাসী নাগরিক তার ভোগান্তি ও হয়রানির বিষয়ে সংসদ সদস্যের কাছে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ তুলে ধরেন। অভিযোগটি গুরুত্বের সঙ্গে শুনে বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে আমলে নেন এমপি আব্দুল মান্নান। তিনি সংশ্লিষ্টদের দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে প্রবাসী নাগরিকদের সেবা গ্রহণের ক্ষেত্রে দীর্ঘ অপেক্ষা ও ভোগান্তি কমানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন। প্রবাসীদের জন্য উপজেলা নির্বাচন অফিসে একটি স্বতন্ত্র ‘প্রবাসী সেবা ডেস্ক’ চালুর নির্দেশনাও দেন তিনি। পাশাপাশি সেবা নিতে আসা সাধারণ নাগরিকদের বসার জন্য পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নিশ্চিত করার কথাও বলেন। দালালচক্র ও হয়রানি বন্ধে নজরদারির দাবি উপজেলা নির্বাচন অফিসে সেবা নিতে আসা কয়েকজন নাগরিক জানান, সরকারি দপ্তরে দ্রুত ও হয়রানিমুক্ত সেবা পাওয়াই তাদের প্রত্যাশা। এ ধরনের আকস্মিক পরিদর্শন নিয়মিত হলে সেবা প্রদানের ক্ষেত্রে অনিয়ম ও ভোগান্তি কমবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন। তাদের মতে, নাগরিকদের সরাসরি অভিযোগ শোনার ব্যবস্থা থাকলে সেবাগ্রহীতাদের সমস্যাগুলো দ্রুত চিহ্নিত করা সম্ভব হবে। পাশাপাশি অফিসের বাইরে বা ভেতরে কোনো দালালচক্র সক্রিয় থাকলে তাদের বিরুদ্ধেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। এমপি আব্দুল মান্নানের আকস্মিক পরিদর্শনের পর উপস্থিত সেবাগ্রহীতাদের মধ্যে স্বস্তি লক্ষ্য করা যায়। তারা আশা প্রকাশ করেন, সরকারি সেবা প্রদানে এ ধরনের নজরদারি অব্যাহত থাকলে নির্বাচন অফিসে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা আরও বাড়বে এবং সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমে আসবে। সেবার মান বাড়ানোর প্রত্যাশা স্থানীয়দের মতে, জাতীয় পরিচয়পত্র ও ভোটার নিবন্ধন-সংক্রান্ত সেবা একজন নাগরিকের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে নতুন ভোটার হওয়া, এনআইডির তথ্য সংশোধন, জন্মতারিখ বা ঠিকানা সংশোধনসহ বিভিন্ন কাজে সাধারণ মানুষকে নির্বাচন অফিসে যেতে হয়। এসব সেবা গ্রহণের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের হয়রানি বা অনিয়মের অভিযোগ উঠলে তা দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।এমপি আব্দুল মান্নানের আকস্মিক পরিদর্শনকে তাই স্থানীয় নাগরিকদের অনেকে ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন। তারা মনে করেন, জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের নিয়মিত তদারকি থাকলে সরকারি সেবার মান আরও উন্নত হবে এবং নাগরিকদের আস্থা বাড়বে।তবে নির্বাচন অফিসে অনিয়ম বা হয়রানির যেসব অভিযোগের কথা উঠেছে, সেগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের যথাযথ তদন্ত ও যাচাইয়ের মাধ্যমে প্রকৃত পরিস্থিতি নিশ্চিত করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সচেতন মহল। পরিদর্শনকালে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) রাকিবুল হাসান, উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আশরাফ হোসেন রাজু, পল্লী উন্নয়ন সমবায় সমিতির চেয়ারম্যান রাশেদুল ইসলাম কাজী সুমনসহ উপজেলা নির্বাচন অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।
