ePaper

অবৈধ রেনু পোনার দাপটে অস্তিত্ব সংকটে কলাপাড়ার সম্ভাবনাময় চিংড়ি হ্যাচারী শিল্প

সৌমিত্র সুমন,কলাপাড়া(পটুয়াখালী)প্রতিনিধি

পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় সম্ভাবনাময় চিংড়ি হ্যাচারী শিল্প আজ অস্তিত্ব সংকটে। অবৈধভাবে ভারত থেকে আসা ভেজাল রেনু পোনা, নদ-নদী ও সাগর থেকে নির্বিচারে রেনু আহরণ, ন্যায্যমূল্য না পাওয়া এবং পথে চাঁদাবাজির কবলে পড়ে ধুঁকছে এ শিল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা। দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে বন্ধ হয়ে যেতে পারে উপজেলার চারটি হ্যাচারিসহ দেশের শত শত চিংড়ি হ্যাচারী।

কলাপাড়ার কুয়াকাটা পৌর শহরের তুলাতলী এলাকায় অবস্থিত জননী গলদা চিংড়ি হ্যাচারী প্রতি বছর প্রায় দেড় কোটি চিংড়ির রেনু পোনা উৎপাদন করে। চলতি মৌসুমের শুরুতেই প্রতিষ্ঠানটি প্রায় ৫০ লাখ রেনু পোনা উৎপাদন করেছে। কিন্তু উৎপাদিত এসব পোনা ন্যায্যমূল্যে বিক্রি করতে না পারায় চরম বিপাকে পড়েছেন মালিকরা।

সংশ্লিষ্টরা জানান, ভারত থেকে অবৈধভাবে আসা নিম্নমানের ও ভেজাল রেনু পোনা কম দামে দেশের বিভিন্ন সীমান্তবর্তী এলাকায়, বিশেষ করে বাগেরহাটের ফকিরহাট, বটলতলা ও কুড়িয়া ব্রিজ এলাকায় বিক্রি হচ্ছে। ফলে দেশীয় হ্যাচারির উৎপাদিত মানসম্মত পোনা বাজারে প্রতিযোগিতায় টিকতে পারছে না।

এদিকে নদ-নদী ও সাগর থেকে নির্বিচারে রেনু আহরণও হ্যাচারী শিল্পের জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। এতে একদিকে যেমন প্রাকৃতিক পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, অন্যদিকে হ্যাচারিগুলোর উৎপাদিত পোনার বাজার সংকুচিত হয়ে পড়ছে।

হ্যাচারী মালিকদের অভিযোগ, উৎপাদিত রেনু পোনা বিক্রির জন্য পরিবহনের সময় পথে বিভিন্ন স্থানে চাঁদাবাজদের কবলে পড়তে হয়। এতে আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি ব্যবসা পরিচালনায় বাড়ছে অনিশ্চয়তা।

একজন হ্যাচারী মালিক জানান, “অবৈধ রেনু পোনা প্রবেশ বন্ধ না হলে এবং চাঁদাবাজি থেকে রেহাই না পেলে হ্যাচারী চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হবে না।”

প্রতিটি হ্যাচারিতে ৩০ থেকে ৫০ জনের বেশি শ্রমিক কাজ করেন। হ্যাচারিগুলো বন্ধ হয়ে গেলে শুধু মালিকরাই নয়, জীবিকা হারানোর শঙ্কায় পড়বেন শত শত শ্রমিক।

চিংড়ি হ্যাচারী মালিকরা অবৈধ রেনু পোনা প্রবেশ বন্ধ, নির্বিচারে রেনু আহরণ রোধ এবং পরিবহন পথে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও বাংলাদেশ সরকারের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

এ বিষয়ে কলাপাড়া সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা অপু সাহা বলেন, “চিংড়ি হ্যাচারী ব্যবসায়ীদের সংকট নিরসনের বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।”

তবে সংশ্লিষ্টদের মতে, অবৈধ রেনু পোনা প্রবেশ ও নির্বিচার আহরণ বন্ধে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে হারিয়ে যেতে পারে দেশের সম্ভাবনাময় এ চিংড়ি হ্যাচারী শিল্প।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *