রফিকুল ইসলাম, সিরাজগঞ্জ
সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ ৫০ শয্যাবিশিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সেবা নিতে এসে অধিকাংশ সময় ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে রোগীদের। ডাক্তার সংকট থাকায় সঠিক সময়ে সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে রোগী ও তার স্বজনরা এতে বিভিন্ন ক্লিনিক/হাসপাতালে সেবার জন্য যেতে হচ্ছে তাদের। প্রতিদিন এই হাসপাতালের ইনডোর ও আউটডোর মিলিয়ে প্রায় ১২০ থেকে ১৩০ রোগী চিকিৎসা নিতে আসেন। অথচ চিকিৎসা প্রদানে সেখানে কর্মরত আছেন মাত্র তিনজন ডাক্তার। নির্ধারিত ১১টি ডাক্তার পদের বিপরীতে এই অপ্রতুল সংখ্যক চিকিৎসক দিয়ে চলছে টানাপোড়েন সেবা কার্যক্রম। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, আউটডোরের সামনে রোগীদের লম্বা লাইন। কেউ এসেছেন সর্দি-জ্বর নিয়ে, কেউ ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে। রোগীদের অধিকাংশই নিম্নআয়ের, যারা ভরসা করেন এই সরকারি স্বাস্থ্য কেন্দ্রটির ওপর। অধিকাংশ মানুষ অভিযোগ করেন, কাঙ্খিত সেবা তারা পাচ্ছেন না। আমিনুল ইসলাম নামে আরও এক ভুক্তভোগী বলেন, এই হাসপাতালে তেমন কোন ডাক্তার নেই সঠিক সময়ে কোন চিকিৎসা পাওয়া যায় না। সবচেয়ে দু:খজনক বিষয় হলো হাসপাতালে অপারেশনের যন্ত্রপাতির থাকা স্বত্ত্বেও সাধারণ মানুষের কোন কাজে আসছে না। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা যায়, এখানে কনসালটেন্ট (গাইনী, শিশু, সার্জারি), মেডিসিন অফিসার, জুনিয়র ডাক্তার, এবং এনেস্থেসিয়োলজিস্টসহ মোট ১১টি পদ থাকার কথা। কিন্তু বর্তমানে দায়িত্ব পালন করছেন মাত্র তিনজন। আগামী জুন মাসে আরও দুইজন মেডিকেল অফিসার বদলি হয়ে যাবেন বলেও জানা গেছে। এছাড়া তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির বেশ কয়েকটি পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য পড়ে আছে। বর্তমানে কর্মরতরা ডিসেম্বর মাসে অনেকেই অবসরে যাবেন। কামারখন্দ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পরিবার পরিকল্পনা করমকর্তা ড. মো. মমিন উদ্দিন চিকিৎসকের সল্পতার কথা স্বীকার করে বলেন, এব্যাপারে আমি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। আশা করি খুব দ্রুতই এই সমস্যার সমাধান হবে।

