শিক্ষা খাতের উন্নয়নে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, এই পরিকল্পনার আওতায় দেশে সব উপজেলায় টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজ এবং সব জেলায় পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
বুধবার (০৮ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে বিএনপির সংসদ সদস্য সেলিম রেজার প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এই তথ্য দেন। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে বৈঠকের শুরুতেই প্রধানমন্ত্রীর জন্য নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর টেবিলে বিষয়টি উত্থাপন করা হয়।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার শিক্ষাকে জাতির শ্রেষ্ঠ বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচনা করে। নির্বাচনী ইশতেহারে শিক্ষা খাতে বরাদ্দ পর্যায়ক্রমে জিডিপির ৫ শতাংশে উন্নীত করার পরিকল্পনা ব্যক্ত করা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চলতি অর্থবছরে দুই লাখ শিক্ষার্থীর মধ্যে বিনা মূল্যে স্কুলড্রেস বিতরণ করা হবে। এছাড়া পর্যায়ক্রমে সব উপজেলায় স্কুল ফিডিং/মিড-ডে মিল চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।
নতুন প্রজন্মকে বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় সক্ষম করতে প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও সমমানের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম স্থাপন করা হবে। দেড় হাজার প্রতিষ্ঠান ফ্রি ওয়াই-ফাই পাবে এবং প্রতিটি শিক্ষার্থী ও শিক্ষকের জন্য ‘এডু-আইডি’ প্রদান করা হবে।
মাধ্যমিক পর্যায়ে কারিগরি শিক্ষা বাধ্যতামূলক করার পাশাপাশি, দেশের সব উপজেলায় টেকনিক্যাল স্কুল–কলেজ এবং সব জেলায় পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট স্থাপনের পরিকল্পনা থাকছে। আগামী ১৮০ দিনের মধ্যে ২ হাজার ৩৩৬টি কারিগরি এবং ৮ হাজার ২৩২টি মাদ্রাসা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ফ্রি ওয়াই-ফাই চালু করা হবে। মাদ্রাসা শিক্ষাকে আধুনিক ও যুগোপযোগী করতে স্মার্ট ক্লাসরুম, শিক্ষকের প্রশিক্ষণ এবং কারিগরি কোর্স অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
আইসিটি বিভাগের আওতাধীন বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল (বিসিসি) আগামী ছয় মাসের মধ্যে শিক্ষার্থীদের জন্য আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স, সাইবার সিকিউরিটি, মোবাইল অ্যাপস ডেভেলপমেন্ট ও পাইথন প্রোগ্রামিংসহ আধুনিক ডিজিটাল কোর্সের প্রশিক্ষণ শুরু করবে।
প্রধানমন্ত্রী জানান, নারী শিক্ষার প্রসার এবং সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে দেশের সব উপজেলা সদরে একটি করে মহিলা কলেজ সরকারীকরণের বিষয়টি ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
