নবচেতনা আন্তর্জাতিক ডেস্ক : নেপালে মাউন্ট এভারেস্টের কাছের একটি হেলিপোর্টে অবতরণের সময় দুটি হেলিকপ্টারের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে একজন বিদেশি নাগরিক নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও একজন। মঙ্গলবার দেশটির পুলিশ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে এ তথ্য জানিয়েছে।
রাজধানী কাঠমান্ডু থেকে প্রায় ২৫০ কিলোমিটার দূরে সোলুখুম্বু জেলার একটি হেলিপোর্টে এ দুর্ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ঘটনাটি ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তবে ভিডিওটির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি।
ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, অবতরণের ঠিক আগে দুটি হেলিকপ্টারের রোটর ব্লেড পরস্পরের সঙ্গে ধাক্কা খায়। এতে হেলিকপ্টার দুটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বরফে ঢাকা মাটিতে আছড়ে পড়ে।
সোলুখুম্বু জেলা পুলিশের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নবীন রাজা বুধাথোকি বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেন, দুর্ঘটনাস্থলেই একজন বিদেশি নাগরিক নিহত হয়েছেন। আহত আরেকজনকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।
পর্যটক ও পর্বতারোহীদের পরিবহন, পণ্য সরবরাহ এবং জরুরি উদ্ধারকাজে নেপালে ব্যাপকভাবে হেলিকপ্টার ব্যবহার করা হয়। তবে দেশটির দুর্গম পাহাড়ি ভূখণ্ড এবং দ্রুত পরিবর্তনশীল আবহাওয়ার কারণে সেখানে বিমান চলাচল বেশ ঝুঁকিপূর্ণ।
বিশ্বের ১৪টি সর্বোচ্চ পর্বতের মধ্যে আটটিই নেপালে অবস্থিত। এ কারণে প্রতিবছর হাজার হাজার বিদেশি পর্বতারোহী ও পর্যটক দেশটিতে ভিড় করেন। তাঁদের অনেকের যাতায়াত ও জরুরি প্রয়োজনে হেলিকপ্টারের ওপর নির্ভর করতে হয়।
উচ্চ পার্বত্য এলাকায় বাতাসের ঘনত্ব কম থাকায় হেলিকপ্টার পরিচালনা করা আরও কঠিন হয়ে পড়ে। বাতাস পাতলা হলে রোটরের ব্লেড তুলনামূলক কম বাতাসের ওপর চাপ প্রয়োগ করতে পারে। ফলে হেলিকপ্টার ওপরে ওঠার জন্য প্রয়োজনীয় লিফট বা উত্তোলন শক্তি কমে যায়। একই সঙ্গে অক্সিজেনের ঘনত্ব কম থাকায় ইঞ্জিনের কার্যক্ষমতাও হ্রাস পেতে পারে।
নেপালের পাশাপাশি প্রতিবেশী ভারতের পার্বত্য এলাকাগুলোতেও একই ধরনের চ্যালেঞ্জ রয়েছে। কয়েক দিন আগেই ভারতের উত্তরাখণ্ডে আরেকটি হেলিকপ্টার দুর্ঘটনা ঘটে। বদ্রীনাথ থেকে উড্ডয়নের পরপরই হেলিকপ্টারটি বিধ্বস্ত হলে পাইলটসহ ছয়জন নিহত হন। নিহতদের মধ্যে ছিলেন পাঁচ যাত্রী।
নবচেতনা/এআর
