ePaper

ফরিদপুরে বাড়ছে হাম: ২৪ ঘণ্টায় নতুন ১৫ আক্রান্ত, মোট মৃত্যু ৬

ব্যুরো চীফ,ফরিদপুর

ফরিদপুর জেলায় আবারও উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে হাম রোগের সংক্রমণ। গত ২৪ ঘণ্টায় (২০ এপ্রিল ২০২৬, সকাল ৮টা পর্যন্ত) জেলায় নতুন করে আরও ১৫ জন আক্রান্ত হয়েছেন। এ নিয়ে চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪০৮ জনে। একই সময়ে জেলায় হামজনিত মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬ জনে।

জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে কোনো মৃত্যুর ঘটনা না ঘটলেও পূর্বে আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মোট ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। এতে জনমনে আতঙ্ক বিরাজ করছে, বিশেষ করে শিশুদের মধ্যে এই রোগের সংক্রমণ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ আরও বেড়েছে।

উপজেলাভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, সংক্রমণ সবচেয়ে বেশি সালথা উপজেলায়, যেখানে আক্রান্তের সংখ্যা ১৭ জন। এছাড়া বোয়ালমারীতে ১২ জন, আলফাডাঙ্গায় ১০ জন, ভাঙ্গায় ৮ জন, সদরপুরে ৭ জন, ফরিদপুর সদরে ৫ জন, চরভদ্রাসনে ৪ জন, মধুখালীতে ৩ জন এবং নগরকান্দায় ২ জন আক্রান্ত হয়েছেন। এসব পরিসংখ্যান থেকে স্পষ্ট, জেলার প্রায় সব উপজেলাতেই হাম ছড়িয়ে পড়েছে। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতালে ৬ জন এবং ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৯ জন নতুন রোগী ভর্তি হয়েছেন। বর্তমানে এ দুটি হাসপাতালে মোট ভর্তি রোগীর সংখ্যা ৮৯ জন। একই সময়ে ১৮ জন রোগী সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন, যা কিছুটা স্বস্তির খবর হলেও নতুন সংক্রমণের হার পরিস্থিতিকে উদ্বেগজনক করে তুলছে। স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ, যা মূলত শিশুদের মধ্যে দ্রুত ছড়ায়। তবে প্রাপ্তবয়স্করাও এর ঝুঁকির বাইরে নয়। রোগ প্রতিরোধে নিয়মিত টিকাদানই সবচেয়ে কার্যকর উপায় বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

এ পরিস্থিতিতে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ হাম প্রতিরোধে টিকাদান কার্যক্রম জোরদার করেছে। পাশাপাশি অভিভাবকদের তাদের শিশুদের নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী টিকা নিশ্চিত করার জন্য বিশেষভাবে আহ্বান জানানো হয়েছে। স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা সতর্ক করে বলেছেন, টিকাদানে অবহেলা করলে সংক্রমণ আরও বাড়তে পারে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, সচেতনতা বৃদ্ধি, দ্রুত শনাক্তকরণ এবং সময়মতো চিকিৎসা গ্রহণের মাধ্যমে হাম নিয়ন্ত্রণ সম্ভব। তাই জ্বর, সর্দি, চোখ লাল হওয়া বা শরীরে লালচে ফুসকুড়ি দেখা দিলে দ্রুত নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনায় ফরিদপুরে হাম প্রতিরোধে এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। অন্যথায় এ সংক্রমণ আরও বিস্তৃত হয়ে জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় হুমকি হয়ে উঠতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *