ePaper

“সুস্থ সংস্কৃতির বিকাশে, দেশীয় সংস্কৃতি চর্চা অপরিহার্য

এই শ্লোগান কে সামনে রেখে ৩ অক্টোবর ২০২৬, বেণুকা ললিতকলা কেন্দ্রর ৪৬তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী ও নজরুলবর্ষ ২০২৬ উদযাপিত হলো। বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমীর, জাতীয় নাট্যশালায় পূর্ব নির্ধারিত সময় অনুযায়ী ঠিক সন্ধ্যা ৬:২০ মিনিটে বেণুকার প্রতিষ্ঠাতা একুশেপদক ও শিল্পকলা পদক প্রাপ্ত সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব প্রয়াত মোঃ গোলাম মোস্তফা খানের পরিকল্পিত জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম এর কবিতা ও গান নিয়ে উদ্বোধনী নাচ “জাগরন” পরিবেশন করেন একঝাক শিল্পী। “ঐতিহ্যের আলোয় বেণুকার সুর শিরোনামে আয়োজিত অনুষ্ঠানটিতে বেণুকার অধ্যক্ষ ও সাধারণ সম্পাদক আমাদের কথা পড়ে শোনান। দীর্ঘ ৪৬ বছরের পথচলায় বেণুকার অর্জন, অপূর্ণতা, বর্তমান অবস্থা, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরেন তিনি।

দেশীয় সংস্কৃতি নিয়ে কাজ করা মূল ধারার যে সংগঠনগুলো আছে, তাদের প্রতি বর্তমান সরকার, সংস্কৃতি মন্ত্রনালয়, বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমী সহ সকলের সুদৃষ্টির আহবান জানান। এরপর বিশিষ্ট নজরুল সঙ্গীত শিল্পী জনাব সালাউদ্দিন আহমেদ-কে বেণুকার সম্মাননা ২০২৬ প্রদান করা হয়। অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন বেণুকার উপদেষ্টা পরিষদের সভাপতি মেঃ জেঃ (অবঃ) সাদিক হাসান রুমি।এরপর বেণুকার খুদে শিক্ষার্থী, শিল্পী ও প্রশিক্ষকদের পরিবেশনায় মন্ত্রমুগ্ধ ছিলেন দর্শকরা। কাজী নজরুল ইসলামের ‘কান্ডারি হুশিয়ার’ সৃষ্টির শতবর্ষকে উৎসর্গ করে গান ও সঙ্গে বলিষ্ঠ নৃত্য সকলের হৃদয় ছুয়ে যায়। একে একে কাজী নজুলের বিভিন্ন পর্যায়ের সৃষ্টি গান, নৃত্য, কবিতার মাধ্যমে পরিবেশন করা হয়। শিশুদের পরিবেশনায় লিচু চোর কবিতা, আর রবীন্দ্র নাথের ‘ও জোনাকি কি সুখে ঐ ডানা দুটি মেলেছ’ খুদে ছাত্র ছাত্রীদের গানের পরিবেশনা ও নাচ ছিল খুবই মনমুগ্ধকর।

গিটার বিভাগের ছাত্র ছাত্রীদের পরিবেশনা অনুষ্ঠানে ভিন্ন মাত্রা যুক্ত করে। সবশেষে পরিবেশিত হয় ১৯৮৩ সালের সঙ্গীত আয়োজনে, কাজী নজরুল ইসলামের প্রেম পর্যায়ের গান ও কবিতা নিয়ে মোঃ গোলাম মোস্তফা খানের পরিকল্পিত ও পরিচালিত গীতিনৃত্যনাট্য ‘বেণুকার সুর’ এর অংশ বিশেষ। ৪৩ বছর পুরানো একটি সৃষ্টিশীল নৃত্যনাট্য সেই সুর সংযোগেই আবারও নতুন করে পরিবেশন করাতে সংশ্লিষ্ট সকলেই সাধুবাদ জানাতে হয়।চমৎকার মঞ্চ ব্যবস্থাপনায় প্রত্যেকটি পরিবেশনায় ছিল সুশৃঙ্খল, যত্ন এবং সুপরিকল্পনার স্পষ্ট প্রমান। খুব সাধারণভাবেই যে আমাদের দেশীয় সংস্কৃতিকে অসাধারণ রূপে সকলের সামনে তুলে ধরা যায় সেটা বেণুকার মত ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠানের দ্বারাই যে সম্ভব সেটা তারা সম্পূর্ণভাবেই প্রমান করেছে।