ePaper

শেরে বাংলা ছিল বাঙালিদের জাগরণ এবং শিক্ষার দূত

আশরাফ আলী হাওলাদার

মহান নেতা শেরে বাংলা  আবুল কাশেম ফজলুল হকের ৬৪তম মৃত্যুবার্ষিকী পালন উপলক্ষে বরিশাল বিভাগ সমিতির জাসদ-শাজাহান সিরাজ ও বাংলাদেশ জাতীয় গণতান্ত্রিক লীগ যৌথভাবে এক আলোচনা সভার আয়োজন করেছে আজ ২৭ এপ্রিল সকাল ১০ ঘটিকার সময় মহান নেতার মাজার প্রাঙ্গণে এবং আলোচনা শেষে মহান নেতার মাজারে পুস্পস্তবক অর্পণ করে ৩টি সংগঠনের পক্ষ থেকে।

আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন ৬৯’র গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম সংগঠক জাসদ শাজাহান সিরাজ এর সভাপতি মোয়াজ্জেম হেসেন খান মজলিশ।

প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন শেরে বাংলা আবুল কাশেম ফজলুল হকের জীবনী লেখক বরিশাল বিভাগ সমিতির সভাপতি সাবেক সচিব ইতিহাসবিদ সিরাজ উদ্দীন আহমেদ।

বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ জাতীয় গণতান্ত্রিক লীগের সভাপতি এম.এ জলিল, ন্যাপ ভাসানীর চেয়ারম্যান এম.এ ভাসানী, বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক মুক্তি আন্দোলনের সভাপতি আশরাফ আলী হাওলাদার, শিক্ষা পর্যবেক্ষণ কমিটির সভাপতি শরীফুল ইসলাম, সুপ্রীম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী আবদুল হক চাষী, বরিশাল বিভাগ সমিতির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ.স.ম মোস্তফা কামাল, সমিতির সদস্য মুকিম হক, গণতান্ত্রিক ঐক্য’র সভাপতি রফিকুল ইসলাম আসাদ, নারী নেত্রী এলিজা রহমান প্রমুখ।

সিরাজ উদ্দীন আহমেদ বলেন, শেরে বাংলা এমন একজন মহান নেতা ছিলেন যার কীর্তি বাংলাদেশের প্রতিটি স্থানেই জড়িত আছে। শেরে বাংলা একই সঙ্গে ৩২ হাজার প্রাইমারী স্কুল প্রতিষ্ঠা করেছেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেছেন, ঋণ সালিশী বোর্ড গঠন করেছিলেন, প্রজাসত্ব আইন করেছেন। এইসব ধারণ করেনই বাঙালিরা জেগেছে এবং ঐক্যবদ্ধ হয়েছে। এই ঐক্যবন্ধের কারণেই ১৯৫২ সনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের নেতৃত্বে ভাষা আন্দোলণ হয়েছে, ৬৯’র গণআন্দোলণ হয়েছে, ৭০’র জাতীয় পরিষদের নির্বাচন হয়েছে, এই ছাত্রদের নেতৃত্বে পরবর্তীতে ১৯৭১ সনে মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা হয়েছে। স্বাধীন বাংলাদেশের যে লক্ষ্য ছিল মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা করা, বাংলাদেশের প্রতিটি মানুষের বৈষম্য থেকে মুক্ত করা। কিন্তু সেই কাজটি আজ পর্যন্ত হয়নি। আমরা স্বাধীনতার আদর্শ বাস্তবায়ন চাই ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করতে চাই। তবেই শেরে বাংলার আদর্শের প্রতি সম্মান দেখানো হবে।

সভাপতির ভাষণে মোয়াজ্জেম হোসেন খান মজলিশ বলেন, শেরে বাংলা ছিল বাঙালিদের একমাত্র নেতা। যিনি ছিলেন বাঙালিদের অবিভক্ত বাংলা আসাম, বিহার নিয়ে একটি স্বাধীন বাংলাদেশ। কিন্তু জিন্নাহ’র কারণে সেই স্বাধীন বাংলা গড়তে পারেনি। সেই কারণেই আজকে উপমহাদেশে মানুষের ভেতরে বৈষম্য আছে, রাহাজানি আছে, আসুন আমরা সবাই মিলে ঐক্যবদ্ধ হয়ে শেরে বাংলার আদর্শ ধারণ করি এবং বাংলাদেশকে স্বাধীনতার আদর্শ, বৈষম্যমুক্ত সম্প্রীতি, গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ি।

এম.এ জলিল বলেন, শেরে বাংলা, সোহরাওয়ার্দী, ভাসানী, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও লে. কমান্ডার মোয়াজ্জেম হোসেনের আন্দোলন সংগ্রাম বাঙালি জাতির কাছে তুলে দেয়ার জন্য শেরে বাংলার মাজার প্রাঙ্গণে একটি গবেষণা কেন্দ্র করতে হবে। যার মাধ্যমে বাংলাদেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য, কৃষ্টি তুলে ধরা যায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *