ePaper

সিরাজগঞ্জে জমে উঠেছে তাঁত কাপড়ের হাট

রফিকুল ইসলাম,সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি

ঈদকে সামনে রেখে জমে উঠেছে সিরাজগঞ্জের তাঁতে তৈরি কাপড়ের হাটগুলো। তাতেঁর বাজারে বেড়ে গেছে দেশের পাইকারদের আনা-গোনা। আগে দেশের পাইকারদের পাশাপাশি বিদেশি পাইকারদের আসতো এসব বাজারে। কিন্ত চলতি বছরে সিরাজগঞ্জের কাপড়ের হাটে দেখা নেই বিদেশিদের। তাঁতিরা বলছেন দেশে ট্রানজিট সুবিধা না থাকায় বিদেশিরা আসতে পারছেনা। তাই দেশের তৈরি তাঁতের কাপড় বিদেশে রপ্তানি করতে পারছেন না তারা। ফলে এবারের ঈদে তাঁতের বাজারে বড় ধরণের লোকসান আসতে পারে বলে দাবি তাঁত মালিকদের।

বেলকুচি তামাই গ্রামের তাঁত মালিক মোহাম্মাদ আলী বলেন, ঈদকে সামনে রেখে প্রচুর পরিমাণ শাড়ি ও লুঙ্গি তৈরি করেছি। বিভিন্ন হাটে সেগুলো বিক্রির জন্য নিয়ে যাচ্ছি। ক্রেতা ও পাইকারদের আনোগোনা খুবই কম দেখতে পাচ্ছি। আগে দেশের বাইরে থেকে ব্যবসায়ীরা এসে পাইকারিভাবে শাড়ি-লুঙ্গী কিনে নিয়ে যেত এ বছর তেমন সাড়া পাচ্ছি না।

বেলকুচি সোহাগপুর হাটের পুরোনো কাপড় ব্যবসায়ী আলী আকবার বলেন, প্রতিবছর রোজার এক সপ্তাহের মধ্যেই তাঁতের সকল কাপড় বিক্রি হয়ে যায়। কিন্তু এ বছর ব্যবসা ভালো যাচ্ছে না। ট্রানজিট সুবিধা না থাকায় এবার বাইরের পাইকাররা আসতে পারছে না। কাপড় কিনতে আসা পাইকার ব্যবসায়ী আতাউর রহমান বলেন, কোন ঝামেলা ছাড়াই চাহিদা মতো কাপড় কিনেছি। এর আগে হাটে দেশি বিদেশি পাইকারদের ব্যাপক আনাগোনা ছিল কিন্তু এ বছর তেমন একটা দেখা যাচ্ছে না।

বেলকুচি উপজেলার সোহাগপুর হাটের ইজারাদার হেলাল উদ্দিন বলেন, ইতোমধ্যে দেশের দূর-দূরান্ত থেকে পাইকাররা আসতে শুরু করেছে হাটে। ক্রেতাদের চাহিদা পূরণে তাঁতের তৈরি শাড়ি, লুঙ্গী ও থ্রি-পিসে আনা হয়েছে নতুনত্য ডিজাইন। তবে বর্তমানে ট্রানজিট সুবিধা না থাকায় দেশের পাইকারা আসলেও বিদেশি পাইকার নেই। এ ব্যপারে সরকারের সুদৃষ্টি কামনা করেন সংশ্লিষ্টরা।

সিরাজগঞ্জ চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি সাইদুর রহমান বাচ্চু বলেন, তাঁত কাপড়ের হাটে যেন কেউ হয়রানীর শিকার না হয় এজন্য নজরদারি থাকবে। এছাড়াও ঐতিহ্যবাহী এই শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে, সেই সাথে গ্রামীন অর্থনীতিকে আরও বেগবান ও সচল রাখতে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। ট্রানজিটের বিষয়ে নতুন সরকারের কাছে সুপারিশ করা হবে।

বেলকুচি উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও পৌর প্রশাসক আফরিন জাহান বলেন, হাটে কিছু অব্যবস্থাপনা আছে এটা অনেক আগে থেকে চলে আসছে। চেষ্টা করছি সকল অব্যবস্থাপনা কাটিয়ে উঠে ব্যবসায়ীদের জন্য সুন্দর একটা পরিবেশ তৈরি করতে পারবো। ট্রানজিটের বিষয়ে উদ্ধতন কর্মকর্তাদের কাছে সুপারিশ করা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *