নাটোরের লালপুরে অভাব-অনটনের কারণে সন্তানদের “ভাতের মার” খাওয়ানোর হৃদয়বিদারক ঘটনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর অসহায় পরিবারটির পাশে দাঁড়িয়েছেন সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ও স্থানীয় সংসদ সদস্য ফারজানা শারমিন পুতুল।
উপজেলার নবীনগর গ্রামের ভ্যানচালক রেজাউল করিমের আট সদস্য পরিবারের করুণ জীবনসংগ্রামের বিষয়টি সম্প্রতি স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। চরম দারিদ্র্য ও অভাবের কারণে সন্তানদের খাবারের ব্যবস্থা করতে না পেরে মা বাধ্য হয়ে “ভাতের মার” খাওয়াতেন-এমন তথ্য সামনে আসলে বিষয়টি মানুষের হৃদয় ছুঁয়ে যায়।
ঘটনাটি প্রতিমন্ত্রী পুতুলের নজরে আসার পর তিনি দ্রুত পরিবারটির জন্য মানবিক সহায়তার উদ্যোগ নেন। শনিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে প্রতিমন্ত্রীর পক্ষ থেকে তার এপিএস আব্দুস সালাম অসহায় পরিবারটির হাতে নগদ অর্থ সহায়তা তুলে দেন এবং ভবিষ্যতেও পাশে থাকার আশ্বাস প্রদান করেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, পরিবারটির তাৎক্ষণিক সহায়তার পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি পুনর্বাসনের বিষয়েও খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে, যাতে পরিবারটি স্থায়ীভাবে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারে।
এ সময় স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও এলাকাবাসী প্রতিমন্ত্রীর এমন মানবিক উদ্যোগের প্রশংসা করেন। তারা বলেন, একজন জনপ্রতিনিধি হিসেবে সাধারণ মানুষের দুঃখ-দুর্দশায় পাশে দাঁড়িয়ে প্রতিমন্ত্রী পুতুল মানবিকতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।
সহযোগিতা পেয়ে আবেগাপ্লুত পরিবারটির সদস্যরা প্রতিমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, “আমাদের কষ্টের কথা শুনে দ্রুত সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিলেন । এই সহমর্মিতা আমরা কখনো ভুলবো না।”
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, সমাজের বিত্তবান ও সচেতন মানুষও এ ধরনের অসহায় পরিবারের পাশে এগিয়ে এসে মানবিকতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করবেন।
প্রতিমন্ত্রীর এ পি এস আব্দুস সালাম বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান- তাদের আর্থিক অবস্থার কথা শুনে মন্ত্রী মহোদয়ের তাৎক্ষণিক নির্দেশনায় অসহায় পরিবারের হাতে নগদ অর্থ পৌঁছে দেয়া হয়েছে। মন্ত্রী মহোদয় পরিবারটির পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন। সেই বার্তা তাদের পৌঁছে দেয়া হয়েছে।

