মোঃ ফরিদুল ইসলাম সাটুরিয়া (মানিকগঞ্জ) প্রতিনিধি
মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি (যা স্থানীয়দের কাছে সাটুরিয়া সদর হাসপাতাল নামে পরিচিত) যেন এক প্রকার ‘রেফার’ রোগে আক্রান্ত। নামেই শুধু হাসপাতাল, অথচ চিকিৎসা পাওয়ার আশায় কোনো রোগী এলেই এখানে মেলে শুধু একরাশ অবহেলা আর ফিরিয়ে দেওয়ার গল্প। দূর-দূরান্ত থেকে আসা অসহায় রোগীদের চিকিৎসাসেবা দেওয়ার চেয়ে অন্য হাসপাতালে পাঠিয়ে ‘দায়মুক্ত’ হতেই যেন বেশি ব্যস্ত এখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা। এরমধ্যে আবার ওষুধ কোম্পানির লোকদের অত্যাচারে অত্যাচারিত সাধারণ জনগণ। স্থানীয় ভুক্তভোগী মানুষের অভিযোগ, হাসপাতালটিতে চিকিৎসা নিতে আসা মাত্রই শুরু হয় চিকিৎসকদের অজুহাত। রোগী দেখা মাত্রই চিকিৎসকদের মুখ থেকে বের হয়— “এই নেই, সেই নেই, আমাদের কাছে পর্যাপ্ত সাপোর্ট নেই।” কোনো কোনো ক্ষেত্রে উন্নত চিকিৎসার নামে রোগীদের মনে তৈরি করা হয় এক ধরণের মিথ্যা ভয় ও আতঙ্ক।“এখানে এলে মনে হয় ডাক্তাররা আমাদের চিকিৎসা দিতে চান না। সামান্য সমস্যা নিয়েও কথা বললে তারা বলেন, অন্য জায়গায় চিকিৎসা নিলে ভালো হয়। এক কথায় প্রকাশ— রোগী এলেই অন্য হাসপাতালে রেফার করে তারা নিজেদের দায়িত্ব এড়াতে চান।” — ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন এক ভুক্তভোগী।
সেবার বদলে মিলছে কেবলই অজুহাত
অনুসন্ধানে ও স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায়, হাসপাতালটিতে প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি কিংবা জনবল থাকলেও চিকিৎসকদের একশ্রেণীর অনাগ্রহের কারণে সাধারণ মানুষ সরকারি স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। সড়ক দুর্ঘটনা বা জরুরি কোনো রোগী এলে প্রাথমিক চিকিৎসাটুকু না দিয়ে সরাসরি ঢাকা বা মানিকগঞ্জ সদর হাসপাতালে পাঠিয়ে দেওয়া এখন নিত্যদিনের নিয়মে পরিণত হয়েছে।ভোগান্তিতে সাধারণ ও দরিদ্র মানুষ।সাটুরিয়া ও এর আশেপাশের অঞ্চলের হাজার হাজার দরিদ্র মানুষের একমাত্র ভরসা এই সরকারি হাসপাতালটি। কিন্তু হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের এমন ‘দায়সারা’ আচরণের কারণে চরম বিপাকে পড়তে হচ্ছে নিম্নআয়ের মানুষদের। সরকারি হাসপাতালে সেবা না পেয়ে বাধ্য হয়ে অনেককে চড়া মূল্যে বেসরকারি ক্লিনিক বা ডায়াগনস্টিক সেন্টারে যেতে হচ্ছে। আর যারা আর্থিকভাবে অসচ্ছল, তারা বিনা চিকিৎসায় বাড়ি ফিরে যাচ্ছেন।ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষের দাবি, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অবিলম্বে এই হাসপাতালে ঝটিকা সফর করা উচিত। চিকিৎসকদের এই “নাই নাই” অজুহাত এবং কথায় কথায় রোগী রেফার করার সিন্ডিকেট বন্ধ করে সাটুরিয়া হাসপাতালে সাধারণ মানুষের প্রকৃত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার জন্য স্বাস্থ্যমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করছেন এলাকাবাসী।
