রাজীব চৌধুরী,কেশবপুর
পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, কৃষিভিত্তিক উদ্যোক্তা সৃষ্টি এবং পরিবেশবান্ধব কৃষি ব্যবস্থার সম্প্রসারণে কৃষকদের আরও দক্ষ ও আত্মনির্ভরশীল করে গড়ে তুলতে কেশবপুরে পার্টনার ফিল্ড স্কুল কংগ্রেস-২০২৬অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (৮ জুন) কেশবপুর উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর এর বাস্তবায়নে এবং প্রোগ্রাম অন এগ্রিকালচারাল অ্যান্ড রুরাল ট্রান্সফরমেশন ফর নিউট্রিশন, এন্টারপ্রেনরশিপ অ্যান্ড রেজিলিয়েন্স ইন বাংলাদেশ (পার্টনার) প্রকল্পের আওতায় এই পার্টনার ফিল্ড স্কুল কংগ্রেস অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে উপজেলা কৃষি অফিসার মোঃ আব্দুল্ল্যাহ আল মামুন এর সভাপতিত্বে ও কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মোঃ ইয়াসির আরাফাত এর সঞ্চালনায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন কেশবপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার রেকসোনা খাতুন।বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ মেশকাতুল ইসলাম, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর যশোরের উপ-পরিচালক মোঃ মোশাররফ হোসেন, কেশবপুর থানার অফিসার ইনচার্জ রোকসানা খাতুন, উপজেলা সিনিয়র মৎস্য অফিসার সুদীপ বিশ্বাস, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার সেখ ফিরোজ আহমেদ, উপজেলা সমবায় অফিসার নাসিমা খাতুন প্রমুখ। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে কেশবপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার রেকসোনা খাতুন বলেন, দেশের টেকসই কৃষি উন্নয়নের জন্য পুষ্টিসমৃদ্ধ খাদ্য উৎপাদন, আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর চাষাবাদ এবং কৃষকদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলার বিকল্প নেই। কৃষিকে লাভজনক ও যুগোপযোগী খাতে রূপান্তরের লক্ষ্যে সরকার নানামুখী কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। এসব সুযোগ কাজে লাগিয়ে কৃষকদের নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন ও উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধিতে আরও মনোযোগী হতে হবে।তিনি আরও বলেন, পার্টনার প্রকল্পের মাধ্যমে কৃষকরা আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি, পুষ্টিবান্ধব উৎপাদন ব্যবস্থা এবং উদ্যোক্তা উন্নয়ন বিষয়ে বাস্তবমুখী প্রশিক্ষণ ও অভিজ্ঞতা অর্জন করছেন, যা গ্রামীণ অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করতে সহায়ক ভূমিকা রাখবে।সভাপতির বক্তব্যে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ আব্দুল্ল্যাহ আল মামুন বলেন, প্রকল্পটির মূল লক্ষ্য হলো কৃষকদের দক্ষতা বৃদ্ধি, পুষ্টিকর ফসল উৎপাদন, কৃষিভিত্তিক উদ্যোক্তা গড়ে তোলা এবং জলবায়ু সহনশীল কৃষি ব্যবস্থা সম্প্রসারণ। পার্টনার ফিল্ড স্কুল কার্যক্রমের মাধ্যমে কৃষকরা হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ গ্রহণের সুযোগ পাচ্ছেন এবং আধুনিক প্রযুক্তি সম্পর্কে বাস্তব জ্ঞান অর্জন করছেন।পরিবেশবান্ধব কৃষি চর্চা একদিকে যেমন উৎপাদন ব্যয় কমায়, অন্যদিকে মাটির উর্বরতা ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এসব প্রযুক্তি কৃষকদের কাছে পৌঁছে দিতে কৃষি বিভাগ নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।অনুষ্ঠানে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে আগত শতাধিক কৃষক ও কৃষাণী অংশগ্রহণ করেন।অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী কৃষক ও কৃষাণীরা তাদের অভিজ্ঞতা বিনিময় করেন এবং আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির প্রয়োগের মাধ্যমে উৎপাদন বৃদ্ধি ও আয় উন্নয়নের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।
