অনলাইন ডেস্ক
ইরানের সাতটি শর্ত পূরণ না হওয়া পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ‘শাস্তিমূলক পদক্ষেপ’ অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছে দেশটির ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম প্রেস টিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আইআরজিসির মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হোসেইন মোহেব্বি এ কথা জানিয়েছেন।
মোহেব্বি দাবি করেন, সাম্প্রতিক যুদ্ধে ইরান বিজয়ী হয়েছে। এখন সেই বিজয়কে ‘স্থায়ী কৌশলগত প্রতিরোধক্ষমতায়’ রূপান্তর করা হচ্ছে। তাঁর বক্তব্যে হরমুজ প্রণালিকে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে চাপ প্রয়োগের অন্যতম হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।
হরমুজ প্রণালি নিয়ে টানাপোড়েন
মোহেব্বির দাবি, হরমুজ প্রণালিতে অবাধ নৌ চলাচল নিশ্চিত করা ছিল যুক্তরাষ্ট্রের ঘোষিত অন্যতম লক্ষ্য। তবে সামরিক অভিযান চালিয়েও ওয়াশিংটন সেই লক্ষ্য অর্জন করতে পারেনি।
তিনি বলেন, বিশ্বের সবচেয়ে বড় নৌবাহিনী থাকা সত্ত্বেও যুক্তরাষ্ট্র কয়েক ঘণ্টার জন্যও হরমুজ প্রণালি খোলা রাখতে সক্ষম হয়নি।
পারস্য উপসাগর ও ওমান উপসাগরের মধ্যে সংযোগকারী গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ দিয়ে শান্তিকালীন সময়ে বিপুল পরিমাণ তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস পরিবহন করা হয়। ফলে হরমুজ প্রণালির নৌ চলাচল ব্যাহত হলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহ ও বৈশ্বিক বাজারে এর প্রভাব পড়তে পারে।
ইরানের পক্ষ থেকে সাম্প্রতিক সময়ে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খোলার বিষয়ে শর্তসাপেক্ষ প্রস্তাব দেওয়ার কথাও জানানো হয়েছে। তেহরানের বক্তব্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র সামরিক চাপ কমানো এবং ইরানের ওপর আরোপিত কিছু নিষেধাজ্ঞা ও অবরোধ প্রত্যাহার করলে নৌপথটি পুনরায় খোলার বিষয়ে আলোচনা হতে পারে।
বিজয়কে দীর্ঘমেয়াদি প্রতিরোধে রূপান্তরের দাবি
আইআরজিসির মুখপাত্র বলেন, সাম্প্রতিক যুদ্ধের বিজয়কে ‘স্থায়ী কৌশলগত প্রতিরোধে’ রূপান্তর করছে ইরান। ভবিষ্যতে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপের ক্ষেত্রে প্রতিপক্ষকে আরও বড় ঝুঁকি ও ব্যয়ের মুখে ফেলতে সক্ষমতা গড়ে তোলার বার্তাই এতে রয়েছে বলে তাঁর বক্তব্যে ইঙ্গিত পাওয়া যায়।
তবে আইআরজিসির এসব দাবি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। প্রেস টিভি ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম হওয়ায় তাদের প্রতিবেদনে মূলত ইরানি কর্তৃপক্ষের অবস্থানই তুলে ধরা হয়েছে।
সাত শর্ত কী, স্পষ্ট নয়
আইআরজিসির মুখপাত্রের বক্তব্যে ইরানের সাতটি শর্তের বিস্তারিত উল্লেখ করা হয়নি। তবে তেহরান সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক চাপ কমানো, অবরোধ প্রত্যাহার এবং অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার মতো বিষয়কে আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হিসেবে সামনে এনেছে।
অন্যদিকে ওয়াশিংটন ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং হরমুজ প্রণালিতে অবাধ নৌ চলাচল নিশ্চিত করার বিষয়কে গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য হিসেবে তুলে ধরছে।
দুই পক্ষের অবস্থানের এই পার্থক্যের মধ্যে আইআরজিসির সর্বশেষ বক্তব্য হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে উত্তেজনা ও কূটনৈতিক অচলাবস্থা অব্যাহত থাকার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
