চালের দাম কেজিতে বেড়েছে ২–৩ টাকা, স্বস্তি নেই সবজি-ডিমের বাজারেও

নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীর খুচরা বাজারে গত এক থেকে দেড় সপ্তাহে সরু চালের দাম কেজিতে ২–৩ টাকা বেড়েছে। একই সময়ে মাঝারি মানের চালের দামও কেজিতে ১–৩ টাকা বেড়েছে। ব্যবসায়ীদের দাবি, ধানের দাম বৃদ্ধি, মিলপর্যায়ে চালের মূল্যবৃদ্ধি ও পরিবহন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় খুচরা বাজারে এর প্রভাব পড়েছে। চালের পাশাপাশি সবজি, ডিম ও মাছের বাজারেও স্বস্তি নেই।

শুক্রবার রাজধানীর কারওয়ান বাজার, নিউমার্কেট ও লালবাগের বিভিন্ন বাজারে ক্রেতা-বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এ চিত্র পাওয়া গেছে।

বাজারে ব্র্যান্ডভেদে প্রতি কেজি মিনিকেট চাল বিক্রি হচ্ছে ৬৫ থেকে ৭৬ টাকায়। ডায়মন্ড, মঞ্জুর ও সাগর ব্র্যান্ডের মিনিকেটের দাম কেজিতে ৭৪–৭৫ টাকা, যা এক সপ্তাহ আগে ছিল প্রায় ৭২ টাকা। রশিদ ব্র্যান্ডের মিনিকেট বিক্রি হচ্ছে ৬৫ টাকা কেজি দরে, যা এক থেকে দেড় সপ্তাহ আগের তুলনায় ২ টাকা বেশি। তুলনামূলক বেশি দামের মোজাম্মেল ব্র্যান্ডের মিনিকেটের কেজি ৭৬ টাকা, যা গত সপ্তাহের তুলনায় ১ টাকা বেশি।

সরু চালের আরেক ধরন নাজিরশাইলের দামও বেড়েছে। মানভেদে প্রতি কেজি নাজিরশাইল বিক্রি হচ্ছে ৭০ থেকে ৯৫ টাকায়। বিক্রেতাদের ভাষ্য, গত এক থেকে দেড় সপ্তাহে এ চালের দাম কেজিতে ২–৩ টাকা বেড়েছে।

মাঝারি মানের পাইজাম, ব্রি-২৮ ও ব্রি-২৯ চালের দামও ঊর্ধ্বমুখী। ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) তথ্য অনুযায়ী, এসব চালের দাম কেজিতে ৫৮ থেকে ৬৫ টাকা। এক সপ্তাহের ব্যবধানে দাম বেড়েছে প্রায় ৩ টাকা।

কারওয়ান বাজারের একটি পাইকারি দোকানের ব্যবস্থাপক শফিকুল ইসলাম বলেন, কুষ্টিয়াসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে মিলপর্যায়ে চালের দাম কিছুটা বেড়েছে। কোথাও কোথাও প্রতি বস্তায় দাম বেড়েছে ৫০ টাকা পর্যন্ত। পাশাপাশি ট্রাকভাড়াও বেড়েছে। এসব কারণে ঢাকার বাজারে চালের দাম বাড়ছে।

পাইকারি বিক্রেতাদের তথ্য অনুযায়ী, ডিজেলের দাম বাড়ার পর দিনাজপুর থেকে চাল পরিবহনে প্রতি ট্রাকে প্রায় ৩ হাজার টাকা এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে আনতে ২ হাজার টাকা পর্যন্ত ভাড়া বেড়েছে। অন্যান্য খরচও বেড়েছে। ফলে প্রতি কেজি চালের দাম ৫০ পয়সা থেকে ১ টাকা পর্যন্ত বাড়াতে হচ্ছে বলে তাঁদের দাবি।

কারওয়ান বাজারে বাজার করতে আসা বেসরকারি চাকরিজীবী হাসিবুল হাসান বলেন, সেপ্টেম্বরের শুরুতে তিনি আটাশ চাল ৬০ টাকা কেজি দরে কিনেছিলেন। মাসের শেষ দিকে দাম বেড়ে ৬২ টাকা হয়। শুক্রবার একই চাল কিনেছেন ৬৪ টাকায়। দোকানিরা পরিবহন ব্যয়, ধানের দাম ও মোকামে চালের মূল্যবৃদ্ধিকে দাম বাড়ার কারণ হিসেবে উল্লেখ করছেন বলে জানান তিনি।

তবে মোটা চালের দামে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন নেই। বর্তমানে প্রতি কেজি মোটা চাল ৫০–৫৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

