নবীনগরে জাতীয় শিশু কন্যা দিবস–২০২৬ পালিত

হেলাল উদ্দিন (ব্রাহ্মণবাড়িয়া)জেলা প্রতিনিধি:

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে যথাযোগ্য মর্যাদা ও উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে জাতীয় শিশু কন্যা দিবস–২০২৬ পালিত হয়েছে। এ উপলক্ষে উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার কার্যালয়ের উদ্যোগে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন নবীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জনাব রাকিবুল ইসলাম। এতে বক্তব্য দেন উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা, উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা, নবীনগর ঐতিহ্যবাহী প্রেসক্লাবের সভাপতি, সুশীল সমাজের প্রতিনিধিসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

বক্তারা বলেন, কন্যাশিশু একটি পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ। তাদের যথাযথ শিক্ষা, নিরাপত্তা, পুষ্টি ও অধিকার নিশ্চিত করা গেলে তারা ভবিষ্যতে দেশ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবে। কন্যাশিশুরা আগামী দিনের মা, শিক্ষক, চিকিৎসক, বিজ্ঞানী, উদ্যোক্তা ও নেতৃত্বদাতা হিসেবে সমাজকে এগিয়ে নেওয়ার অপার সম্ভাবনা ধারণ করে। তারা আরও বলেন, বর্তমান সময়েও সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে কন্যাশিশুরা বৈষম্য, অবহেলা, বাল্যবিবাহ ও নানা প্রতিবন্ধকতার শিকার হচ্ছে। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন। প্রতিটি কন্যাশিশুর জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করার পাশাপাশি শিক্ষার সমান সুযোগ সৃষ্টি এবং তাদের মতামত ও স্বপ্নের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করতে হবে।

বক্তারা কন্যাশিশুর প্রতি প্রচলিত নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তনের ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, কন্যাশিশুকে বোঝা নয়, বরং সম্ভাবনা ও আশীর্বাদ হিসেবে দেখতে হবে। তাদের প্রতিভা বিকাশে সহযোগিতা করতে হবে এবং বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে সবাইকে সচেতন ভূমিকা পালন করতে হবে।

তারা আরও উল্লেখ করেন, একটি কন্যাশিশুকে শিক্ষিত, আত্মনির্ভরশীল ও আত্মমর্যাদাশীল হিসেবে গড়ে তোলা মানে একটি পরিবারকে আলোকিত করা, সমাজকে এগিয়ে নেওয়া এবং দেশের ভবিষ্যৎকে শক্তিশালী করা।

অনুষ্ঠানে কন্যাশিশুর অধিকার প্রতিষ্ঠা, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ, নারী-পুরুষের সমতা নিশ্চিতকরণ এবং প্রতিটি শিশুর জন্য বৈষম্যহীন ও নিরাপদ পরিবেশ গড়ে তোলার অঙ্গীকার ব্যক্ত করা হয়।

বক্তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন, সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে এমন একটি সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব, যেখানে কোনো কন্যাশিশুর স্বপ্ন দারিদ্র্য, বৈষম্য কিংবা বাল্যবিবাহের কারণে থেমে যাবে না। প্রতিটি কন্যাশিশু তার মেধা, যোগ্যতা ও আত্মবিশ্বাসের মাধ্যমে নিজের ভবিষ্যৎ গড়ার সুযোগ পাবে।

‘কন্যাশিশুর হাসি হোক আগামীর শক্তি, তার স্বপ্নেই গড়ে উঠুক সমৃদ্ধির ভিত্তি’—এই প্রত্যয়কে সামনে রেখে কন্যাশিশুর অধিকার রক্ষা ও তাদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়।