সৌমিত্র সুমন,কলাপাড়া(পটুয়াখালী) প্রতিনিধ
পটুয়াখালী জেলা গ্রামবাংলার নীরব সকাল। গাছের ডালে ডালে কিচিরমিচির, হালকা বাতাসে দুলছে পাতা। প্রকৃতির এই স্বাভাবিক ছন্দকে আরও প্রাণবন্ত করে তুলেছে শত শত পাখির অবাধ বিচরণ। কলাপাড়া উপজেলা-এর মুসুল্লিয়াবাদ গ্রামের এমনই এক সবুজ আঙিনা এখন পরিচিত “বিহঙ্গ বিলাস” নামে—দেশীয় ও পরিযায়ী পাখির সংরক্ষিত এক অভয়াশ্রম।
ব্যক্তিগত উদ্যোগ থেকে প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতি স্থানীয় বাসিন্দা আখতারুজ্জামানের দীর্ঘদিনের শ্রম, ভালোবাসা ও সচেতনতার ফসল এই বাগান। নিজের বাড়ির আঙিনায় ফলজ, বনজ ও ছায়াদানকারী গাছ রোপণ, পাখিদের জন্য পানির পাত্র স্থাপন এবং নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করে তিনি ধীরে ধীরে গড়ে তোলেন পাখিদের জন্য এক প্রাকৃতিক আশ্রয়স্থল। দেশীয় নানা প্রজাতির পাখির পাশাপাশি মৌসুমভিত্তিক পরিযায়ী পাখিও এখানে এসে ভিড় জমায়। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বাগানটি পাখিপ্রেমীদের কাছেও আগ্রহের কেন্দ্র হয়ে ওঠে। জেলা প্রশাসকের পরিবেশবান্ধব উদ্যোগ বিষয়টি নজরে আসে জেলা প্রশাসনের। জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে ইতিবাচক ভূমিকা রাখার স্বীকৃতি হিসেবে জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ শহীদ হোসেন চৌধুরী-এর উদ্যোগে স্থানটিকে আনুষ্ঠানিকভাবে “বিহঙ্গ বিলাস” নামে দেশীয় ও পরিযায়ী পাখির সংরক্ষিত আবাসস্থল ঘোষণা করা হয়। এ উপলক্ষে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কলাপাড়ার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ইয়াসিন সাদীক-এর উপস্থিতি ও তত্ত্বাবধানে এবং স্বেচ্ছাসেবী প্রাণিকল্যাণ ও পরিবেশবাদী সংগঠন অহরসধষ খড়াবৎং ড়ভ চধঃঁধশযধষর (অখচ)-এর সহযোগিতায় “দেশীয় ও পরিযায়ী পাখির কলোনি” শীর্ষক একটি বিলবোর্ড স্থাপন করা হয়।প্রশাসনের প্রত্যাশা ও বার্তা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ইয়াসিন সাদীক বলেন,“পাখি প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। স্থানীয়ভাবে গড়ে ওঠা এমন উদ্যোগকে প্রশাসনিক স্বীকৃতি দেওয়া আমাদের দায়িত্ব। ‘বিহঙ্গ বিলাস’ ভবিষ্যতে একটি আদর্শ অভয়ারণ্য হিসেবে গড়ে উঠবে—এটাই আমাদের প্রত্যাশা।” তিনি আরও জানান, পরিবেশ সংরক্ষণে জনসম্পৃক্ততা বাড়াতে প্রশাসন সবসময় উৎসাহ দিয়ে যাবে।
পরিবেশ রক্ষায় এক দৃষ্টান্ত পরিবেশবিদ মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন জলবায়ু পরিবর্তন ও প্রাকৃতিক আবাসস্থল সংকুচিত হওয়ার এ সময়ে এমন উদ্যোগ সত্যিই প্রশংসনীয়। এটি শুধু একটি বাগান নয়, বরং সচেতনতার প্রতীক। ব্যক্তি উদ্যোগ ও প্রশাসনিক সহায়তার সমন্বয়ে কীভাবে একটি ছোট জায়গা জীববৈচিত্র্যের নিরাপদ আশ্রয়ে পরিণত হতে পারে—“বিহঙ্গ বিলাস” তার উজ্জ্বল উদাহরণ।
স্থানীয়দের মতে বাচ্চু গাজী বলেন নিয়মিত তদারকি ও পরিচর্যার মাধ্যমে “বিহঙ্গ বিলাস” একদিন বৃহত্তর পরিসরে পাখি সংরক্ষণের মডেল হিসেবে স্বীকৃতি পাবে। গ্রামবাংলার আকাশে তখন আরও জোরে শোনা যাবে পাখির ডানার শব্দ—প্রকৃতির অপরূপ মুগ্ধতা । তাংঃ০২/০৩/২০২৬।কলাপাড়া পটুয়াখালী
