দেশে এভিয়ান ইনফ্লুয়েঞ্জা (এইচ৯এন২) ও গোট পক্সের ভ্যাকসিন উৎপাদনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ। তিনি বলেন, এতদিন এসব ভ্যাকসিন আমদানিনির্ভর ছিল। এখন দেশের গবেষণাগার ও কারখানায় উৎপাদনের মাধ্যমে ভ্যাকসিনে স্বয়ংসম্পূর্ণ হতে চায় সরকার।মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সচিবালয়ে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিএলআরআই) উদ্ভাবিত এভিয়ান ইনফ্লুয়েঞ্জা (এইচ৯এন২) ও গোট পক্সের ভ্যাকসিন সিড প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের কাছে হস্তান্তর অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন প্রাণিসম্পদমন্ত্রী। মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেন, আমরা এই দেশকে শুধু খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ নয়, নিরাপদ খাদ্যেও স্বয়ংসম্পূর্ণ করতে চাই। এ কারণে এই ভ্যাকসিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।আগে এসব ভ্যাকসিন ১০০ শতাংশই আমদানি করা হতো। আগামী দিনে আমাদের ল্যাব বা কারখানাতেই উৎপাদনের প্রস্তুতি নিচ্ছি।তিনি বলেন, বিএলআরআই উদ্ভাবিত ভ্যাকসিন সিড আজ বাণিজ্যিক ভিত্তিতে উৎপাদন ও খামারি পর্যায়ে সম্প্রসারণের লক্ষ্যে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করা হয়েছে। এটি গবেষণাগারের জ্ঞান ও উদ্ভাবনকে মাঠপর্যায়ের খামারিদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। প্রাণিসম্পদমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘদিন গবেষণাগারে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে প্রতিকূলতার মধ্যেও দেশীয় প্রযুক্তি ব্যবহার করে দুটি ভ্যাকসিন উদ্ভাবন করেছেন বিএলআরআইয়ের বিজ্ঞানী ও গবেষকেরা। এ উদ্যোগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞানী, গবেষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের অভিনন্দন জানান তিনি।কৃষির উন্নয়নের প্রসঙ্গে মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেন, দেশের প্রায় ৭৫ শতাংশ মানুষ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির সঙ্গে জড়িত। কৃষির উন্নতি হলে দেশের অর্থনীতিরও উন্নতি হবে। কৃষক তার উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্য দাম পেলে কৃষকের অর্থনীতি শক্তিশালী হবে এবং এর প্রভাব সামগ্রিক অর্থনীতিতে পড়বে।তিনি বলেন, ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকের দীর্ঘদিনের ঋণসংক্রান্ত সমস্যার সমাধানে সরকার কাজ করছে। সরকার ক্ষমতায় আসার পর এসব কৃষকের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণ মওকুফ করা হয়েছে। তবে এতে ব্যাংক ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি, সরকারের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট ব্যাংককে ওই অর্থ পরিশোধ করা হয়েছে।প্রাণিসম্পদমন্ত্রী জানান, দেশের খালগুলো পুনঃখননের জন্য পাঁচ বছর মেয়াদি পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। দীর্ঘদিন খাল খনন না হওয়ায় পানি নিষ্কাশনব্যবস্থা অনেকটা অকার্যকর হয়ে পড়েছিল। ফলে বিভিন্ন সময়ে আকস্মিক বন্যার সৃষ্টি হতো। কৃষি মন্ত্রণালয়ের আওতায় চলতি বছরের দায়িত্বের প্রায় ৯০ শতাংশ খাল খননের কাজ শেষ হয়েছে বলেও জানান তিনি।কৃষকদের উৎপাদন পরিকল্পনা ও ন্যায্য দাম নিশ্চিত করতে কৃষি কার্ড গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে উল্লেখ করে মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেন, কৃষকরা কোন সময়ে কোন পণ্য উৎপাদন করবেন, সারসহ প্রয়োজনীয় উপকরণ এবং উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্য দাম পাওয়ার বিষয়ে কৃষি কার্ডের মাধ্যমে তথ্য ও সহায়তা দেওয়া হবে। এরই মধ্যে প্রায় ১৩ লাখ কৃষকের নিবন্ধন হয়েছে। তিন বছরের মধ্যে কৃষি কার্ডের নিবন্ধন সম্পন্ন করার পরিকল্পনা থাকলেও নির্ধারিত সময়ের আগেই কাজ শেষ করার চেষ্টা চলছে।অনুষ্ঠানে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. শাহ জামান খান, বিএলআরআইয়ের মহাপরিচালক ড. শাকিলা ফারুক, গবেষক ড. আব্দুস সামাদসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

