রফিকুল ইসলাম,সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি
সিরাজগঞ্জ পৌরসভায় প্রায় সাড়ে ১২ কোটি টাকা ব্যয়ে নাসিম পৌর কাঁচাবাজার’এর নির্মাণ কাজ প্রায় দুই বছর আগে শেষ হয়েছে। দোকান বরাদ্দর জন্য আবেদনকারীরা জামানত জমা দিয়েছে। দোকান বুঝে না নেয়ায় তা চালু হচ্ছে না। দ্বিতল অত্যাধুনিক কাচাবাজার থেকে পৌরবাসী এখনও সুফল পাচ্ছে না। শহরের শের-এ-বাংলা ফজলুল হক সড়কে নাসিম পৌর কাঁচাবাজারের অবস্থান। পৌরবাসীর ক্রয় সুবিধা বৃদ্ধির জন্য পৌরসভা ভবনটি নির্মান করে। এর পাশেই কাচাঁ সবজি, মাছ, মাংসের দোকানসহ বড় বড় মুদি দোকান রয়েছে, যা বড় বাজার নামে পরিচিত। বড় বাজারের ব্যবসায়ীরা পৌর কাঁচাবাজারে দোকান বরাদ্দ নিয়েছেন। বাজারের কয়েকজন ব্যবসায়ী বলেন, পৌর কাঁচাবাজারের নিচতলায় মাছ, মাংস, মুরগি, কাঁচা তরকারী ও ফলমূলের দোকান। আর দোতলায় রয়েছে ৭৮টি দোকান। ক্রেতার সংকট ও লোকসানের আশঙ্কায় সেখানে তাঁরা যাচ্ছেন না।
সিরাজগঞ্জ পৌরসভা সূত্রে জানা যায়, বিশ্বব্যাংকের আর্থিক সহায়তায় ১২ কোটি ৪৪ লাখ ব্যয়ে ২০১৯ সালের ২১ মে নাসিম পৌর কাঁচাবাজারের নির্মাণ কাজ শুরু হয়। চারতলা ভিতের ওপর দুই তলার কাজ শেষ হয় ২০২১ সালের ৩০ জুন। বাজারের নিচতলায় ১১৬টি ভিটা (মাছ, মাংস, মুরগি, কাঁচা তরকারী ও ফলমূলের দোকান) ও দোতলায় রয়েছে ৭৮টি দোকান। এখানে একটি বৈদ্যুতিক সাবস্টেশন ও অগ্নি নির্বাপণের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা রয়েছে। এছাড়া বাজার ব্যাবস্থাপনার জন্য কার্যালয়, গাড়ি পার্কিং এলাকাসহ বাজারটির মাঝ ভাগে মোহাম্মদ নাসিমের ম্যুরালসহ চত্বর রয়েছে। প্রতিটি দোকানের সামনে প্রশস্ত চলাচলের রাস্তা রয়েছে। নিচতলায় একটি আধুনিক পশু জবাইখানা, মাংস প্রক্রিয়াকরণের প্রশস্ত জায়গা, মাংস ধোয়ার জায়গাসহ পৃথক শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত মাংস বিক্রির দোকানের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
এ ছাড়া প্রতিটি তলায় রয়েছে একাধিক শৌচাগার। ভিটাগুলো ২০ হাজার থেকে ৫০ হাজার ও দোকানগুলো ৮০ হাজার থেকে ২ লাখ টাকা পর্যন্ত জামানত জমা নিয়ে ব্যবসায়ীরা বরাদ্দ নিয়েছেন। ভাড়া ধরা হয়েছে প্রতি দোকান মাসে ৫০০-৮০০ টাকা ও দোতালার প্রতিটি দোকানের ভাড়া ৮০০-১৫০০ টাকা। ২০২২ সালের ২১ মার্চ নাসিম পৌর কাঁচা বাজার উদ্বোধন করা হয়। তবে সেখানে ব্যবসায়ীরা কেউ আসেননি। এরপর ওই বছরের ১ আগস্ট এবং চলতি বছরের ১ জানুয়ারি আবারও বাজারের উদ্বোধন করা হয়। তবে বাজারটি সচল করা সম্ভব হয়নি।
এ সম্পর্কে নাসিম পৌর কাঁচাবাজার বণিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক লিখন সরকার বলেন, পৌর কর্তৃপক্ষ জোরালো উদ্যোগ নিলে বাজারটি সচল করা সম্ভব। যেভাবে নামেমাত্র উদ্বোধন করা হচ্ছে, তাতে এই বাজার কখনো সচল হবে না। সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, নাসিম পৌর কাঁচাবাজার ভবনের চত্বর অপরিচ্ছন্ন। নিচতলার দোকান ও শৌচাগারগুলো আবর্জনায় ভরে আছে। ভবনের দ্বিতীয় তলায় একটিমাত্র দোকান খোলা। সেখানে অল্প কিছু বেকারি পণ্য। দোকানের মালিক বিশাল রায় বলেন, ‘অন্য কোনো কাজ নেই। তাই আশা নিয়ে দোকান খুলে বসে থাকি। বাজার সচল না হওয়ায় কোনো দোকানি মালামাল ওঠাচ্ছেন না। ে
