নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় ভুট্টা ব্যবসার নামে ১ কোটি ৬৫ লাখ ৮০ হাজার ৬৪৫ টাকা আত্মসাৎ ও প্রতারণার অভিযোগে মোস্তফা আসাদ (২৫) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) নারায়ণগঞ্জ জেলা।
পিবিআই নারায়ণগঞ্জের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ফতুল্লা থানার মামলা নং-৫৮, তারিখ ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬; দণ্ডবিধির ৪০৬/৪২০/৫০৬ ধারায় মামলাটি করা হয়।
গ্রেপ্তার মোস্তফা আসাদ চুয়াডাঙ্গার জীবননগর থানার আন্দুলবাড়িয়া এলাকার বাসিন্দা। তিনি আসাদ এগ্রোটেক লিমিটেডের মালিক (প্রোপ্রাইটর) বলে প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে। গত ২৮ সেপ্টেম্বর রাত আনুমানিক ৯টা ৫০ মিনিটে জীবননগর থানাধীন আন্দুলবাড়িয়া এলাকায় প্রতিষ্ঠানটির অফিসের সামনে থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পিবিআই জানায়, মামলার বাদীর সঙ্গে আসামিদের আগে থেকেই ব্যবসায়িক সম্পর্ক ছিল। আসামিরা ভুট্টা সংগ্রহ করে গুদামজাত করার পর বিক্রির মাধ্যমে অধিক মুনাফা অর্জনের প্রস্তাব দেন। এ বিষয়ে ২০২৪ সালের ২৪ মে ‘মৌসুমী ভুট্টা ক্রয় ও সংরক্ষণের গুদাম ভাড়ার চুক্তিপত্র’ সম্পাদন করা হয়।
অভিযোগ অনুযায়ী, বাদী আসামিদের ব্যবসায়িক ব্যাংক হিসাবে মোট ৮ কোটি ৮৩ লাখ ৬২ হাজার ৫৩০ টাকা জমা দেন। এর মধ্যে ১ কোটি ৬৫ লাখ ৮০ হাজার ৬৪৫ টাকা বাদীর পাওনা হলে আসামিরা টাকা পরিশোধে বিভিন্নভাবে সময়ক্ষেপণ করেন। পরে টাকা চাইলে ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগও করা হয়।
পিবিআইয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, তদন্তে প্রযুক্তিগত তথ্য ও গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণের পর আসামি মোস্তফা আসাদকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাকে আদালতে সোপর্দ করে পুলিশ রিমান্ডের আবেদন করা হলে আদালতের আদেশে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, জিজ্ঞাসাবাদে মোস্তফা আসাদ তার বাবা ও মামলার ১ নম্বর আসামি আব্দুল লতিফ বিশ্বাস (৬৫)-এর সঙ্গে যোগসাজশে ব্যবসায়িক ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে নেওয়া অর্থের মধ্যে ১ কোটি ৬৫ লাখ ৮০ হাজার ৬৪৫ টাকা পরিশোধ না করে আত্মসাতের বিষয়ে তথ্য দেন বলে পিবিআই দাবি করেছে।
পিবিআই আরও জানায়, মামলার ১ নম্বর আসামি আব্দুল লতিফ বিশ্বাস বর্তমানে পলাতক। তাকে গ্রেপ্তার এবং ঘটনার মূল রহস্য উদঘাটনে অভিযান ও তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
মামলার অভিযোগ ও আসামির জিজ্ঞাসাবাদসংক্রান্ত তথ্যগুলো পিবিআইয়ের প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বর্ণিত বক্তব্য; এগুলো আদালতে চূড়ান্তভাবে প্রমাণিত অপরাধের রায় নয়।
