ePaper

সরাইলে মেঘনা নদীতে  ইউএনওর অভিযান অবৈধ বালু উত্তোলনে ৭ জনের কারাদন্ড

মো. তাসলিম উদ্দিন সরাইল(ব্রাহ্মণবাড়িয়া)

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরাইল উপজেলার মেঘনা নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধ করেন ইউএনও। সরাইল উপজেলা অরুয়াইল ইউনিয়নের চর কাকরিয়া মেঘনা নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধ করতে অভিযান চালিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. সাইফুল ইসলাম। ১২ আগষ্ট দুপুরবেলা উপজেলার অরুয়াইল ইউনিয়নের এলাকায় এই অভিযান চালানো হয়। মেঘনা নদীর তীরে অবৈধ ভাবে ড্রেজারের মাধ্যমে মাটি উত্তোলনের সময় উপজেলা  প্রশাসনের অভিযানে বাল্কহেড একটি ও ড্রেজার মেশিন একটি জব্দ করা হয়। এবং ৭(সাত) জনকে আটক করে ভ্রাম্যমান আদাল  প্রত্যেককে বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা-২০১০ আইনে ৪০ (চল্লিশ)দিন বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেন। সরাইল উপজেলা নির্বাহী অফিসার(ইউএনও) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. সাইফুল ইসলাম।

ভ্রাম্যমাণ আদালতে সাজাপ্রাপ্ত হলেন- রাহাত (১৭), মো: আলামিন (২৫), হৃদয় (১৮), কামাল (৫০), আবুল কাসেম (৪০), মো: ফুরকান মিয়া (৩৩), আওলাদ হোসেন (২৮)।স্থানীয়দের অভিযোগ, একটি প্রভাবশালী চক্র দীর্ঘদিন ধরে ড্রেজার মেশিন বসিয়ে মেঘনা থেকে অবৈধভাবে বালু তুলে বিক্রি করছিল। এতে নদীভাঙনের আশঙ্কায় দিন কাটছে মেঘনাপাড়ের মানুষের। ইতিমধ্যে অনেক আবাদি জমি, ঘরবাড়ি ও ফলের বাগান নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। তাদের অভিযোগ, এই চক্রের সঙ্গে রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী ব্যক্তিরা জড়িত থাকায় ভয়ে কেউ মুখ খুলতে সাহস পান না।ভুক্তভোগী কৃষকেরা জানান,  ‘আমরা দীর্ঘদিন ধরে উপজেলা প্রশাসনে অভিযোগ করে আসছিলাম। অবশেষে ইউএনও অভিযান চালানোয় আমরা স্বস্তি পেয়েছি।আরেক কৃষক সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘আমার আবাদি জমি এখন ভাঙনের মুখে। বালু উত্তোলনকারীদের দাপটে আমরা আতঙ্কে ছিলাম। চক্রটি যেন আবার বালু তোলা শুরু করতে না পারে, সে জন্য প্রশাসনকে সতর্ক থাকতে হবে।’

অরুয়াইল ইউনিয়নের একজন জনপ্রতিনিধি নাম না বলার শর্তে জানান, তার ইউনিয়নে একটি ‘বালুখেকো’ চক্র রয়েছে যারা বিভিন্ন স্থানে ড্রেজার মেশিন বসিয়ে বালু তুলে অবৈধভাবে টাকার মালিক বনে যাচ্ছে। অবৈধ বালু উত্তোলনের কারণে ইউনিয়নের বিভিন্ন অংশে ভাঙন আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।

এ বিষয়ে সরাইল উপজেলা নির্বাহী অফিসার  (ইউএনও) মো. সাইফুল ইসলাম এ প্রতিনিধি”কে বলেন, ‘সরকারি অনুমোদন ছাড়া বালু উত্তোলন সম্পূর্ণ বে”আইনি। এতে পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি হয়। মেঘনা পাড়ের ভাঙনের অন্যতম কারণ এই অবৈধ বালু উত্তোলন। খবর পাওয়ামাত্রই আমরা অভিযান পরিচালনা করছি। এর বিরুদ্ধে প্রশাসনের কঠোর অবস্থান অব্যাহত থাকবে।ইউএনও আরোও  বলেন,জব্দকৃত বাল্কহেড ও ড্রেজার মেশিন ইউপি চেয়ারম্যানের জিম্মায় রয়েছে। অবৈধভাবে বালু উত্তোলন ও  মাটি কাটার ক্ষেত্রে কোনো আপোষ হবে না। সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে যারা কৃষি খাতে ও নদীর ক্ষতি করছে, তাদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হবে।

 প্রশাসনের এ অভিযানে এলাকাবাসী সন্তোষ প্রকাশ করেছেন এবং অবৈধ বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে নিয়মিত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।