ePaper

ফরিদপুরকে বিভাগ ঘোষণার দাবি সংসদে—পদ্মা রক্ষা ও পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার জোরালো আহ্বান

ব্যুরো চীফ, ফরিদপুর:

ফরিদপুরকে বিভাগ হিসেবে ঘোষণা, পদ্মা নদী রক্ষা এবং একটি পূর্ণাঙ্গ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের দাবি জাতীয় সংসদে জোরালোভাবে উত্থাপন করেছেন ফরিদপুর-৩ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য চৌধুরী নায়াব ইউসুফ। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের অধিবেশনে দেওয়া তার বক্তব্য ইতোমধ্যে স্থানীয় জনগণের মাঝে নতুন আশার সঞ্চার করেছে।

সংসদে বক্তব্য রাখতে গিয়ে এমপি নায়াব ইউসুফ বলেন, “দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে ফরিদপুরবাসী অবহেলা ও বঞ্চনার শিকার। এই অবস্থা থেকে উত্তরণ ঘটাতে হলে ফরিদপুরকে বিভাগ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া এখন সময়ের অপরিহার্য দাবি।” তিনি উল্লেখ করেন, বিভাগ ঘোষণা করা হলে প্রশাসনিক কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে এবং দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে।

তিনি আরও বলেন, পদ্মা নদীর ভাঙন ও পরিবেশগত সংকট প্রতিনিয়ত ভয়াবহ আকার ধারণ করছে। তাই নদী রক্ষায় কার্যকর ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ জরুরি। এ ক্ষেত্রে ব্যারেজ নির্মাণসহ আধুনিক নদী ব্যবস্থাপনার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। ফরিদপুরে একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, “উচ্চশিক্ষার সুযোগ সীমিত হওয়ায় এ অঞ্চলের শিক্ষার্থীরা পিছিয়ে পড়ছে। একটি পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করা হলে শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলা সম্ভব হবে।” এদিকে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে তারেক রহমান রাজেন্দ্র কলেজ মাঠে এক নির্বাচনী সমাবেশে ফরিদপুরের উন্নয়নে একাধিক প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। এর মধ্যে ছিল ফরিদপুরে একটি পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা, ফরিদপুরকে সিটি কর্পোরেশন ঘোষণা, বিভাগ বাস্তবায়ন এবং পদ্মা নদীতে ব্যারেজ নির্মাণ। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, বগুড়া সিটি কর্পোরেশন উদ্বোধন করা হলেও ফরিদপুর সিটি কর্পোরেশন ঘোষণার বিষয়ে এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি নেই। এতে করে সাধারণ মানুষের মধ্যে হতাশা বাড়ছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ফরিদপুরকে বিভাগ ঘোষণা করা হলে প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণ নিশ্চিত হবে এবং এই অঞ্চলের অবকাঠামো, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও অর্থনৈতিক খাতে ব্যাপক উন্নয়ন ঘটবে। একই সঙ্গে পদ্মা নদী রক্ষায় কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা হলে নদীভাঙন কবলিত মানুষও স্থিতিশীল জীবন ফিরে পাবে। সংসদে উত্থাপিত এসব দাবি বাস্তবায়ন হলে ফরিদপুরের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন পূরণ হবে বলে আশা করছেন স্থানীয়রা। এখন দেখার বিষয়, সরকারের পক্ষ থেকে এসব গুরুত্বপূর্ণ দাবির প্রতি কত দ্রুত এবং কার্যকর সাড়া আসে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *