মাকসুদ আলম সোনাইমুড়ী চাটখীল নোয়াখালী প্রতিনিধি ঃ
এক অনন্য স্বীকৃতি, ও আবেগঘন পরিবেশ আর উৎসবমুখর আয়োজনের মধ্য দিয়ে সোনাইমুড়ীর অন্যতম একাডেমিক কেয়ার ‘অনুসর্গ শিক্ষা পরিবার’-এর এসএসসি ও এইচএসসি ২০২৬ ব্যাচের শিক্ষার্থীদের বিদায় সংবর্ধনা (ফেয়ারওয়েল) অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার (২৯ জুন) বেলা ১১টায় সোনাইমুড়ী নিউ মার্কেটের ফুড টানেল রেস্টুরেন্ট-এ জমকালো এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। বিদায়ী দুই ব্যাচের ছাত্র-ছাত্রীদের পদচারণায় মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো অনুষ্ঠানস্থল।
অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের সার্বিক ফলাফল, নিয়মিত উপস্থিতি, নিয়মানুবর্তিতা ও শিক্ষায় বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ স্টুডেন্ট অব এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ড প্রদান করা হয়। এতে এইচএসসি ২০২৬ ব্যাচ থেকে এই গৌরবময় সম্মাননা লাভ করেন নুজহাত আহসিম সিমিয়া এবং এসএসসি ২০২৬ ব্যাচ থেকে সম্মাননা অর্জন করেন নুজহাত জামান রাহি।
বিদায়ের এই লগ্নে আবেগঘন অনুভূতি প্রকাশ করেন শিক্ষার্থীরা। দীর্ঘ পথচলার স্মৃতি চারণ করে শিক্ষার্থী সুলতানা দোলা বলেন, অনুসর্গ শুধু একটি কোচিং সেন্টার নয়, এটি আমাদের স্বপ্ন ছোঁয়ার এবং আত্মবিশ্বাস গড়ার এক অনন্য অনুপ্রেরণার জায়গা। এখানে আমরা পড়াশোনার পাশাপাশি জীবনের সঠিক দিকনির্দেশনা পেয়েছি। এই বিদায়ের মধ্য দিয়ে অনুসর্গের সাথে আমার দীর্ঘ ৭ বছরের এক সোনালী জার্নির সমাপ্তি ঘটছে, যা আমার জীবনে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।
সম্মাননা পেয়ে উচ্ছ্বসিত নুজহাত আহসিম সিমিয়া বলেন, স্টুডেন্ট অব এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ড পাওয়া আমার জন্য অত্যন্ত গর্বের ও আনন্দের। এই অর্জনের পুরো কৃতিত্ব আমার শিক্ষকের। স্যারের অক্লান্ত পরিশ্রম, আন্তরিক সহযোগিতা আর প্রতিনিয়ত উৎসাহ না থাকলে আজ আমি এই জায়গায় পৌঁছাতে পারতাম না।
আরেক শিক্ষার্থী জান্নাতুল মাওয়া তাঁর অভিজ্ঞতার কথা জানিয়ে বলেন, অনুসর্গে আমরা আমাদের কাঙ্ক্ষিত শিক্ষা ও সর্বোচ্চ সেবা পেয়েছি। এখানকার শিক্ষকদের বন্ধুত্বপূর্ণ আচরণ এবং পাঠদানের সহজ পদ্ধতি আমাদের শেখার আগ্রহকে বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছিল। অনুষ্ঠানে উপস্থিত অন্যান্য শিক্ষার্থীরাও প্রতিষ্ঠানের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, অনুসর্গের মানসম্মত শিক্ষা ও সঠিক গাইডলাইন তাদের ভবিষ্যৎ পথচলাকে অনেক মসৃণ করবে।
শিক্ষার্থীদের এই সাফল্যে গর্ব প্রকাশ করে অনুসর্গ শিক্ষা পরিবারের প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক মোহাম্মদ উল্যাহ্ ভূঁইয়া বলেন, আমাদের প্রতিষ্ঠান থেকে শিক্ষা গ্রহণ করে অসংখ্য শিক্ষার্থী আজ দেশের শীর্ষস্থানীয় ও স্বনামধন্য উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে কৃতিত্বের সাথে অধ্যয়ন করছে। শিক্ষার্থীদের এই ধারাবাহিক সাফল্যই আমাদের প্রতিনিয়ত আরও ভালো কিছু করার এবং নতুন উদ্যমে কাজ করার অনুপ্রেরণা জোগায়।
তিনি আরও যোগ করেন, আমাদের কাছে পড়তে আসা শিক্ষার্থীদের শতভাগ পাস এবং সর্বোচ্চ জিপিএ-৫.০০ পাওয়ার এক গৌরবময় রেকর্ড রয়েছে। আমরা শুধু ভালো ফলাফলই নয়, শিক্ষার্থীদের একজন ভালো মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতেও সচেতন। ভবিষ্যতেও এই মানসম্মত শিক্ষার ধারা বজায় রাখতে আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাব।
অনুষ্ঠানের শেষাংশে বিদায়ী শিক্ষার্থীদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ ও দীর্ঘায়ু কামনা করে বিশেষ দোয়া করা হয় এবং সবার মাঝে ক্রেস্ট বিতরণ করা হয়। পরিশেষে, স্মৃতিময় ফটোসেশনের মাধ্যমে চমৎকার এই আয়োজনের সমাপ্তি ঘটে।
