ePaper

 রোপা আমনের সবুজে হাসছে সিরাজগঞ্জ, বাম্পার ফলনের প্রত্যাশা

রফিকুল ইসলাম, সিরাজগঞ্জ

সিরাজগঞ্জে মৌসুমি রোপা আমন ধান চাষে বাম্পার ফলনের আশা করছেন কৃষকেরা। ইতোমধ্যে জেলার বিভিন্ন এলাকার মাঠজুড়ে সবুজের সমারোহ সৃষ্টি হয়েছে। ধানের চারা ও সবুজে ভরে উঠেছে বিস্তীর্ণ মাঠ। মনোরম এ দৃশ্য দেখে কৃষকের পাশাপাশি পথচারীদের মনও জুড়িয়ে যাচ্ছে। সবুজ ধানক্ষেত ঘিরে কৃষকদের মুখেও ফুটতে শুরু করেছে হাসি।

জানা গেছে, সিরাজগঞ্জের নয়টি উপজেলায় প্রায় ৭৮ হাজার হেক্টর জমিতে রোপা আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। তবে নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি জমিতে কৃষকেরা এ ধান চাষ করেছেন।

জেলার চলনবিল অধ্যুষিত তাড়াশ, রায়গঞ্জ ও উল্লাপাড়াসহ সবকটি উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় জুলাই মাসের প্রথম সপ্তাহ থেকে আগস্টের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত বিভিন্ন জাতের রোপা আমন ধানের চারা রোপণ করেন কৃষকেরা। চাষ করা ধানের জাতের মধ্যে ব্রি ধান-৭১, ৭৫, ৪৯ ও ১০৩ এবং দেশীয় বিভিন্ন জাতের ধান রয়েছে।

এ চাষে তুলনামূলকভাবে খরচ কম হওয়ায় কৃষকেরা বেশি জমিতে রোপা আমন চাষ করেছেন। স্থানীয় কৃষি বিভাগও পোকামাকড় দমনসহ ধান চাষের বিভিন্ন বিষয়ে কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিয়ে আসছে।

শস্যভাণ্ডারখ্যাত তাড়াশ, রায়গঞ্জ ও উল্লাপাড়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় এ চাষাবাদ বেশি হয়েছে। ইতোমধ্যে জেলার বিভিন্ন এলাকার মাঠে রোপা আমন ধানক্ষেতের পরিচর্যার কাজও শুরু হয়েছে। সবুজে ভরে ওঠা ধানক্ষেতের সৌন্দর্য কৃষকদের যেমন স্বস্তি দিচ্ছে, তেমনি অনেকে মনোরম এ দৃশ্যের ছবি তুলছেন।

স্থানীয় কৃষকেরা জানান, এবার জমিতে ধানের চারা রোপণের আগে ও পরে দফায় দফায় বৃষ্টি হওয়ায় রোপা আমন চাষে তাদের খরচ কিছুটা কম হয়েছে। বিশেষ করে খাল-বিল এলাকায় এ চাষাবাদ বেশি হয়েছে। তবে কীটনাশক প্রয়োগে কিছুটা বাড়তি খরচ হয়েছে।

পাশাপাশি ধানক্ষেত পরিচর্যার জন্য শ্রমিক সংকট ও মজুরি বৃদ্ধির কারণে কৃষকদের বাড়তি ব্যয় বহন করতে হচ্ছে। বর্তমানে জেলার অনেক এলাকায় সারের সংকটও দেখা দিয়েছে। এতে প্রয়োজনীয় সার প্রয়োগ করতে গিয়ে কৃষকদের হিমশিম খেতে হচ্ছে। বিশেষ করে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের কিছুটা কষ্ট পোহাতে হচ্ছে।

কৃষকেরা জানান, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবং বড় ধরনের কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে এবার রোপা আমনে ভালো ফলন হবে। আগামী মাসের মাঝামাঝি সময় থেকে জেলার বিভিন্ন এলাকায় ধান কাটা শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এ কারণে মাঠজুড়ে সবুজের সমারোহ দেখে বাম্পার ফলনের প্রত্যাশায় দিন গুনছেন কৃষকেরা।

এ বিষয়ে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের অতিরিক্ত উপপরিচালক জেরিন আহমেদ বলেন, রোপা আমন চাষে কৃষকদের বিভিন্ন ধরনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। কৃষি কর্মকর্তারাও নিয়মিত মাঠ পরিদর্শন করছেন। এবার রোপা আমন চাষে বাম্পার ফলনের আশা করা হচ্ছে।