রফিকুল ইসলাম, সিরাজগঞ্জ
সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার ভূঁইয়াগাঁতী থেকে নলকা পর্যন্ত প্রায় ১০ কিলোমিটার নদীপথজুড়ে এখন সারি সারি মাছের খাঁচা। স্থানীয় চাষিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, পাঁচ বছর আগেও এ এলাকায় খাঁচায় মাছ চাষ করতেন প্রায় ৩০ জন। বর্তমানে সেই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯০ জনে। প্রায় ১ হাজার ২০০টি খাঁচায় মাছ চাষের সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে যুক্ত রয়েছে চার শতাধিক পরিবার।
চাষিরা জানান, বাঁশ, ড্রাম, নেট ও জাল ব্যবহার করে তৈরি করা হয় এসব খাঁচা। আকারভেদে একটি খাঁচা তৈরিতে খরচ হয় প্রায় ২০ হাজার টাকা। খাঁচায় মূলত তেলাপিয়ার পোনা ছাড়া হয়। নিয়মিত খাবার ও প্রয়োজনীয় ওষুধ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে প্রায় পাঁচ মাসে মাছ বাজারজাত করার উপযোগী হয়ে ওঠে। চাষিদের হিসাবে, প্রতি কেজি মাছ উৎপাদনে গড়ে ১৭৫ টাকা খরচ হয়।
স্থানীয়ভাবে জানা যায়, ফুলজোড় নদীতে খাঁচায় মাছ চাষের সূচনা হয় ২০১১ সালে। ওই সময় কয়েকজন শ্রমজীবী মানুষ এ পদ্ধতিতে মাছ চাষ শুরু করেন। পরে তাঁদের সাফল্য দেখে অন্যরাও এতে যুক্ত হন। ধীরে ধীরে খাঁচায় মাছ চাষ বিস্তৃত হয়ে বর্তমানে অনেক পরিবারের নিয়মিত আয়ের অন্যতম উৎসে পরিণত হয়েছে।
উপজেলার চাষি আবদুল্লাহ আল মামুন ফুলজোড় নদীতে ২৮টি খাঁচায় তেলাপিয়া মাছ চাষ করছেন। আরেক চাষি লোকমান হোসেনের রয়েছে ৬৫টি খাঁচা। লোকমান হোসেন বলেন, সঠিকভাবে খাবার দেওয়া এবং পানির পরিবেশ ভালো থাকলে খাঁচায় মাছ দ্রুত বেড়ে ওঠে। তবে পানির গুণগত মান নষ্ট হলে চাষিদের বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়তে হয়।
রায়গঞ্জ উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা শরিফুল ইসলাম জানান, ফুলজোড় নদীতে বর্তমানে প্রায় ১ হাজার ২০০টি খাঁচায় মাছ চাষ হচ্ছে। এর মাধ্যমে মাছ উৎপাদনের পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ে কর্মসংস্থানও সৃষ্টি হয়েছে। উপজেলা মৎস্য কার্যালয় থেকে চাষিদের প্রশিক্ষণ ও প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। মৎস্য কর্মকর্তারা বলছেন, খাঁচায় মাছ চাষের সফলতা ধরে রাখতে নিয়মিত পানির গুণগত মান পরীক্ষা, মানসম্মত পোনা নির্বাচন, সঠিক খাবার ব্যবস্থাপনা ও রোগবালাই নিয়ন্ত্রণ জরুরি। পাশাপাশি নদীদূষণ রোধ করা গেলে চাষিদের ঝুঁকি কমার পাশাপাশি মাছের উৎপাদনও বাড়ানো সম্ভব।
