লাউ চাষে আশার আলো দেখছেন কুষ্টিয়ার তরুণ কৃষক কামিরুল

আল আমিন কুষ্টিয়া

কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার তালবাড়ীয়া ইউনিয়নের গোবিন্দপুর গ্রামে লাউ চাষ করে সফলতার মুখ দেখছেন তরুণ উদ্যোক্তা ও কৃষক কামিরুল ইসলাম। তাঁর এই অভাবনীয় সাফল্যে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে এবং অন্য যুবকদের মাঝেও সবজি চাষে আগ্রহ বাড়ছে। কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, তরুণ কৃষক কামিরুল ইসলাম স্থানীয় কৃষি অফিসের পরামর্শে তাঁর জমিতে উন্নত জাতের লাউ চাষ শুরু করেন। সঠিক পরিচর্যা ও আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে তাঁর খেতের লাউ গাছগুলো এখন মাচা ছাড়িয়ে সবুজে ছেয়ে গেছে। ইতিমধ্যেই গাছগুলোতে প্রচুর পরিমাণে লাউ ধরতে শুরু করেছে, যা বাজারে বিক্রি করে তিনি ভালো মুনাফা অর্জনের আশা করছেন। “শুরুর দিকে কিছুটা দ্বিধাদ্বন্দ্ব থাকলেও কৃষি বিভাগের নিয়মিত উৎসাহে আমি লাউ চাষ শুরু করি। এখন খেতের অবস্থা মাশাআল্লাহ খুবই ভালো। ফলন দেখে আমি অত্যন্ত আনন্দিত এবং আশা করছি এবার বেশ ভালো লাভ করতে পারব।” কামিরুলের এই সফলতার পেছনে মাঠ পর্যায়ে নিয়মিত কাজ করে যাচ্ছেন তালবাড়ীয়া ইউনিয়নের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মোঃ আসাদুজ্জামান। তিনি নিয়মিত কামিরুলের লাউ খেত পরিদর্শন করছেন, মাটির গুণাগুণ পরীক্ষা করছেন এবং রোগবালাই দমনে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা ও পরামর্শ দিচ্ছেন।উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মোঃ আসাদুজ্জামান বলেন, “কামিরুল একজন অত্যন্ত পরিশ্রমী ও উদ্যমী তরুণ। আমরা মাঠ পর্যায় থেকে তাঁকে সর্বোচ্চ কারিগরি সহযোগিতা দিয়ে আসছি। লাউ গাছের মাটির স্বাস্থ্য কেমন আছে, কোনো পোকার আক্রমণ হচ্ছে কি না—সেসব বিষয়ে আমরা নিয়মিত তদারকি করছি। তাঁর এই ফলন দেখে আশেপাশের অন্য কৃষকেরাও এখন লাউ চাষে উদ্বুদ্ধ হচ্ছেন।” স্থানীয় কৃষি বিভাগ মনে করছে, কামিরুলের মতো যুবকেরা এভাবে আধুনিক ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে সবজি চাষে এগিয়ে এলে গ্রামীণ অর্থনীতির চিত্র বদলে যাবে এবং বেকারত্ব দূরীকরণে তা অনন্য ভূমিকা রাখবে।

মন্তব্য করুন