ePaper

৭.

মাদারগঞ্জে বিদ্যালয়ের ৫২ শতাংশ জমি, রেকর্ডে ৪৩—বাকি জমি কোথায়

জামালপুর প্রতিনিধি

জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলার ১৩ নম্বর পূর্ব কোড়াইচুড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নামে থাকা জমির পরিমাণ নিয়ে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

বিদ্যালয়-সংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠার সময় বিদ্যালয়ের নামে মোট ৫২ শতাংশ জমি লিখে দেওয়া হলেও বর্তমানে রেকর্ডে জমির পরিমাণ ৪৩ শতাংশ দেখানো হচ্ছে। পাশাপাশি বিদ্যালয়ের নতুন ভবন, পুরোনো টিনশেড ভবন, শহীদ মিনার ও খেলার মাঠসহ দৃশ্যমানভাবে ব্যবহৃত জমির পরিমাণ প্রায় ২৮ শতাংশ বলে জানা গেছে।

ফলে বিদ্যালয়ের নামে থাকা অবশিষ্ট জমির অবস্থান, বর্তমান দখল ও ব্যবহার এবং এসব জমি থেকে কোনো আয় হচ্ছে কি না—এসব বিষয় নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে।

মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) বিদ্যালয়টি সরেজমিনে পরিদর্শন করে স্থানীয় বাসিন্দা ও বিদ্যালয়-সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা যায়।

বিদ্যালয়-সংশ্লিষ্টদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ১৯৭৩ সালে ওই এলাকার মৃত আব্দুল মজিদ সরকার বিদ্যালয়ের নামে ২৬ শতাংশ জমি দান করেন। একইভাবে মৃত গিয়াস উদ্দীনও ২৬ শতাংশ জমি বিদ্যালয়ের নামে লিখে দেন। সে হিসাবে বিদ্যালয়ের নামে মোট জমির পরিমাণ দাঁড়ায় ৫২ শতাংশ।

তবে বর্তমানে বিদ্যালয়ের নতুন ভবন, পুরোনো টিনশেড ভবন, শহীদ মিনার ও খেলার মাঠসহ দৃশ্যমান স্থাপনাগুলো প্রায় ২৮ শতাংশ জমির মধ্যে রয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।

বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা মোস্তাকিমা বেগম ও সহকারী শিক্ষক ফজলুল করিম জানান, বিদ্যালয়ের পশ্চিম পাশে প্রায় ১০ শতাংশ জমি পুকুর হিসেবে রয়েছে। এছাড়া উত্তর পাশেও কিছু জমি রয়েছে, যা বিদ্যালয়ের মূল স্থাপনা থেকে কিছুটা দূরে এবং ভিন্ন দাগে অবস্থিত।

সহকারী শিক্ষক ফজলুল করিমের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, উত্তর পাশের ওই জমিতে বর্তমানে তার চাচা চাষাবাদ করছেন। একই সঙ্গে তিনি জানান, বিদ্যালয়ের জমি বর্তমানে রেকর্ডে ৪৩ শতাংশ হিসেবে রয়েছে।

এদিকে পশ্চিম পাশের প্রায় ১০ শতাংশ পুকুর নিয়েও স্থানীয় পর্যায়ে ভিন্ন ভিন্ন দাবি রয়েছে। স্থানীয় একজনের অভিযোগ, ওই পুকুরে বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকার দেবর মাছ চাষ করছেন। অপরদিকে স্থানীয় আব্দুস সাত্তারের পরিবারের দাবি, পুকুরটির ১০ শতাংশ জমি তাদের।

এ ছাড়া স্থানীয়দের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, বিদ্যালয়ের নামে থাকা জমির কোনো কোনো অংশ ব্যক্তি পর্যায়ে চাষাবাদ কিংবা অন্যভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে। এসব জমি ব্যবহারের বিনিময়ে বিদ্যালয় কোনো অর্থ পাচ্ছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তারা।

সব মিলিয়ে প্রশ্ন উঠেছে—১৯৭৩ সালে দুই ব্যক্তি ২৬ শতাংশ করে মোট ৫২ শতাংশ জমি বিদ্যালয়ের নামে লিখে দেওয়ার তথ্য থাকলে বর্তমানে রেকর্ডে ৪৩ শতাংশ জমি কেন? বাকি জমির অবস্থান কোথায়? বিদ্যালয়ের নামে থাকা মোট জমির কতটুকু বর্তমানে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ব্যবহার করছে, কতটুকু পুকুর হিসেবে রয়েছে এবং কতটুকু ব্যক্তি পর্যায়ে চাষাবাদ বা অন্য কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে—এসব বিষয় এখন স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন।

স্থানীয়দের দাবি, বিদ্যালয়ের জমির দাগ নম্বর, খতিয়ান, রেকর্ডভুক্ত জমির পরিমাণ, দানপত্র এবং বাস্তবে বিদ্যালয়ের দখলে থাকা জমির পরিমাণ যাচাই করে প্রকৃত চিত্র বের করা হোক। একই সঙ্গে বিদ্যালয়ের জমি থেকে কোনো আয় হয়ে থাকলে তা প্রতিষ্ঠানের হিসাবের অন্তর্ভুক্ত হচ্ছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন তারা।

এ বিষয়ে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা খলিলুর রহমান বলেন, ‘আপনাদের মাধ্যমে আমি বিষয়টি অবগত হয়েছি। সরেজমিনে তদন্ত করে বিষয়টি খতিয়ে দেখব এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।’