চড়া সবজির বাজার

রাজধানীর বাজারে অধিকাংশ সবজি বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ৭০–১২০ টাকায়। আগাম শীতকালীন সবজি শিমের দাম কেজিতে ১৫০ টাকা। ফুলকপি প্রতি পিস ৭০ টাকা এবং মূলা বিক্রি হচ্ছে কেজি ৭০ টাকায়। তুলনামূলক কম দামে পাওয়া যাচ্ছে পেঁপে, যার কেজি ৩০ টাকা।

বাজারে লম্বা বেগুন ১০০ টাকা, গোল বেগুন ১২০ টাকা এবং টমেটো ১২০–১৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। বরবটি, ঝিঙা ও করলার কেজি ৮০ টাকা। লাউ প্রতি পিস ৪০–৬০ টাকা এবং কচুরমুখি ৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। সাধারণ শসার দাম কেজিতে ৫০–৬০ টাকা। দেশি শসা বিক্রি হচ্ছে ৮০–১০০ টাকায়।

তবে কয়েক সপ্তাহ আগে কেজিপ্রতি ২০০ টাকায় বিক্রি হওয়া কাঁচা মরিচের দাম কিছুটা কমেছে। বর্তমানে মানভেদে কাঁচা মরিচ ১২০–১৪০ টাকা কেজি দরে পাওয়া যাচ্ছে। সরবরাহ বাড়ায় দাম কমেছে বলে জানিয়েছেন বিক্রেতারা।

কারওয়ান বাজারে সবজি কিনতে আসা আবু দাউদ বলেন, ফুলকপি, লাউ ও কাঁচা মরিচ কিনতেই তাঁর বেশ কিছু টাকা খরচ হয়েছে। তাঁর ভাষ্য, বাজারে এসে কোন পণ্য কিনবেন আর কোনটি বাদ দেবেন, তা হিসাব করে চলতে হচ্ছে।

মুরগির দাম স্থিতিশীল, ডিমে বাড়তি খরচ

মুরগির বাজারে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন নেই। রাজধানীর খুচরা বাজারে ব্রয়লার মুরগি কেজি ১৮০ টাকা এবং সোনালি মুরগি ৩১০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

তবে ফার্মের ডিমের দাম তুলনামূলক বেশি। বিভিন্ন বাজারে প্রতি ডজন ডিম বিক্রি হচ্ছে ১৫৫–১৬০ টাকায়। পাড়া-মহল্লার দোকানে চারটি ডিম কিনতে খরচ হচ্ছে প্রায় ৫৫ টাকা। সে হিসাবে এক ডজনের দাম দাঁড়ায় ১৬৫ টাকা।

ব্রয়লার মুরগির বিক্রেতা তারেক হোসেন বলেন, কয়েক সপ্তাহ ধরে ব্রয়লার মুরগির দাম কেজিতে ১৮০–২০০ টাকার মধ্যে ওঠানামা করছে। এক সপ্তাহে ১০ টাকা কমলে পরের সপ্তাহে আবার ১০ টাকা বেড়ে যায়। সোনালি মুরগির দাম সাধারণত ৩১০–৩২০ টাকার মধ্যে থাকে।

এদিকে গরুর মাংসের দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। বাজারে প্রতি কেজি গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে ৮০০ টাকায়।

মাছের বাজারেও বাড়তি দাম

মাছের বাজারেও ক্রেতাদের বেশি দাম দিতে হচ্ছে। প্রতি কেজি তেলাপিয়া ২৫০–২৬০ টাকা, পাঙাশ ২২০–২৩๐ টাকা এবং রুই-কাতলা ৩৮০–৪২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আকার ও মানভেদে চিংড়ির দাম কেজিতে ১ হাজার থেকে ১ হাজার ৩০০ টাকা।

এ ছাড়া পাবদা ৩৫০–৪০০ টাকা, বড় রুই ৪৫০–৫০০ টাকা, চাষের কই ৩০০ টাকা এবং পোয়া ২৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। চাষের শিং মাছের দাম আকারভেদে ৩০০–৪৫০ টাকা। মাঝারি আকারের রুই পাওয়া যাচ্ছে ৩০০–৩৫০ টাকা কেজি দরে।

কারওয়ান বাজারের মাছ বিক্রেতা রমিজ উদ্দিন বলেন, সপ্তাহের অন্য দিনের তুলনায় শুক্রবার মাছের চাহিদা বেশি থাকে। এতে কিছু মাছের দামও বাড়ে। তাঁর মতে, বর্তমানে ২০০ টাকার নিচে খুব কম মাছ পাওয়া যায়। আগে পাঙাশের দাম তুলনামূলক কম থাকলেও এখন সেটিও কেজিতে ২০০ টাকার বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। সরবরাহের ওপর নির্ভর করে একই দিনেও মাছের দাম পরিবর্তিত হতে পারে।